চীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং মঙ্গলবার বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি বার্তা প্রেরণ করেন। নতুন সরকার গঠনের পরপরই এই শুভেচ্ছা দুই দেশের শীর্ষ নেতার মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে। বার্তাটি লি কিয়াং সরাসরি চীন সরকারের মাধ্যমে পাঠিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে।
লি কিয়াং বার্তায় উল্লেখ করেন যে চীন ও বাংলাদেশ দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ ও ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদার প্রতিবেশী হিসেবে পরিচিত। কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনা থেকে আজ পর্যন্ত ৫১ বছর পার হওয়ায় উভয় দেশই একে অপরকে সমানভাবে সম্মান করেছে। এই সময়ে পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতার মাধ্যমে উভয় দেশের আদান-প্রদান একটি মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
বার্তায় চীন সরকার বাংলাদেশের নতুন সরকারকে মসৃণ শাসনব্যবস্থা প্রয়োগে সমর্থন করার ইচ্ছা প্রকাশ করে। সরকারী কাঠামোকে শক্তিশালী করে উন্নয়নমূলক নীতি বাস্তবায়নে চীন সরকারের সহায়তা ও প্রযুক্তিগত পরামর্শ প্রদান করা হবে বলে লি কিয়াং জানান। এ ধরনের সমর্থন উভয় দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
লি কিয়াং উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড (বিআরআই) সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। বিদ্যমান অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর গুণগত মান উন্নত করে নতুন উদ্যোগে বিনিয়োগ বাড়াতে উভয় দেশের ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে। বাণিজ্য, শক্তি, পরিবহন ও ডিজিটাল সেবার ক্ষেত্রে বিনিময় বৃদ্ধি করে দু’দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করার লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে।
দুটি দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বকে আরও এগিয়ে নিতে সব ক্ষেত্রেই বিনিময় বাড়িয়ে চীন-বাংলাদেশ ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বকে নতুন স্তরে নিয়ে যাওয়া হবে বলে লি কিয়াং জোর দেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের জন্য সরাসরি সুবিধা ও উন্নয়নমূলক ফলাফল নিশ্চিত করা হবে। উভয় পক্ষই এই সহযোগিতা অঞ্চলীয় স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধিতে অবদান রাখবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছে।
লিখিত বার্তায় লি কিয়াং স্পষ্টভাবে জানান যে তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। নতুন সরকারের নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি সমর্থন করে চীন সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই প্রস্তুতি দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের সংলাপকে আরও ঘনিষ্ঠ করে তুলবে।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই শুভেচ্ছা গ্রহণের পর ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। সরকারী সূত্রে বলা হয়েছে যে চীন সরকারের এই সমর্থন নতুন সরকারের কার্যক্রমে আত্মবিশ্বাস যোগাবে। উভয় দেশের কূটনৈতিক মঞ্চে এই ধরনের বার্তা পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তি শক্তিশালী করে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে এই শুভেচ্ছা চীন ও বাংলাদেশ মধ্য-দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক জোটকে পুনর্ব্যক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের মাধ্যমে উভয় দেশের বাণিজ্যিক পরিসর বাড়বে এবং আঞ্চলিক সংহতি বৃদ্ধি পাবে। ভবিষ্যতে আরও যৌথ প্রকল্প ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা উন্মুক্ত হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, লি কিয়াংয়ের এই বার্তা চীন সরকারের নতুন বাংলাদেশ সরকারের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করে। দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্ব, কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এই শুভেচ্ছা প্রেরিত হয়েছে। উভয় দেশের নেতৃত্বের এই পারস্পরিক প্রতিশ্রুতি ভবিষ্যতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সমৃদ্ধির ভিত্তি গড়ে তুলবে।



