চীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং আজ তারেক রহমানের নতুন প্রধানমন্ত্রী পদ গ্রহণে শুভেচ্ছা জানিয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার সংকল্প প্রকাশ করেছেন। লি চিয়াং একটি আনুষ্ঠানিক বার্তায় উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ সরকারকে মসৃণ শাসন পরিচালনায় চীন সরকার সমর্থন করবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বিস্তৃত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
বক্তব্যে লি চিয়াং চীন ও বাংলাদেশকে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বে আবদ্ধ ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং উভয় দেশের মধ্যে সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতা অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে দুই দেশ বহু ক্ষেত্রে সমন্বয় সাধন করে চলেছে।
লি চিয়াং উল্লেখ করেন যে, ৫১ বছর আগে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর থেকে দুই দেশের বন্ধুত্ব ধারাবাহিকভাবে গভীরতর হয়েছে। এই সময়ে উভয় পক্ষই পারস্পরিক স্বায়ত্তশাসনকে সম্মান করে এবং পারস্পরিক উপকারে ভিত্তিক সহযোগিতা চালিয়ে এসেছে।
তিনি এই সহযোগিতাকে “দেশগুলোর মধ্যে বিনিময়ের একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ” বলে বর্ণনা করেন এবং জোর দিয়ে বলেন যে, চীন ও বাংলাদেশ উভয়ই একে অপরের সার্বভৌমত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। এ ধরনের পারস্পরিক সম্মান ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত প্রকল্পের ভিত্তি হবে।
চীন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা স্টেট কাউন্সিলের প্রধান হিসেবে লি চিয়াং নতুন বাংলাদেশ সরকারের স্থিতিশীল ও কার্যকর শাসন নিশ্চিত করতে চীন সরকার পূর্ণ সমর্থন দেবে বলে পুনরায় নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এই সমর্থন দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে।
বক্তব্যে লি চিয়াং তারেক রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের অধীনে উচ্চমানের সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা জানিয়ে দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে অবকাঠামো, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
এছাড়া, লি চিয়াং সব ক্ষেত্রেই বিনিময় শক্তিশালী করার এবং সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতা অংশীদারিত্বকে উচ্চতর স্তরে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপগুলো উভয় দেশের জনগণের জন্য বৃহত্তর সুবিধা এনে দেবে।
উল্লেখযোগ্য যে, লি চিয়াংয়ের এই বার্তা দুই দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের ইঙ্গিত বহন করে। বাংলাদেশ সরকার এই সমর্থনকে স্বাগত জানিয়ে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রের উন্নয়নে ত্বরান্বিত করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।
সারসংক্ষেপে, চীন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর এই শুভেচ্ছা এবং সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্বকে নতুন শক্তি প্রদান করবে এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের মাধ্যমে পারস্পরিক উন্নয়নের নতুন অধ্যায় শুরু করবে।



