24 C
Dhaka
Tuesday, February 17, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবিএনপির যুগপৎ সঙ্গীদের নতুন প্রতিমন্ত্রী পদ ও মন্ত্রণালয় দায়িত্ব নির্ধারিত

বিএনপির যুগপৎ সঙ্গীদের নতুন প্রতিমন্ত্রী পদ ও মন্ত্রণালয় দায়িত্ব নির্ধারিত

বিএনপি সরকারের ক্ষমতাসীন মন্ত্রিসভায় ২৪ জন নতুন প্রতিমন্ত্রীর শপথ অনুষ্ঠিত হয়, যার মধ্যে তিনজনের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। শপথ অনুষ্ঠানটি মঙ্গলবার বিকেল চারটার পরে অনুষ্ঠিত হয় এবং নতুন প্রতিমন্ত্রীরা সরকারে তাদের দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি জানিয়ে দেন।

বিএনপির যুগপৎ সঙ্গীদের মধ্যে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি এবং জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ অন্তর্ভুক্ত। এই তিনজনকে সরকারে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ প্রদান করা হয়েছে।

নুরুল হক নুরকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। তিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শ্রমিক অধিকার সুরক্ষা এবং বিদেশে কাজ করা বাংলাদেশি শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকবেন।

মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিকে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার কাজের মধ্যে বাজেট প্রস্তুতি, আর্থিক নীতি নির্ধারণ এবং দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তিনি দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার দায়িত্বে থাকবেন।

ববি হাজ্জাজকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা, মৌলিক সাক্ষরতা এবং গণশিক্ষা প্রকল্পের তত্ত্বাবধান করবেন, যাতে দেশের শিক্ষার গুণগত মান উন্নত হয়।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি যুগপৎ আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীদের সমর্থনে আটটি সংসদীয় আসন ছেড়ে দেয়া ছিল। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পার্টি ঐতিহাসিকভাবে তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক সমন্বয় বাড়াতে চেয়েছিল এবং এখন নতুন প্রতিমন্ত্রীরা সেই সমন্বয়ের ফলস্বরূপ সরকারে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

বিএনপির এই পদক্ষেপের প্রতি বিরোধী দলের কিছু বিশ্লেষক মন্তব্য করেছেন যে, যুগপৎ সঙ্গীদের সরকারে অন্তর্ভুক্তি রাজনৈতিক সমঝোতার নতুন দিক নির্দেশ করে। তারা যুক্তি দেন, এই পদবিন্যাসে সরকারকে বহুমুখী মতামত ও সামাজিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে, যাতে নীতি নির্ধারণে বিস্তৃত দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা সম্ভব হয়।

অন্যদিকে, কিছু সমালোচকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন যে, যুগপৎ আন্দোলনের নেতাদের মন্ত্রণালয় দায়িত্বে নিয়োগ সরকারকে অতিরিক্ত রাজনৈতিক সমঝোতার পথে নিয়ে যেতে পারে, যা নীতি বাস্তবায়নে জটিলতা বাড়াতে পারে। তারা দাবি করেন, প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কাজের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে জনসাধারণের বিশ্বাস বজায় থাকে।

নতুন প্রতিমন্ত্রীরা শপথ গ্রহণের পরপরই তাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রাধিকার নির্ধারণের জন্য পরিকল্পনা প্রস্তুত করার ঘোষণা দিয়েছেন। শ্রম ও কর্মসংস্থান ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মসংস্থান নীতি পুনর্বিবেচনা, আর্থিক ক্ষেত্রে বাজেটের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন তাদের মূল লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই পদবিন্যাসের ফলে বাংলাদেশ সরকারের ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে নতুন দৃষ্টিকোণ যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যুগপৎ আন্দোলনের নেতাদের সরকারে অংশগ্রহণ রাজনৈতিক সমন্বয়কে শক্তিশালী করতে পারে, তবে একই সঙ্গে নীতি বাস্তবায়নে সমন্বয় ও স্বচ্ছতার চাহিদা বাড়বে। সরকার যদি এই দায়িত্বগুলো সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারে, তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব প্রত্যাশা করা যায়।

বিএনপি সরকার এবং তার যুগপৎ সঙ্গীদের এই নতুন দায়িত্বের সূচনা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন গতিপ্রকোপ সৃষ্টি করবে, যা পরবর্তী সময়ে সংসদীয় কাজকর্ম ও নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments