মঙ্গলবার সকাল দশটায় রাজবাড়ি প্রেসক্লাবের পেছনে অবস্থিত জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে অজানা দুই যুবক প্রবেশ করে জাতীয় পতাকা টাঙিয়ে একটি উদ্বোধনী ব্যানার ঝুলিয়ে চলে যায়। কার্যালয়টি প্রায় এক বছর ও অর্ধেক সময় ধরে বন্ধ ছিল এবং কোনো পার্টি কর্মী সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। ঘটনাটি স্থানীয় বাসিন্দাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং তৎক্ষণাৎ পুলিশকে জানানো হয়।
দীর্ঘ ১৮ মাসের পর বন্ধ থাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে কয়েকজন স্থানীয় মানুষ দাঁড়িয়ে ছিলেন, যখন দুই অজ্ঞাত পরিচয়ের যুবক দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে বেরিয়ে যায়। ব্যানারটি ঝুলিয়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকার রঙ উঁচুতে দোলায়, যা আশেপাশের লোকদের মধ্যে তৎকালীন বিস্ময় সৃষ্টি করে।
একজন সাক্ষী ইসমাইল হোসেন বলেন, “সকাল দশটায় দুজন অচেনা যুবক অফিসে ঢুকে জাতীয় পতাকা টাঙিয়ে একটি ব্যানার লাগালেন, তারপর তৎক্ষণাৎ চলে গেলেন।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা তাদের মুখ দেখতে পাইনি, তবে কাজটি দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে।”
ব্যানারে লেখা ছিল, “৫ অগাস্ট ২০২৪ সালের পর রাজবাড়ী প্রথম জয় বাংলা স্লোগান দেয় জেলা যুবলীগ। আজ জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান মিয়া সহেলীর নেতৃত্বে পার্টি অফিস উদ্বোধন করা হলো।” এই বার্তাটি যুবলীগের সক্রিয়তা ও পুনরায় অফিস চালু করার ইঙ্গিত দেয়।
স্থানীয় পুলিশ তাপস কুমার পাল, অতিরিক্ত সুপারভাইজার, জানান, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দলটি ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং বিষয়টি তদন্তের অধীনে রয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেন, “এ পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে আটক করা যায়নি, তবে তদন্ত চলমান।”
পুলিশের উপস্থিতি সত্ত্বেও অফিসের ভিতরে কোনো আওয়ামী লীগ নেতার উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। অফিসের দরজা ও জানালার অবস্থা পূর্বের মতোই বন্ধ ছিল, তবে ব্যানার ও পতাকা ইতিমধ্যে ঝুলিয়ে দেওয়া অবস্থায় দেখা গিয়েছে।
অঞ্চলের বাসিন্দারা ঘটনাটিকে অপ্রত্যাশিত বলে মন্তব্য করেন এবং প্রশ্ন তোলেন, কেন দীর্ঘ সময়ের পর হঠাৎ এ ধরনের কাজ করা হয়েছে। কিছু লোকের মতে, এটি পার্টির তরুণ শাখা যুবলীগের সক্রিয়তা বাড়ানোর একটি প্রচেষ্টা হতে পারে।
রাজবাড়ি অঞ্চলে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি চলমান, তাই এই ধরনের কর্মকাণ্ডকে রাজনৈতিক পুনরুজ্জীবনের সূচক হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে কোনো পার্টি প্রতিনিধির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশের মতে, ঘটনাস্থল থেকে কোনো ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ভিডিও রেকর্ডিং পাওয়া যায়নি, তাই তদন্তে অতিরিক্ত প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে। তদন্তের ফলাফল জানার সঙ্গে সঙ্গে পার্টি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অফিসের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে স্পষ্টতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর জেলা আওয়ামী লীগ অফিসের পুনরায় খোলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদি অফিসটি আনুষ্ঠানিকভাবে পুনরায় চালু করা হয়, তবে তা স্থানীয় সমর্থকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক চিহ্ন হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, অজানা দুই যুবকের উদ্যোগে জাতীয় পতাকা ও উদ্বোধনী ব্যানার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয় প্রশাসন ও পার্টি সংগঠনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছে।



