মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সম্প্রতি নাইজেরিয়ায় অতিরিক্ত সেনা পাঠিয়েছে, যাতে আইএস‑সংযুক্ত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে লড়াইয়ে নাইজেরিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তা করা যায়। এই পদক্ষেপের ফলে মোট প্রায় ৩০০ মার্কিন সৈন্য এখন দেশের সীমান্তে মোতায়েন রয়েছে।
নাইজেরিয়া, যার মোট ভূমি ক্ষেত্র ৯,২৩,৭৬৯ বর্গকিলোমিটার, জনসংখ্যা প্রায় ২৩ কোটি ৪৭ লাখ ৬৭ হাজার ১৩০, যার মধ্যে ৫৩.৫০% মুসলিম, ৪৫.৯০% খ্রিস্টান এবং অবশিষ্ট অংশ অন্যান্য ধর্মের অনুসারী। এই বৈচিত্র্যময় সমাজের ওপর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হুমকি বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রায় এক দশক আগে আইএস‑সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী নাইজেরিতে সক্রিয়তা লাভ করে। তারা ডাকাতি, লুটপাট, হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, বোমা হামলা, অপহরণ ও নারীদের যৌনদাসী হিসেবে বিক্রয়সহ বিস্তৃত অপরাধে লিপ্ত হয়েছে। উভয় মুসলিম ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষই এই গোষ্ঠীর আক্রমণের শিকার হয়ে আসছে।
নাইজেরিয়ার নিজস্ব সেনাবাহিনী এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর দমন করতে বহুবার অভিযান চালিয়েছে, তবে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। সামরিক অভিযান চলাকালে বেশ কয়েকজন সৈন্য ও কর্মকর্তার প্রাণও হারিয়েছে, যা দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।
ডিসেম্বরে নাইজেরিয়ার সরকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এই গোষ্ঠীর মোকাবেলায় সামরিক সহায়তা চেয়ে আবেদন করে। যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস এই অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দেয় এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।
ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০০ জন সৈন্যকে নাইজেরিয়ায় পাঠায়, এবং পরের সোমবার অতিরিক্ত ১০০ জন সৈন্যের দলও পৌঁছায়। এই নতুন মোতায়েনের মাধ্যমে মার্কিন সেনা মোট ৩০০-এ পৌঁছেছে, যা নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম আফ্রিকায় সাম্প্রতিক কৌশলগত পদক্ষেপের অংশ, যেখানে সেহেল অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদের বিস্তার রোধে একই রকম সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। পূর্বে যুক্তরাষ্ট্র মালি, চাদ, এবং নাইজার সহ দেশগুলোতে প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম সরবরাহ করে তাদের নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়িয়েছে।
অঞ্চলীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদিও অতিরিক্ত মার্কিন সৈন্যের উপস্থিতি তাত্ক্ষণিকভাবে গোষ্ঠীর কার্যক্রমকে সীমিত করতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও গোয়েন্দা শেয়ারিংয়ের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়বে। তারা সতর্ক করেন, গোষ্ঠীর স্বাভাবিক গতি ও স্থানীয় সমর্থন কাঠামো পরিবর্তন না হলে সামরিক সহায়তা একাই সমস্যার সমাধান করতে পারে না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাইজেরিয়ার সরকার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমন্বয় সভা শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে অতিরিক্ত সহায়তার পরিধি, প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম এবং যৌথ অপারেশন পরিকল্পনা নির্ধারিত হবে। এছাড়া, আঞ্চলিক নিরাপত্তা শীর্ষ সম্মেলনে এই বিষয়টি আলোচনার মূল বিষয় হিসেবে উঠে আসবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক পদক্ষেপ নাইজেরিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার পাশাপাশি পশ্চিম আফ্রিকায় সন্ত্রাসবাদের বিস্তার রোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে গোষ্ঠীর জটিল কাঠামো ও স্থানীয় সমর্থনকে লক্ষ্য করে দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা এখনও অপরিবর্তিত রয়ে গেছে।



