ময়মনসিংহের প্রধান বাজারগুলোতে রমজান মাসের আগমনকে লক্ষ্য করে লেবু, শসা, ব্রয়লার মুরগি এবং গরুর মাংসের দাম দ্রুত বাড়ছে। এক সপ্তাহের মধ্যে লেবুর দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে প্রতি অর্ধেক (হালি) ৪০ টাকা থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা স্থানীয় ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ব্রয়লার মুরগির দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পূর্বে ১৭০ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি হওয়া মুরগি এখন ১৮৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, অর্থাৎ প্রতি কেজিতে ১৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে গরুর মাংসের দামও ৮০ টাকা বাড়ে, যা পূর্বের ৭৩০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায় পৌঁছেছে।
মেচুয়া বাজার, যা শহরের সবচেয়ে বড় কাঁচা পণ্যের বাজার, সেখানে ব্রয়লার মুরগির দাম ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা পর্যন্ত দেখা যায়। বিক্রেতারা ক্যামেরা দিয়ে রেকর্ডিং শুরু হলে দ্রুত দামের তালিকা পরিবর্তন করে ১৮৫ টাকার পরিবর্তে ১৮০ টাকায় বিক্রি করতে শুরু করে, যা দাম নির্ধারণে স্বচ্ছতার অভাবকে নির্দেশ করে।
একজন ক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, “গত কয়েক দিনে ব্রয়লার মুরগির দাম ১৭০ টাকা থেকে ১৮৫ টাকায় উঠে এসেছে, ব্যবসায়ীরা একসাথে দাম বাড়িয়ে সিন্ডিকেটের মতো কাজ করছে।” তার মন্তব্যের পর বিক্রেতা রুস্তম আলী মূল্য বোর্ডে ১৮৫ টাকা থেকে ১৮০ টাকা করে পরিবর্তন করেন, যা সরাসরি ক্যামেরা উপস্থিতির প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা যায়।
রুস্তম আলী ব্যাখ্যা করেন, “গ্রাহকরা যদি দাম একটু বেশি পায়, তবে তারা চলে যায় না; তাই আমরা কিছুটা ছাড় দিয়ে ৫-৭ টাকা কম দিই।” এই ধরনের স্বল্পমূল্য ছাড়ের পদ্ধতি বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখার প্রচেষ্টা হলেও, মূল দামের দ্রুত পরিবর্তন ক্রেতাদের মধ্যে অবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলেছে।
ব্রয়লার ছাড়াও সোনালি ও দেশি মুরগির দামেও বৃদ্ধি দেখা গেছে। দেশি মুরগি, যা আগে ৫০০ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি হতো, এখন ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগি ২৭০ টাকা থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতা মানিক মিয়া উল্লেখ করেন, “শীতকালে অনেক মুরগি মারা যাওয়ায় সরবরাহ কমে গিয়েছে, তাই দাম বাড়তে বাধ্য হয়েছি।”
গরুর মাংসের দামের পরিবর্তনও স্পষ্ট। এক সপ্তাহ আগে গরুর মাংস ৭৩০ টাকা প্রতি কেজিতে বিক্রি হতো, আর আজকের বাজারে তা ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, অর্থাৎ ৭০ টাকার বৃদ্ধি। বিক্রেতারা জানান, গরুর সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়তে বাধ্য হয়েছে।
ক্রেতা আফরোজা সুলতানা রমজানের সময়ে ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেশন বাড়ে বলে অভিযোগ করেন, “৮০০ টাকা কেজির গরুর মাংস এখন কোনো দোকানেই পাওয়া যায় না; সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে দাম বাড়ে, তাই আমরা বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনতে পারি।” তার মন্তব্য রমজান মাসে বাড়তি চাহিদা ও মূল্যবৃদ্ধির সমন্বয়কে তুলে ধরে।
জেলা প্রশাসন এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোবাইল টিম গঠন করে বাজার পর্যবেক্ষণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। টিমটি রিয়েল-টাইমে দাম সংগ্রহ করে, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি চিহ্নিত হলে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবে এবং প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, রমজান মাসে খাবারের চাহিদা স্বাভাবিকভাবে বাড়ে, ফলে সরবরাহ-চাহিদার অসমতা দামকে ত্বরান্বিত করে। যদি সরবরাহ শৃঙ্খলা না থাকে এবং ব্যবসায়ীরা সমন্বিতভাবে দাম বাড়ায়, তবে নিম্ন আয়ের গৃহস্থালীর ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাবে, যা সামগ্রিক বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।
ভবিষ্যৎ প্রবণতা হিসেবে, শীতকালে মুরগির মৃত্যুর হার কমে সরবরাহ বাড়লে দাম হ্রাসের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গরুর সরবরাহের ওপর মৌসুমী প্রভাব এবং রমজান সময়ের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে স্বল্পমেয়াদে দাম স্থিতিশীল না হওয়ার ঝুঁকি রয়ে যাবে। বাজারে স্বচ্ছতা ও ন্যায্য মূল্যের নিশ্চয়তা দিতে জেলা প্রশাসনের তদারকি গুরুত্বপূর্ণ হবে।



