একজন সর্বোচ্চ আদালতের আইনজীবী আজ উচ্চ আদালতে রায়ফিক্স পিটিশন দায়ের করে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় রেফারেন্ডের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন এবং ফলাফল বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। পিটিশনটি জনস্বার্থের অধীনে দাখিল করা হয়েছে।
অধিবক্তা মোহাম্মদ আতুল মজিদ পিটিশনে উল্লেখ করেছেন যে বাংলাদেশের সংবিধানে রেফারেন্ডের জন্য কোনো বিধান নেই এবং নির্বাচন কমিশনের এমন কোনো ক্ষমতা নেই যা তাকে রেফারেন্ড পরিচালনা করতে অনুমোদন দেয়। তিনি যুক্তি দেন যে সংবিধানিক কাঠামোতে রেফারেন্ডের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত নয়। এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন যে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম সংবিধানের সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ হওয়া উচিত।
পিটিশনে আদালতকে একটি আদেশ জারি করার অনুরোধ করা হয়েছে যাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয় কেন রেফারেন্ডকে অবৈধ ও সংবিধানবিরোধী হিসেবে ঘোষণার প্রয়োজন নেই। এই আদেশের মাধ্যমে রেফারেন্ডের আইনি অবস্থান স্পষ্ট করা হবে।
আতুল মজিদ পিটিশনের ভিত্তিতে রেফারেন্ডকে “সংবিধানবিরোধী” বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন যে রেফারেন্ডের ফলাফল সংবিধানের নীতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
উচ্চ আদালত পিটিশনের শোনার তারিখ নির্ধারণের কথা জানিয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে। আদালত এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেনি।
রেফারেন্ডে “হ্যাঁ” ভোট ৬০.২৬% ভোটার অংশগ্রহণের সঙ্গে জয়ী হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ৪৮,০৭৪,৪২৯ ভোটার “হ্যাঁ” ভোট দিয়েছেন, আর ২২,৫৬৫,৬২৭ ভোটার “না” ভোট দিয়েছেন।
রেফারেন্ডটি ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হয় এবং ফলাফল পরের দিন সরকারীভাবে ঘোষণা করা হয়। ভোটার অংশগ্রহণের হার ৬০ শতাংশের বেশি ছিল, যা ঐতিহাসিকভাবে উচ্চ অংশগ্রহণের সূচক। ফলাফল ঘোষণার পর বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী রেফারেন্ডের বৈধতা নিয়ে আলোচনা শুরু করে।
সংবিধানের ধারা অনুযায়ী সরাসরি জনগণের মতামত গ্রহণের জন্য রেফারেন্ডের কোনো স্পষ্ট বিধান নেই, তাই আইন বিশেষজ্ঞরা এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলছেন। সংবিধানিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আইন প্রণয়ন ও সংশোধনের ক্ষমতা পার্লামেন্টের হাতে সীমাবদ্ধ। রেফারেন্ডের মাধ্যমে নীতি নির্ধারণের প্রচেষ্টা এই কাঠামোর সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করতে পারে।
নির্বাচন কমিশন রেফারেন্ড পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া ও তহবিল নিশ্চিত করেছে বলে দাবি করে। তবে পিটিশনে উল্লেখ করা হয়েছে যে তার ক্ষমতা সংবিধানিক সীমার বাইরে। এই বিষয়টি আদালতে আলোচনার মূল বিষয় হবে।
রেফারেন্ডের ফলাফল বাতিলের দাবি রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। যদি আদালত রেফারেন্ডকে অবৈধ ঘোষণা করে, তবে সরকারকে ফলাফল পুনর্বিবেচনা করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট নীতি পুনরায় নির্ধারণের প্রয়োজন হবে। অন্যদিকে, রেফারেন্ডকে বৈধ ধরা হলে বর্তমান সরকারী পরিকল্পনা বজায় থাকবে।
বিপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এই মামলাটি দেশের সংবিধানিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা পরীক্ষা করবে।
আদালতের শোনার পর রেফারেন্ডের আইনি অবস্থান স্পষ্ট হবে এবং পরবর্তী রাজনৈতিক ক্যালেন্ডার নির্ধারিত হবে। যদি রেফারেন্ডকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়, তবে সংশ্লিষ্ট নীতি পুনরায় আলোচনা এবং সম্ভবত নতুন ভোটের আহ্বান করা হতে পারে। অন্যদিকে, রেফারেন্ডকে বৈধ ধরা হলে সরকারী পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাবে।
এই পিটিশন দেশের সংবিধানিক কাঠামো এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্যে সমন্বয় রক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা চলমান, এবং রাজনৈতিক দলগুলো ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে তাদের কৌশল নির্ধারণ করবে।



