পাকিস্তানের বাজাউর জেলার খাইবার পাখতুখোয়া অঞ্চলে সোমবার বোমা ভর্তি গাড়ি দিয়ে চেকপোস্টে আক্রমণ করা হয়। এই হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর একাদশ সদস্য এবং একটি ছোট মেয়ে প্রাণ হারায়, আর নার্স ও শিশুসহ সাতজন আহত হয়।
সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা জানায়, আক্রমণকারী গাড়ি চেকপোস্টের দেয়ালে আঘাত হানে এবং বিস্ফোরণের ফলে পোস্টের কাঠামো ধসে পড়ে। ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামোর মধ্যে আশেপাশের আবাসিক বাড়িগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার ফলে এক বালিকা প্রাণ হারায়।
আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুর উপস্থিতি বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয়। আহতদের জরুরি চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে, তবে তাদের অবস্থার বিস্তারিত জানানো হয়নি। নিরাপত্তা বাহিনীর ক্ষতিগ্রস্ত সদস্যদের পরিবারকে শোক প্রকাশের জন্য সমবেদনা জানানো হয়েছে।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রকাশ্য বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, হামলাটি সোমবার সন্ধ্যায় ঘটেছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, দায়িত্বশীল গোষ্ঠী হিসেবে তেহরিক-ই-তালেবান (TTP) এবং প্রতিবেশী ভারতকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
সামরিক বাহিনীর মতে, প্রতিক্রিয়ামূলক অপারেশনে বারোজন সশস্ত্র আক্রমণকারী নিহত হয়েছে। এই সংখ্যা সরকারী সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে এবং তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার উদ্দেশ্যে গৃহীত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনীর দল এলাকায় বিস্তৃত চিরুনি অভিযান চালু করে। এই অভিযানটি সম্ভাব্য অবশিষ্ট সন্ত্রাসী উপাদান অনুসন্ধান, ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার এবং পুনরায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
খাইবার পাখতুখোয়া অঞ্চলে গত বছর থেকে সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই বাড়তি হুমকি স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা উদ্বেগকে তীব্র করে তুলেছে।
একটি পাকিস্তানি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৪ সালে একই প্রদেশে সন্ত্রাসী হামলায় মোট ১,৬২০ জন নিহত হয়। তবে ২০২৫ সালে এই সংখ্যা বেড়ে ২,৩৩১ জনে পৌঁছেছে, যা নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি নির্দেশ করে।
হামলার পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে এবং ঘটনাস্থলে ফরেনসিক দল পাঠানো হয়েছে। তদন্তে বিস্ফোরকের ধরন, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন এবং আক্রমণকারীদের পরিচয় নির্ধারণের জন্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে।
প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইন প্রয়োগ করে মামলা দায়ের করা হবে। আদালতে প্রমাণ উপস্থাপনের পর শাস্তি নির্ধারণের জন্য যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, এবং শিকারের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, বাজাউর জেলার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও অস্থির। সরকারী ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি পুনরায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কার্যক্রম দমন করতে এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।



