স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী মঙ্গলবার ঢাকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ সমাপ্তি ও মন্ত্রণালয়ের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের প্রক্রিয়া মুক্ত, ন্যায়সঙ্গত এবং উৎসবমুখর হওয়ায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে সন্তুষ্ট।
বৈধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতা ও নাগরিক অংশগ্রহণের ভূমিকা স্বীকার করে তিনি বলেন, এই সমন্বয়ই শান্তিপূর্ণ ফলাফলের মূল চাবিকাঠি। তিনি অতীতের তুলনায় মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিবেশকে ‘ভঙ্গুর’ থেকে ‘স্থিতিশীল’ হিসেবে বর্ণনা করেন, যা তার দায়িত্বকালে অর্জিত প্রধান সাফল্য।
গেল দেড় বছরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে যে চ্যালেঞ্জগুলো দেখা গিয়েছিল, তার মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও নির্বাচন সংক্রান্ত উদ্বেগ অন্তর্ভুক্ত ছিল। জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, তিনি যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেন তখন মন্ত্রণালয়টি অস্থির অবস্থায় ছিল, তবে এখন তা অধিক স্থিতিশীল অবস্থায় পৌঁছেছে, যা তার জন্য সর্বোচ্চ সন্তোষের বিষয়।
নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিযুক্ত সদস্যদের প্রচেষ্টাকে তিনি প্রশংসা করে বলেন, “তারা অসাধারণ কাজ করেছে। নির্বাচন সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নের মুখোমুখি হলেও, সকলের সমন্বিত সহযোগিতায় নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।” তিনি উল্লেখ করেন, কোনো বড় সন্ত্রাসী হামলা ঘটেনি এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়েছে।
সিলেটের কুলাউড়া জেলায় একটি ব্যালট বাক্স চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটলেও, তা দ্রুত পুনরুদ্ধার করা হয়। জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, “সেই ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং বাক্সটি উদ্ধার করা হয়।” এই ঘটনা নির্বাচনের সামগ্রিক শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে ক্ষুণ্ন করতে পারেনি।
পাসপোর্ট সংক্রান্ত সেবা উন্নয়নের অংশ হিসেবে, মন্ত্রণালয় পুলিশি ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া সহজ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, “পাসপোর্টে পুলিশি ছাড়পত্রের ব্যবস্থা দ্রুত করা হয়েছে, যা নাগরিকদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে, তবে পুরোপুরি স্বস্তি বলা যায় না।” এই পদক্ষেপটি নিরাপত্তা যাচাইয়ের সময়সীমা কমাতে সহায়তা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দেয়া সময়ের মধ্যে সবকিছু সম্পন্ন করা সম্ভব না হওয়ায়, তিনি স্বীকার করেন যে দায়িত্বের পরিধি বিস্তৃত এবং সব কাজ একসাথে করা কঠিন। তবু, তিনি দেশের নিরাপত্তা ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার উন্নয়নে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
ব্যক্তিগতভাবে, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, তিনি দেশের মধ্যে তার পরিবারসহ বসবাস করছেন। “একটি ছেলে, একটি মেয়ে এবং নাতি-নাতনি রয়েছে; তাদের সঙ্গে আমি দেশেরই মধ্যে থাকি,” তিনি সংক্ষেপে জানান। এই ব্যক্তিগত মন্তব্য তার দেশের প্রতি অবিচল প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বর্তমান অবস্থার বিষয়ে তিনি আরও যোগ করেন, “মন্ত্রণালয় এখন অধিক স্থিতিশীল, যা ভবিষ্যতে নিরাপত্তা নীতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।” তিনি ভবিষ্যতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আরও সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।
প্রতিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে, নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ সম্পন্ন হওয়া এবং কোনো বড় সন্ত্রাসী ঘটনার অনুপস্থিতি সকল রাজনৈতিক শক্তির জন্যই স্বাগত। যদিও মূল প্রতিবেদনগুলোতে সরাসরি বিরোধী দলের মন্তব্য নেই, তবে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সমগ্র রাজনৈতিক পরিসরের সহযোগিতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে স্বীকৃত।
অবশেষে, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নিরাপত্তা নীতি উন্নয়নের দিকে দৃষ্টিপাত করে বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হবে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করা, যাতে নাগরিকদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত হয়।” তিনি এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার, নিরাপত্তা বাহিনী এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তা পুনর্ব্যক্ত করেন।



