জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মঙ্গলবার বিকেল চারটায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেবে না বলে ঘোষণা করেছে। পার্টি তার যাচাইকৃত ফেসবুক পেজে বিকাল একটায় এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ করে, যেখানে শপথের সময় সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এনসিপি পূর্বে ছয়জন নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে দেখিয়েছে। এই শপথের আগে পার্টি জানিয়েছিল যে, বিএনপি শপথ না নেওয়ায় তারা শপথ না নেওয়ার কথা ভাবছে, তবে শেষ পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।
ফেসবুক পোস্টে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এনসিপি শপথ না নেওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনা করলেও, শেষ মুহূর্তে কোনো পরিবর্তন ঘটেনি এবং মন্ত্রিসভার শপথে এনসিপি উপস্থিত না হওয়াই নিশ্চিত হয়েছে।
২০২৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এনসিপি ১১ দলীয় জোটের অংশ হিসেবে কুমিল্লা-৪ আসনে জয়লাভ করে, ফলে তারা নতুন সংসদ সদস্য হিসেবে প্রবেশ করেছে। এই ফলাফল তাদের শপথ গ্রহণকে রাজনৈতিক দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
সংবিধান সংস্কার পরিষদে এনসিপি সদস্যদের শপথ নেওয়া দেশের সংবিধানিক সংস্কার প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ধাপের পরই মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা উপস্থিত ছিলেন। তিনি বিশেষ ভারতীয় বিমানবাহিনীর ফ্লাইটে মঙ্গলবার দুপুর ১২:৪৫ মিনিটে ঢাকা পৌঁছান এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় বিষয়াবলি সচিব মো. নজরুল ইসলাম তাঁকে স্বাগত জানান।
ওম বিরলার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ, যিনি নোয়াদিল্লিতে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেন। এছাড়াও ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি তার সফরসঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, যা দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নয়নকে নির্দেশ করে।
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রধান সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, যিনি জুলাই ২০২২-এ গণ-অভ্যুত্থানের সময় পরনের ১০ নম্বর জার্সি পরিধান করে আলোচিত হয়েছিলেন, তিনি একই জার্সি পরে শপথ গ্রহণের সময় পরিধান করেন। তিনি কুমিল্লা-৪ আসন থেকে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেন।
শপথ অনুষ্ঠানটি দুপুর প্রায় একটায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। শপথের আগে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয় এবং শপথবাক্যটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন পাঠান।
কোরআন তিলাওয়াতের সময় উপস্থিত সকল সদস্য একসাথে শোনেন, যা শপথের পবিত্রতা ও ধর্মীয় দিককে জোরদার করে। শপথের পর মন্ত্রিসভার গঠন প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অগ্রসর হয়।
এনসিপির শপথে অনুপস্থিতি মন্ত্রিসভার গঠন প্রক্রিয়ায় এক নতুন দিক যোগ করেছে, তবে শপথ অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন হয়েছে। ভবিষ্যতে এনসিপি কীভাবে পার্লামেন্টারিয়ান কার্যক্রমে অংশ নেবে তা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।



