১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার, জাতীয় সংসদ ভবনের শপথগ্রহণ কক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন এবং দলীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োগের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি সকাল ১১টার কাছাকাছি শুরু হয়, যেখানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন শপথবাক্য পাঠ করান। শপথগ্রহণ কক্ষের পরিবেশ আনুষ্ঠানিক ও শৃঙ্খলাপূর্ণ ছিল, এবং সকল নবনির্বাচিত সদস্যকে শপথবইতে স্বাক্ষর করার সুযোগ দেওয়া হয়।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি‑মেঘনা) আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চার দলীয় জোট সরকারের সময় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করে ছিলেন, ফলে স্বাস্থ্য নীতি ও সেবা ক্ষেত্রে তার পূর্ব অভিজ্ঞতা উল্লেখযোগ্য।
শপথের প্রথম পর্যায়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ দলের সব নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান। শপথবাক্য শেষ হওয়ার পর, সদস্যরা শপথবইতে স্বাক্ষর করে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদে প্রবেশের প্রস্তুতি নেন।
এরপর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত সদস্য, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এবং অন্যান্য দলীয় প্রতিনিধিরা ক্রমানুসারে শপথ গ্রহণ করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসির উদ্দিন প্রত্যেক দলের প্রতিনিধিকে শপথবাক্য পাঠ করে সংসদীয় দায়িত্বের সূচনা করেন।
আজ বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান নির্ধারিত। এতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে খন্দকার মোশাররফ হোসেনের অন্তর্ভুক্তি সহ অন্যান্য মন্ত্রীর শপথ নেওয়া হবে।
বেসরকারি ফলাফলের ভিত্তিতে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ২০৯টি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়লাভ করেছে। এই ফলাফল দলকে সংসদে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ অবস্থানে রাখে।
সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ফলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সরকার গঠন ও নীতি নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা পালন করবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে অভিজ্ঞ খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নিয়োগ স্বাস্থ্যখাতে সংস্কার ও সেবা উন্নয়নের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলবে।
প্রতিপক্ষ দলগুলোও শপথ গ্রহণের পর তাদের সংসদীয় দায়িত্ব সম্পাদনের প্রস্তুতি জানিয়েছে। তারা সরকার গঠনের পরবর্তী ধাপ এবং নীতি প্রণয়নে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার ইঙ্গিত দিয়েছে।
আসন্ন মন্ত্রিসভার গঠন প্রক্রিয়ায় মন্ত্রিপরিষদের গঠন, কর্মসূচি নির্ধারণ এবং বাজেট প্রণয়ন গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হবে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে নতুন নীতি ও প্রকল্পের সূচনা দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রভাব ফেলবে।
খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পূর্ব অভিজ্ঞতা এবং তার দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিবেচনা করে, স্বাস্থ্যখাতে সংস্কার, হাসপাতাল অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পরিবার কল্যাণ পরিকল্পনা পুনর্গঠন প্রত্যাশিত। তবে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় সংসদীয় সমর্থন ও বাজেট বরাদ্দের প্রয়োজন হবে।
জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শীঘ্রই শুরু হওয়ার কথা, যেখানে নতুন মন্ত্রিসভার নীতি ও কর্মসূচি উপস্থাপন করা হবে। শপথ গ্রহণের পর সরকার গঠন এবং আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে যাবে, যা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরি করবে।



