মঙ্গলবার বিকেল চারটায় জাতীয় নাগরিক দল (এনসিপি) মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেবে না বলে জানায়। শপথটি জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে এবং দলটি একই সময়ে তার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ করবে।
এনসিপি তার স্বীকৃত ফেসবুক পেজে দেড়টার দিকে পোস্ট করে শপথে অনুপস্থিতির সিদ্ধান্ত প্রকাশ করে। পোস্টে দলটি উল্লেখ করে, শপথে না যাওয়ার কারণ হিসেবে অন্যান্য দল, বিশেষ করে বিএনপি, সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নেওয়াকে উল্লেখ করেছে।
শপথের আগে এনসিপির ছয়জন নির্বাচিত সংসদ সদস্য ইতিমধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তারা সংসদ সদস্যের শপথের পাশাপাশি পরিষদের শপথও গ্রহণ করেছেন, যা তাদের দ্বৈত দায়িত্বকে চিহ্নিত করে।
প্রাথমিকভাবে এনসিপি জানায়, যদি বিএনপি শপথ না নেয় তবে তারা শপথ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারে। তবে দলটি তখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ না করে, পরবর্তীতে শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিতি নিশ্চিত করে।
শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিরলা বিশেষ ভারতীয় বিমানবাহিনীর ফ্লাইটে দুপুর ১২:৪৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছান। তার আগমনকে স্বাগত জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপক্ষীয় বিষয়াবলি) মো. নজরুল ইসলাম।
ওম বিরলার সঙ্গে ছিলেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি এবং বাংলাদেশ হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ, যাঁরা দুজনেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতি দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের গুরুত্বকে তুলে ধরে।
শপথের সময় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া হয়, যেখানে জুলাই গণ‑অভ্যুত্থানের সময় পরিচিত ‘১০ নম্বর জার্সি’ পরে আবার আলোচনায় আসে। ঐ জার্সি পরে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ পরিধান করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ কুমিল্লা‑৪ আসন থেকে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য থেকে জয়ী হয়ে শপথ গ্রহণ করেন। তার শপথের আগে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা হয় এবং শপথবাক্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন পাঠান।
সংসদ সদস্যের শপথের পরই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া হয়। এই দ্বৈত শপথ এনসিপির আইনগত ও রাজনৈতিক দায়িত্বকে একসাথে সম্পন্ন করার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
এনসিপি পূর্বে জানিয়েছিল, যদি বিএনপি শপথ না নেয় তবে তারা শপথ না নেওয়ার কথা ভাবতে পারে। তবে আজকের অনুষ্ঠানে দলটি সকল নির্বাচিত সদস্যকে শপথ গ্রহণে দৃঢ়ভাবে উপস্থিত করে।
মন্ত্রিসভার শপথে এনসিপির অনুপস্থিতি সরকার গঠনের পরবর্তী ধাপে প্রভাব ফেলতে পারে। দলটি ক্যাবিনেটের অংশ না হয়ে বিরোধী অবস্থান বজায় রাখবে, যা ভবিষ্যৎ নীতি ও আইন প্রণয়নে তার প্রভাবকে সীমিত করতে পারে।



