কানাডার ব্র্যাম্পটনে জন্ম নেওয়া ১৯ বছর ১৪১ দিন বয়সী যুবরাজ সিং আজ টি‑টুয়েন্টি বিশ্বকাপের কিউইদের বিপক্ষে ৬৫ বলে ১১০ রানের ইনিংস খেলেছেন। ১১টি চার এবং ৬টি ছক্কা দিয়ে গড়ে তোলা এই স্কোর তাকে টি‑টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম সেঞ্চুরিয়ান করে তুলেছে এবং একই সঙ্গে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে আহমেদ শেহজাদের রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছে।
ইনিংসের শেষ পর্যায়ে ৩৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি অর্জন করে যুবরাজের গতি ত্বরান্বিত হয়, এরপর ৭৪ রান যোগ করে তিনি সেঞ্চুরিতে পৌঁছান। এই সাফল্য তাকে ওয়ানডে বিশ্বকাপের সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান পল স্টার্লিংকেও ছাড়িয়ে দু’ধরনের বিশ্বকাপের কনিষ্ঠতম সেঞ্চুরিয়ান করে তুলেছে।
যুবরাজের উদ্বোধনী জুটি অধিনায়ক দিলপ্রীত বাজওয়ার সঙ্গে ১১৬ রান যোগ করেছে, যা পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ উদ্বোধনী অংশীদারিত্ব হিসেবে রেকর্ড গড়ে। উভয়ই টানা দুই চারে শুরু করে, এরপর জিমি নিশামের পাওয়ার প্লে শেষ ওভারে ১৮ রান যোগ করে, অথবা মাত্র ৩৬ বলে হাফ সেঞ্চুরি অর্জন করে, যা শুরুর থেকেই তাদের উজ্জ্বলতা প্রকাশ করে।
যুবরাজের পিতা বলজিৎ কামরা, যিনি ভারতের কিংবদন্তি অলরাউন্ডারকে ভক্ত ছিলেন, তার নামকরণে ‘যুবরাজ’ রেখেছিলেন এবং ছোটবেলায় ছেলেকে ডানহাতি থেকে বাঁহাতিও বানিয়ে দিয়েছিলেন। তবে পিতার কল্পনা ছাড়িয়ে, তার সন্তান আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে ইতিহাস রচনা করছেন।
ক্রিকেটে হাতেখড়ি টরন্টো ডিস্ট্রিক্ট লিগে নেওয়া যুবরাজ, গত বছরের মার্চে আন্তর্জাতিক ডেবিউ করার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে তার প্রতিভা প্রকাশ করেছেন। প্রথম ম্যাচে বাহামার বিপক্ষে ১৫ বলে হাফ সেঞ্চুরি করে তিনি ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের স্বভাব দেখিয়েছিলেন, যা আজকের সেঞ্চুরিতে পরিণত হয়েছে।
কিন্তু আজকের ম্যাচে কানাডা জয়লাভ করতে পারেনি। কানাডা প্রথমে ৪ উইকেটে ১৭৩ রান তৈরি করে, তবে নিউজিল্যান্ডের দ্রুতগতির পিচে তা তাড়া করতে পারেনি। তৃতীয় উইকেটে গ্লেন ফিলিপস ও রাচিন রবীন্দ্রের ৭৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি নিউজিল্যান্ডকে ১৪৬ রান দিয়ে লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করে। শেষ পর্যন্ত নিউজিল্যান্ড ৮ উইকেটের মধ্যে লক্ষ্য পৌঁছে ২৯ বল বাকি রেখে জয়লাভ করে।
ম্যাট হেনরি এবং জিমি নিশাম, যাঁরা আজকের ম্যাচে কিউইদের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তবু দলটি শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয়। তবে যুবরাজের সেঞ্চুরি এবং তার সঙ্গে দিলপ্রীত বাজওয়ার গড়া ঐতিহাসিক অংশীদারিত্ব কানাডার ক্রিকেটে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। পরবর্তী ম্যাচে কানাডা এই সাফল্যকে ভিত্তি করে পুনরায় জয়লাভের লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছে।



