রাজবাড়ী থানার ওসি আবু রাসেল জানান, মঙ্গলবার দুপূরের সময় বেনোদপুর এলাকায় ৩০ বছর বয়সী জাহিদ ফকির গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। ঘটনাস্থলটি পৌর শহরের বেনোদপুরের একটি মাঠ, যেখানে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে গিয়েছিলেন। গুলি চালিয়ে অপরাধীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে, ফলে জাহিদের জীবনচক্র শেষ হয়ে যায়।
জাহিদ ফকিরের পরিবার জানায়, তিনি রাজবাড়ী পৌরসভার বেনোদপুর এলাকার বাসিন্দা এবং মাহাতাব ফকিরের ছেলে পরিচিত। তার বড় ভাই মামুন ফকিরের মতে, জাহিদ সকাল থেকে বাড়িতে ছিলেন এবং দুপূরের দিকে স্কুলের মাঠে গিয়ে খেলতে গিয়েছিলেন। মাঠে পৌঁছানোর পর অজানা চার থেকে পাঁচ জন যুবক তার কাছে এসে হঠাৎ গুলি চালায়।
মামুন ফকির উল্লেখ করেন, গুলি শোনার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় লোকজন দ্রুত জাহিদকে উদ্ধার করে রাজবাড়ী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা গুলির ক্ষতগুলোতে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসা চালিয়ে, তবে জাহিদের শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
আবু রাসেল ওসি ঘটনাটিকে পূর্বের কোনো শত্রুতার ধারাবাহিকতা হিসেবে বিবেচনা করছেন। তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে দেখা যাচ্ছে যে গুলিবিদ্ধের সঙ্গে পূর্বে কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ বা শত্রুতা থাকতে পারে, যা এই হিংসাত্মক ঘটনার পেছনে থাকতে পারে।
প্রাথমিক তদন্তে গুলিবিদ্ধের গাড়ি, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য সম্ভাব্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। পুলিশ দল ঘটনাস্থলে ফিঙ্গারপ্রিন্ট, গুলি চিহ্ন এবং সিসিটিভি রেকর্ডিংসহ সব প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
অপরাধে জড়িত সন্দেহভাজনদের সনাক্ত করার জন্য স্থানীয় তথ্যসূত্র এবং প্রতিবেশীদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ওসি জানান, এখন পর্যন্ত চার থেকে পাঁচ জন অপরিচিত যুবকের পরিচয় পাওয়া যায়নি, তবে তাদের অনুসন্ধানে গতি ত্বরান্বিত করা হয়েছে।
পুলিশের মতে, গুলিবিদ্ধের সঙ্গে পূর্বে কোনো আইনি মামলা বা বিরোধের রেকর্ড নেই, তবে পরিবারিক সূত্রে কিছু ব্যক্তিগত মতবিরোধের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। এই তথ্যগুলোকে ভিত্তি করে তদন্ত দল সন্দেহভাজনদের তালিকা সংকুচিত করার চেষ্টা করছে।
অধিকাংশ সূত্রে বলা হচ্ছে, গুলিবিদ্ধের মৃত্যুর পর স্থানীয় মানুষজন শোকাহত এবং নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত নিরাপত্তা বাড়াতে এবং পুনরায় এমন ঘটনা না ঘটতে পারে তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
অপরাধের তদন্ত এখনও চলমান, এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুলিবিদ্ধের পরিবারকে যথাযথ আইনি সহায়তা প্রদান করার পাশাপাশি, অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে। ভবিষ্যতে কোনো নতুন তথ্য প্রকাশিত হলে তা জনসাধারণের জানাতে হবে।



