চট্টগ্রাম নগরীর নিউ মার্কেট মোড়ের দোস্ত বিল্ডিংয়ে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে নতুন সাইনবোর্ড টাঙানো হয়। কর্মীরা সোমবার বিকালে পূর্বে জাতীয় নাগরিক দলের চট্টগ্রাম মহানগর অফিসের সাইনবোর্ড সরিয়ে, আওয়ামী লীগের লোগোসহ নতুন চিহ্ন স্থাপন করেছে।
সাইনবোর্ড স্থাপনের কাজের দায়িত্বে ছিলেন উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শওকত উল আনাম এবং সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা কাজী সুরুজ। উল আনাম উল্লেখ করেন, পূর্বে জাতীয় নাগরিক দলের চিহ্নটি অফিসে লেগে ছিল, সেটি তুলে নেওয়া হয়ে এখন আওয়ামী লীগের সাইনবোর্ড ঝুলেছে।
এই অফিসটি গত বছর ২১ অক্টোবর একই ভবনের চতুর্থ তলায় কিছু যুবকেরা ভাঙচুর করে তালা ঝুলিয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময়ের ঘটনায় আরিফ মঈনুদ্দিন জানান, অফিসে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের রাতের বেলা কার্যক্রমের তথ্য পাওয়ায় তারা সেখানে গিয়েছিলেন।
মঈনুদ্দিনের মতে, তালা ভেঙে প্রবেশের পর অফিসের ভিতরে সবকিছুই সুশৃঙ্খল অবস্থায় পাওয়া যায়; টেবিল, চেয়ার ও পানীয়ের ডিব্বা সবই পরিষ্কারভাবে সাজানো ছিল। সেই ঘটনার পর অফিসে নতুন তালা লাগিয়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আবার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এইবারের ভাঙচুরের পর অফিসের সাইনবোর্ড ও অন্যান্য সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সেই ঘটনার আগে, গত রোববার নগরীর লালদীঘি পাড়ের সড়কের পাশে স্থাপিত শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি সম্বলিত একটি ম্যুরাল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পরিষ্কার করে ধুয়ে মুছে ফেলেন।
ম্যুরালটি পরিষ্কারের পর ৫ আগস্টের ভাঙচুরের পর কালি ও কাগজ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়, ফলে মূল চিত্রটি অদৃশ্য হয়ে যায়।
উল্লেখযোগ্য যে, দোস্ত বিল্ডিংয়ের চতুর্থ তলায় অবস্থিত উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের অফিসটি বহুবার নিরাপত্তা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। পূর্বের ভাঙচুরের পর তালা পরিবর্তন করা সত্ত্বেও, পুনরায় ঘটনার পুনরাবৃত্তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নির্দেশ করে।
অফিসে নতুন সাইনবোর্ড বসানোকে দলীয় সংগঠনের পুনরুজ্জীবনের একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে অতীতের ভাঙচুর ও ম্যুরাল ধ্বংসের ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে।
প্রাসঙ্গিক কর্তৃপক্ষের মন্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি, তবে ভবিষ্যতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং রাজনৈতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান নিশ্চিত করা জরুরি।



