29 C
Dhaka
Tuesday, February 17, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথে মির্জা আব্বাসের মন্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথে মির্জা আব্বাসের মন্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

মঙ্গলবার, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস শপথের গুরুত্ব ও পরবর্তী কাজের দিকে ইঙ্গিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, শপথের জন্য এখনও যথেষ্ট সময় আছে এবং প্রক্রিয়াটি ধীরে ধীরে এগোবে।

শপথের পর মির্জা আব্বাস সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বলেন, ছাত্র-জনতার সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই সংস্কার সম্ভব হয়েছে। তিনি দেশের নাগরিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তারা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে সংসদে পাঠাতে সক্ষম হয়েছে।

নিজের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় তিনি গর্ব ও আনন্দের অনুভূতি ভাগ করে নেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে অবদান রাখতে চাইবেন।

মির্জা আব্বাসের মতে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের কাজের মূল লক্ষ্য হল গণতান্ত্রিক নীতি মেনে চলা এবং সংসদে তা বাস্তবায়ন করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সকল রাজনৈতিক দলকে এই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে হবে।

বিএনপি পক্ষ থেকে প্রকাশিত এই বক্তব্যের পর, বিরোধী দল আওয়ামী লীগও সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত আলোচনায় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। সরকারী সূত্র অনুযায়ী, সংসদে সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য বিভিন্ন দল একত্রে কাজ করছে।

আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, সংবিধানের মৌলিক কাঠামো রক্ষা করা জরুরি এবং কোনো পরিবর্তন প্রক্রিয়ায় জনমতকে গুরুত্ব দিতে হবে। তারা মির্জা আব্বাসের মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সকল রাজনৈতিক শক্তির সমন্বয়েই দেশের উন্নয়ন সম্ভব।

সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের পর, নির্বাচনী কমিশনের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের আলোকে রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা দেখা দিচ্ছে। কমিশন গত বছর শেষের দিকে নির্বাচনী তালিকা চূড়ান্ত করে এবং বিভিন্ন দলকে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করেছে।

এই প্রেক্ষাপটে, মির্জা আব্বাসের মন্তব্যকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিনি ভবিষ্যৎ নির্বাচনে বেঁচে থাকা ও শক্তিশালী অবস্থান বজায় রাখতে সংস্কারকে একটি কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়া সফল হলে তা বিএনপি-কে পুনরায় শক্তিশালী করবে।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত করেন, সংবিধান সংস্কার যদি পার্টি-ভিত্তিক স্বার্থে ব্যবহার করা হয় তবে তা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য হুমকি হতে পারে। তাই সকল পক্ষের স্বচ্ছতা ও জনসাধারণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

মির্জা আব্বাসের বক্তব্যে তিনি আবারও জোর দেন, দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে রক্ষা করা এবং সংসদে তা কার্যকর করা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সংস্কার কাজের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে।

সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের পর, পার্লামেন্টে সংশোধনী প্রস্তাব পেশ করার প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্ট কমিটি সদস্যরা আগামী সপ্তাহে প্রথমবারের মতো সংশোধনী খসড়া নিয়ে আলোচনা করবে বলে জানানো হয়েছে।

এই প্রক্রিয়ার ফলাফল দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে পুনর্গঠন করতে পারে, বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনের পূর্বে। মির্জা আব্বাসের মতে, সংস্কার সফল হলে তা ভোটারদের আস্থা বাড়াবে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে অংশগ্রহণের হার বৃদ্ধি পাবে।

সর্বশেষে, মির্জা আব্বাসের মন্তব্যকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন, যা দেশের সংবিধানিক কাঠামোকে আধুনিকায়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তবে তিনি স্বীকার করেন, এই পথটি সহজ নয় এবং সকল রাজনৈতিক শক্তির সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments