অস্থায়ী সরকার ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত আর্থিক মন্ত্রণালয়ের আদেশে নাবিল মুস্তাফিজুর রহমানকে সামিলিত ইসলামি ব্যাংক পিএলসি-র ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও হিসেবে নিযুক্ত করেছে। তিনি যুক্ত কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি-র অতিরিক্ত ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদে কর্মরত ছিলেন এবং এই দায়িত্বে তিন বছরের চুক্তিভিত্তিক মেয়াদে কাজ করবেন।
সামিলিত ইসলামি ব্যাংক হল পাঁচটি সমস্যাগ্রস্ত ইসলামী ব্যাংকের একীভূত রূপ—সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামি ব্যাংক এবং এক্সইএম ব্যাংক। এই সংযোজনের ফলে দেশের সর্ববৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত শারিয়া ভিত্তিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।
ব্র্যান্ডের নতুন নেতৃত্বের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার গঠন, শাসন কাঠামো এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নীতিমালার পুনর্বিবেচনা প্রত্যাশিত। সরকারী সংস্থাগুলোকে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ অনুসারে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নাবিল রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ এখনও নির্ধারিত হয়নি, তবে আদেশে উল্লেখ আছে যে তিনি যখনই অফিসে যোগ দেবেন, তখনই তার মেয়াদ কার্যকর হবে। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ফলে পারফরম্যান্স মূল্যায়ন ও মেয়াদ শেষের পর পুনর্নিয়োগের সম্ভাবনা উন্মুক্ত থাকবে।
হাজারো কোটি টাকার ঋণদায় এবং দেউলিয়া হওয়া ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন কাজের দায়িত্বে থাকা সরকার, নতুন ম্যানেজিং ডিরেক্টরের নেতৃত্বে আর্থিক স্বচ্ছতা ও শাসনব্যবস্থার উন্নতি চায়। এই প্রক্রিয়ায় ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী অনুমোদন, লাইসেন্স নবায়ন এবং তহবিলের পুনর্বিন্যাসের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
নাবিল রহমানের পূর্ববর্তী পদ ছিল এইচবিএল বাংলাদেশে দেশের চিফ রিস্ক অফিসার, যেখানে তিনি ঝুঁকি মূল্যায়ন ও নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এরপর তিনি যুক্ত কমার্শিয়াল ব্যাংকে যোগ দিয়ে অতিরিক্ত ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে কাজ শুরু করেন, যেখানে তিনি কৌশলগত পরিকল্পনা ও অপারেশনাল তত্ত্বাবধানে জড়িত ছিলেন।
ব্যাংকিং সেক্টরে তার অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক ও দেশীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক কংগ্লোমারেট এবং বিভিন্ন বিনিয়োগ সংস্থার সঙ্গে কাজের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। এই বহুমুখী পটভূমি তাকে শারিয়া ভিত্তিক ব্যাংকের জটিল আর্থিক কাঠামো পরিচালনায় সক্ষম করে তুলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
শিক্ষাগত দিক থেকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অফ বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেছেন, যা তাকে কর্পোরেট গভার্নেন্স ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা ক্ষেত্রে আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে। তার একাডেমিক যোগ্যতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা মিলিয়ে নতুন নেতৃত্বের অধীনে ব্যাংকের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাজারের দৃষ্টিতে এই নিয়োগটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী হলে ঋণগ্রহীতা ও বিনিয়োগকারীর আস্থা বৃদ্ধি পাবে, ফলে ব্যাংকের তহবিল সংগ্রহের ক্ষমতা ও লিকুইডিটি উন্নত হবে। এছাড়া, শারিয়া ভিত্তিক আর্থিক পণ্যের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংকটি নতুন পণ্য ও সেবা চালু করে বাজার শেয়ার বাড়াতে পারে।
তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। একীভূত ব্যাংকের সম্পদ-দায়ের ভারসাম্য রক্ষা, দেউলিয়া ব্যাংকের ঋণ পুনর্গঠন এবং শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রধান কাজের তালিকায় রয়েছে। নতুন ম্যানেজিং ডিরেক্টরের নেতৃত্বে এই সমস্যাগুলো সমাধান না হলে আর্থিক ক্ষতি ও বাজারের অস্থিরতা বাড়তে পারে।
সারসংক্ষেপে, নাবিল মুস্তাফিজুর রহমানের তিন বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ সামিলিত ইসলামি ব্যাংকের পুনর্গঠন ও বাজারে পুনরায় বিশ্বাস জোগাতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তার পেশাগত পটভূমি, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং শাসনব্যবস্থার প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাংকের দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব ও শারিয়া ভিত্তিক আর্থিক সেবার সম্প্রসারণে সহায়ক হতে পারে। তবে কার্যকরী বাস্তবায়ন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রক মানদণ্ডের পূর্ণ অনুসরণই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হবে।



