বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাচক গেজি আশরাফ হোসেন লিপু, বর্তমান দুই বছরের চুক্তি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন চুক্তি না নেওয়ার ইচ্ছা জানিয়েছেন। লিপু ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এ মিনহাজুল আবেদিন নান্নুকে প্রতিস্থাপন করে প্রধান নির্বাচক পদে অধিষ্ঠিত হন এবং তার বর্তমান চুক্তি ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। তিনি ৫ ফেব্রুয়ারি বোর্ডকে একটি ইমেইল পাঠিয়ে জানিয়েছেন যে তিনি আরেকটি দুই বছরের মেয়াদে কাজ করতে ইচ্ছুক নন।
লিপু ইমেইলে উল্লেখ করেছেন যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি দিয়ে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিতে চায়, বিশেষত আগামী টি২০ বিশ্বকাপ এবং ২০২৭ সালের ওডিআই বিশ্বকাপ। তবে তিনি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক দায়িত্বের কারণে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি স্বীকার করতে পারছেন না। “বোর্ড দুই বছরের মেয়াদে মানুষ খোঁজে, তবে আমি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির জন্য প্রস্তুত নই,” লিপু বলেন।
লিপু আরও জানিয়েছেন যে তিনি জানুয়ারি ২৭ থেকে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজের জন্য ব্যস্ত থাকবেন, ফলে পুরো বছর জুড়ে তিনি পুরোপুরি উপলব্ধ থাকবেন না। তিনি ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যেতে ইচ্ছুক, তবে এই সময়ের মধ্যে ছুটির জন্য ৬-৭ সপ্তাহ বিদেশে থাকবেন। “আমি ডিসেম্বর পর্যন্ত কাজ করতে পারি, তবে ছুটির জন্য কিছু সময় বিদেশে কাটাবো,” তিনি যোগ করেন।
লিপু উল্লেখ করেছেন যে যদি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড স্বল্পমেয়াদী চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে চায়, তবে তিনি তা নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। অন্যথায় তিনি ২৮ ফেব্রুয়ারি চুক্তি শেষের সঙ্গে সঙ্গে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। “যদি বোর্ড স্বল্প সময়ের জন্য আলোচনা করতে চায়, আমি তা নিয়ে কথা বলতে পারি। না হলে আমি ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কাজ করে সরাসরি পদত্যাগ করব,” তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এখন পর্যন্ত লিপুর ইমেইল স্বীকার করেছে এবং স্বল্পমেয়াদী চুক্তি নিয়ে আলোচনা করার সম্ভাবনা রয়েছে। বোর্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা হচ্ছে যে লিপুকে কীভাবে এবং কত সময়ের জন্য রাখবে।
লিপু বাংলাদেশের প্রথম ওডিআই ক্যাপ্টেন ছিলেন এবং তিনি পূর্বে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন। ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশের প্রথম বিশ্বকাপে দল পরিচালনা করার দায়িত্বও তিনি পালন করেন। তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক পটভূমি তাকে নির্বাচক পদে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে, তবে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি এখন তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলছে।
প্রধান নির্বাচক পদে লিপুর পরিবর্তন হলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ভবিষ্যৎ নির্বাচন নীতি এবং বিশ্বকাপ প্রস্তুতির কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হতে পারে। নতুন নির্বাচক কাকে নিয়োগ করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়, তবে বোর্ডের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হবে, যাতে আসন্ন টি২০ এবং ওডিআই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি বাধাগ্রস্ত না হয়।
লিপুর ইমেইল এবং তার অবস্থান সম্পর্কে জানার পর, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় সম্ভাব্য বিকল্প এবং সময়সীমা নিয়ে আলোচনা চালু হয়েছে। বোর্ডের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে আগামী মাসে নতুন প্রধান নির্বাচক ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে।



