ধাকা-৬ থেকে নির্বাচিত বিএনপি সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনে ১১ দলীয় জোট ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের সঙ্গে শপথ গ্রহণ করেন। তিনি নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত না হওয়ায় পরে শপথ নেন, তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথে অংশ নেননি।
শপথ অনুষ্ঠানটি প্রধান নির্বাচন কমিশার এ এম এম নাসির উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংসদ ভবনের প্রধান হলের মঞ্চে জোটের নেতারা ও স্বাধীন সদস্যরা একত্রে শপথপত্রে স্বাক্ষর করেন, যা সংসদীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা নিশ্চিত করে।
ইশরাক হোসেনের দেরি করার কারণ হিসেবে তিনি পূর্বে কিছু জরুরি কাজের ব্যস্ততা উল্লেখ করেন, যা তাকে সময়মতো উপস্থিত হতে বাধা দেয়। যদিও শপথের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়নি, তবু তিনি শেষ পর্যন্ত শপথ সম্পন্ন করে সংসদে তার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী, ইশরাক হোসেন ৭৮,৮৫০ ভোট পেয়ে ধাকা-৬ আসনে জয়ী হন। তার সবচেয়ে কাছের প্রতিদ্বন্দ্বী, জামায়াত-এ-ইসলামির মো. আবদুল মান্নান, ২৩,১৫৩ ভোটে পরাজিত হন। এই পার্থক্য জোটের ভোটাভুটি কৌশলকে শক্তিশালী করেছে।
মো. আবদুল মান্নানের ভোটসংখ্যা দেখায় যে জামায়াত-এ-ইসলামি এখনও ধাকা-৬ অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য সমর্থন বজায় রেখেছে, যদিও ইশরাকের জয় স্পষ্টভাবে জোটের প্রভাবকে তুলে ধরেছে। উভয় প্রার্থীর ভোটের পার্থক্য ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইশরাক হোসেনের শপথে অংশগ্রহণের পাশাপাশি, তিনি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথে অনুপস্থিত ছিলেন। এই পরিষদে শপথ না নেওয়ার কারণ সম্পর্কে কোনো সরকারি ব্যাখ্যা প্রকাশিত হয়নি, যা কিছু বিশ্লেষকের দৃষ্টিতে প্রশ্ন তুলতে পারে।
১১ দলীয় জোটের প্রতিনিধিরা ইশরাকের শপথকে জোটের ঐক্যবদ্ধতা ও সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণের সংকেত হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা জোটের নীতি ও এজেন্ডা বাস্তবায়নে সকল সদস্যের সমন্বিত কাজের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।
বিপক্ষের কিছু নেতা ইশরাকের দেরি শপথকে রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনে সামান্য বিলম্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তবে শেষ পর্যন্ত শপথ সম্পন্ন হওয়াকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেছেন। তারা সকল সংসদ সদস্যের সময়মতো শপথ গ্রহণের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।
ইশরাকের শপথ গ্রহণ জোটের পার্লামেন্টে উপস্থিতি বাড়াবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। তার ভোটাভুটি জোটের শক্তি ও সমর্থন ভিত্তি পুনরায় নিশ্চিত করেছে, যা নীতি আলোচনায় প্রভাব ফেলতে পারে।
সংসদে শপথ গ্রহণের পর, ইশরাক হোসেনের প্রথম কাজ হিসেবে তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং জোটের আইনসভার আলোচনায় সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তিনি তার নির্বাচনী এলাকা ধাকা-৬-এ উন্নয়নমূলক প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন।
ভবিষ্যতে, ইশরাকের পার্লামেন্টে ভূমিকা এবং ১১ দলীয় জোটের সমন্বয় কিভাবে দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটকে প্রভাবিত করবে তা নজরে থাকবে। শপথের পরবর্তী পর্যায়ে তিনি কোন কমিটি বা পরিষদে যোগ দেবেন, তা নির্ধারণ করা হবে।
ইশরাক হোসেনের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে ধাকা-৬-এ নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে, যা সংসদীয় কাজকর্মে নতুন গতিবেগ যোগ করবে এবং জোটের সমন্বিত কৌশলকে শক্তিশালী করবে।



