বিএনপি’র নতুন সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলামগীর ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ ভবনের শপথগ্রহণ কক্ষে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিযুক্ত হবেন। শপথের সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন এবং নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথবাক্য পাঠ করান।
সকাল ১১ টার কাছাকাছি শপথগ্রহণ কক্ষে ১৪২ জন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের শপথ নেওয়া হয়। প্রথমে বিএনপি’র সভাপতি ও মহাসচিব মির্জা ফখরুলসহ তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রতিনিধিদের শপথবাক্য পাঠ করা হয়, এরপর তারা শপথপত্রে স্বাক্ষর করেন।
মির্জা ফখরুল পূর্বে অষ্টম জাতীয় সংসদে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং পরবর্তীতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার এই অভিজ্ঞতা তাকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে পার্টি নেতৃত্বে উল্লেখ করা হয়েছে।
থাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত মির্জা ফখরুলের বিজয় তার পার্টির নির্বাচনী কৌশল ও গ্রামীণ ভোটারদের সমর্থনের ফলাফল হিসেবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। তিনি নির্বাচনের আগে বহু বছর ধরে পার্টির সংগঠনী কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তার ভোটার ভিত্তি শক্তিশালী বলে ধরা হয়।
বিএনপি’র নেতৃত্ব শপথের পর মির্জা ফখরুলের নতুন দায়িত্বের ওপর আশাবাদ প্রকাশ করে, তিনি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে কাজ করবেন বলে ইঙ্গিত দেন। পার্টি বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা নতুন মুখের মাধ্যমে বিএনপি’র নীতি বাস্তবায়নের সুযোগ বাড়বে।
শপথের পর জামায়াত-এ-ইসলামি ও স্বাধীন সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পাঠের জন্য সময় নির্ধারিত হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসির উদ্দিন সকল প্রতিনিধিকে পর্যায়ক্রমে শপথবাক্য পাঠ করান, যা সংসদীয় কার্যক্রমের স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখে।
দুপুর ৪ টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান নির্ধারিত। এই শপথের মাধ্যমে সরকারী কাঠামো সম্পূর্ণ হবে এবং নতুন মন্ত্রিগণ তাদের দায়িত্ব পালন শুরু করবেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে মির্জা ফখরুলের নিযুক্তি গ্রামীণ উন্নয়ন ও সমবায় খাতের সংস্কারকে ত্বরান্বিত করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করেন। তিনি পূর্বে কৃষি ও পর্যটন ক্ষেত্রে কাজ করেছেন, তাই স্থানীয় স্তরে সেবা প্রদান ও অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনতে পারেন।
বিপক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, মন্ত্রিপদে নতুন মুখের যোগদানের ফলে সরকারী নীতি ও পরিকল্পনায় সমন্বয় বৃদ্ধি পাবে। তবে কিছু বিশ্লেষক সতর্ক করেন, মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি বিস্তৃত হওয়ায় কার্যকরী বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সময় ও সম্পদের প্রয়োজন হবে।
মির্জা ফখরুলের দায়িত্ব গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে তিনি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, ডিজিটালাইজেশন এবং গ্রামীণ পরিষেবার গুণগত মান উন্নয়নে পদক্ষেপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এই নীতিগুলি নির্বাচনের পরবর্তী পর্যায়ে পার্টির কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হবে।
শপথের পরপরই সরকারী দপ্তরে মন্ত্রিপদীয় দায়িত্বের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ গঠন ও নীতি নির্ধারণের কাজ দ্রুত অগ্রসর হওয়ার কথা জানানো হয়েছে, যাতে নতুন মন্ত্রিগণ শীঘ্রই কার্যকরী ভূমিকা নিতে পারেন।
সারসংক্ষেপে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলামগীরের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণ দেশের গ্রামীণ উন্নয়ন নীতিতে নতুন দিকনির্দেশনা আনতে পারে। শপথের পরপরই নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান নির্ধারিত, যা রাজনৈতিক পরিসরে নতুন গতিবিধি সূচিত করবে।



