30 C
Dhaka
Tuesday, February 17, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিসারজিস আলমের মন্তব্যে গাদ্দারি করে বিএনপি সরকারের যাত্রা শুরু, সংবিধান সংস্কার শপথে...

সারজিস আলমের মন্তব্যে গাদ্দারি করে বিএনপি সরকারের যাত্রা শুরু, সংবিধান সংস্কার শপথে সালাহউদ্দিনের স্পষ্ট ব্যাখ্যা

১৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার জাতীয় নাগরিক দলের উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক ও পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য সারজিস আলম তার যাচাইকৃত ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট প্রকাশ করে জানান, জুলাই মাসে গাদ্দারি করে বিএনপি সরকারের যাত্রা শুরু হয়েছে। তিনি এই মন্তব্যে জুলাই সনদ ও অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বর্তমান শাসনের সূচনা যুক্ত করেছেন, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে তীব্র বিতর্কের সূত্রপাত করেছে।

সারজিস আলম ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে জয়লাভ করে সংসদে প্রবেশ করেন। তার নির্বাচনী সাফল্যকে ভিত্তি করে তিনি আজকের মন্তব্যকে রাজনৈতিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, যেখানে তিনি সরকারী নীতির বৈধতা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

বিএনপি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের আগে দলীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ দলের এমপিদের উদ্দেশে একটি বক্তব্য রাখেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আজ সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়া হবে না, কারণ সংশ্লিষ্ট সদস্যদের নির্বাচন এখনও সম্পন্ন হয়নি এবং সংবিধানে এ বিষয়ে কোনো ধারা অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

সালাহউদ্দিন আহমদ সাদা ও নীল রঙের দুটি ফরম হাতে তুলে ধরে ব্যাখ্যা করেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তারা কোনো নির্বাচন ফলাফলে নির্বাচিত হননি। তিনি যুক্তি দেন, গণভোটের ফলাফলের ভিত্তিতে যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হয়, তবে প্রথমে তা সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং শপথ নেওয়ার বিধান সংযোজন করতে হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই ফরমগুলো সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে যুক্ত হবে এবং সংসদে গৃহীত হওয়ার পরই সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়ার বিধান কার্যকর করা সম্ভব হবে। বর্তমান পর্যন্ত দলটি সংবিধান মেনে চলেছে এবং ভবিষ্যতেও তা বজায় রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি দলীয় সিদ্ধান্তকে মাননীয় চেয়ারম্যানের নির্দেশে এবং তার উপস্থিতিতে জানিয়েছেন। এই বক্তব্যের মাধ্যমে দলীয় শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যের প্রকাশ ঘটেছে, যা রাজনৈতিক সমন্বয় বজায় রাখার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।

বিএনপি সরকারের শুরুর সঙ্গে গাদ্দারির অভিযোগ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ সংক্রান্ত স্পষ্ট ব্যাখ্যা উভয়ই দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিরোধী দলগুলো এই মন্তব্যগুলোকে সরকারের বৈধতা ও নৈতিকতার প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরছে, যা সংসদীয় কার্যক্রমে তীব্র বিরোধের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদের গঠন ও শপথ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে অন্তর্ভুক্ত না হয়, তবে তা আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। এই পরিস্থিতি সরকারকে দ্রুত সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করাতে পারে, যাতে ভবিষ্যতে শপথ প্রক্রিয়া স্পষ্ট ও বৈধ হয়।

অধিকন্তু, সারজিস আলমের গাদ্দারি সংক্রান্ত মন্তব্যের ফলে বিএনপি সরকারের নীতি ও কর্মকাণ্ডের প্রতি জনমত গঠনেও প্রভাব পড়বে। সরকার যদি এই সমালোচনার মোকাবেলা না করে, তবে তা পার্টির জনপ্রিয়তা ও ভোটারদের আস্থা হ্রাসের দিকে নিয়ে যেতে পারে।

পরবর্তী ধাপে, সংসদে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত বিলের আলোচনা এবং সংশোধনী প্রস্তাবের পর্যালোচনা হবে। উভয় দলই এই প্রক্রিয়ায় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে চায়, যাতে সংবিধানের অখণ্ডতা রক্ষা করা যায় এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

সারসংক্ষেপে, জাতীয় নাগরিক দলের নেতাদের এই দুইটি প্রকাশনা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। গাদ্দারির অভিযোগ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ সংক্রান্ত স্পষ্টতা উভয়ই সরকারের কার্যক্রমের বৈধতা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, যা আসন্ন সংসদীয় সেশনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments