গুড চার্লটনের প্রধান গায়ক জোয়েল ম্যাডেন অস্ট্রেলিয়ান রক সঙ্গীতের একটি গানে নিজের নাম যুক্ত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় রেডিও প্রোগ্রাম হোমগ্রোয়ান‑এ অংশ নেওয়ার সময় এই কথা বলেন, যেখানে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল কোন অস্ট্রেলিয়ান গানের স্বপ্ন তিনি বাস্তবায়ন করতে চাইবেন।
প্রশ্নের উত্তরে ম্যাডেন প্রথমে কয়েকটি অস্ট্রেলিয়ান ট্র্যাক উল্লেখ করেন, যার মধ্যে সিলভারচেয়ারের ‘টুমরো’ এবং ড্যানিয়েল জনসের রচিত ‘স্ট্রেইট লাইনস’, ‘স্লেভ’ ও ‘সুইসাইডাল ড্রিমস’ অন্তর্ভুক্ত। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি ১৯৯৫ সালের হিট ‘ইস্রায়েলের পুত্র’কে সবচেয়ে বেশি পছন্দের গান হিসেবে বেছে নেন।
‘ইস্রায়েলের পুত্র’ ছাড়াও তিনি গোটয়ের বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ‘সামবডি দ্যাট আই ইউজড টু নো’ এবং ক্রাউডেড হাউসের সমৃদ্ধ ক্যাটালগের কথা উল্লেখ করেন। এই গানগুলোকে তিনি অস্ট্রেলিয়ান সঙ্গীতের সমৃদ্ধি ও বৈচিত্র্যের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
ম্যাডেন ড্যানিয়েল জনসের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, তার সৃষ্টিশীল দৃষ্টিভঙ্গি ও স্বতন্ত্র স্বভাবের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ড্যানিয়েল একজন সত্যিকারের শিল্পী, যার সঙ্গে আলাপচারিতা তার নিজের সঙ্গীত দৃষ্টিভঙ্গি broaden করতে পারে।
সিলভারচেয়ারের ‘ইস্রায়েলের পুত্র’ ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয় এবং ব্যান্ডের প্রথম অ্যালবাম ‘ফ্রগস্টম্প’‑এর প্রধান সিঙ্গেল হিসেবে স্বীকৃতি পায়। এই গানের সাফল্য সিলভারচেয়ারকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিচিতি এনে দেয় এবং অস্ট্রেলিয়ান রকের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
‘ফ্রগস্টম্প’ অ্যালবামটি বিলবোর্ড ২০০ তালিকায় নয়টি নম্বরে পৌঁছায়, যা পোস্ট‑গ্রাঞ্জ যুগে অস্ট্রেলিয়ান রক ব্যান্ডের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিরল সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়। এই অর্জন সিলভারচেয়ারের গ্লোবাল প্রভাবকে দৃঢ় করে এবং অস্ট্রেলিয়ান সঙ্গীতের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাড়ায়।
ম্যাডেনের এই মন্তব্যগুলো গুড চার্লটনের অস্ট্রেলিয়ান ট্যুরের পূর্বে প্রকাশিত হয়। ট্যুরের সময় তিনি ব্যান্ডের অষ্টম স্টুডিও অ্যালবাম এবং বছরের পর বছর ট্যুরিং পদ্ধতির পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি অস্ট্রেলিয়ান ভক্তদের উষ্ণ স্বাগত ও দেশের সঙ্গীত সংস্কৃতির প্রতি তার দীর্ঘস্থায়ী ভালোবাসা প্রকাশ করেন।
অস্ট্রেলিয়ান সঙ্গীতকে তিনি “সর্বদা সঙ্গীতের অগ্রভাগে” বলে উল্লেখ করেন, যা তার নিজের সৃষ্টিকর্মে নতুন প্রেরণা যোগায়। এই মন্তব্যগুলো অস্ট্রেলিয়ান শিল্পীদের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার সম্ভাবনা ইঙ্গিত করে।
গুড চার্লটনের নিজস্ব বিলবোর্ড রেকর্ডও উল্লেখযোগ্য। তাদের অ্যালবামগুলো বহুবার টপ‑১০ তালিকায় স্থান পেয়েছে; ২০০২ সালের ‘দ্য ইয়ং অ্যান্ড দ্য হোপলেস’ বিলবোর্ড ২০০‑এ সাতে নম্বরে পৌঁছায়, আর ২০০৪ সালের ‘দ্য ক্রনিকলস অফ লাইফ অ্যান্ড ডেথ’ তৃতীয় স্থানে শীর্ষে উঠে। এই সাফল্যগুলো ব্যান্ডের আন্তর্জাতিক জনপ্রিয়তা ও স্থায়িত্বকে প্রতিফলিত করে।
অস্ট্রেলিয়ান ট্যুরের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে ভক্তদের প্রত্যাশা বাড়ছে, এবং ড্যানিয়েল জনসের সঙ্গে সম্ভাব্য সাক্ষাতের সম্ভাবনা উভয় দলের জন্য নতুন সঙ্গীত প্রকল্পের দরজা খুলে দিতে পারে। গুড চার্লটনের এই প্রকাশনা অস্ট্রেলিয়ান রক সঙ্গীতের প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ইচ্ছা স্পষ্ট করে।



