ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের পর, পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা‑দশমিনা) আসন থেকে নির্বাচিত নুরুল হক নুরকে আজ শপথ গ্রহণের আগে প্রতিমন্ত্রী পদে নিয়োগের ফোন কল পাওয়া গেছে। একই সময়ে কিশোরগঞ্জ‑৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শরীফুল আলমকেও সরকার থেকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুজনেই আজই ঢাকা শহরে অনুষ্ঠিত নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
নুরুল হক নুর, যিনি তৃতীয়বারের মতো পটুয়াখালী-৩ থেকে নির্বাচিত, ফোনে জানানো হয়েছে যে তিনি শপথ গ্রহণের পরই প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি নির্বাচনী জয়কে নতুন সরকারের গঠন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
কিশোরগঞ্জ‑৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য, বিএনপি থেকে প্রথমবারের মতো জয়লাভকারী শরীফুল আলমকে একইভাবে প্রতিমন্ত্রী পদে নিয়োগের ফোন কল এসেছে। তিনি ফোনে শপথ গ্রহণের পরই দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতি জানিয়ে, নতুন সরকারের গঠনকে দেশের উন্নয়নের নতুন দিক হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
শপথ অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের উচ্চপদস্থ নেতাদের উপস্থিতি প্রত্যাশিত। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে এবং ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা আজ ঢাকা পৌঁছাবেন। উভয় নেতাই নতুন বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সফর করছেন।
বহির্বিভাগীয় উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ও ভুটানের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন এবং ভারতের লোকসভার স্পিকারের জন্য বিদেশী সচিবকে স্বাগত জানাবেন। এই অনুষ্ঠানে দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত হবে।
মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট নিয়মিত ফ্লাইটে ঢাকা পৌঁছেছেন, আর ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ও ভারতের লোকসভার স্পিকার বিশেষ ফ্লাইটে দেশের রাজধানীতে পৌঁছাবেন। উভয় গোষ্ঠীর আগমনকে আন্তর্জাতিক মিডিয়া ব্যাপকভাবে কভার করবে।
গত সোমবার দুপুর থেকে আজ ভোর পর্যন্ত যুক্তরাজ্য, তুরস্ক, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিরা ঢাকা পৌঁছেছেন। যুক্তরাজ্যের ভারত‑প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রা, তুরস্কের আন্ডার সেক্রেটারি বেরিস একিনচি, পাকিস্তানের পরিকল্পনা মন্ত্রী আহসান ইকবাল, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা এবং শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নালিন্দা জয়াতিসা তাদের নিজ নিজ দেশের স্বার্থে অংশগ্রহণ করবেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গত শনিবার চীন, জাপান, ভারত, পাকিস্তানসহ ১৪টি দেশের শীর্ষ নেতাকে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এতে সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলংকা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান অন্তর্ভুক্ত।
শপথ অনুষ্ঠানে চীন, জাপান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া ও ব্রুনেইয়ের প্রতিনিধিত্ব করবে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতগণ। এই প্রতিনিধিরা সরকার গঠনের পরপরই দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করবেন।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই‑তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। ফলস্বরূপ, নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে।
প্রতিবেদন অনুসারে, নতুন মন্ত্রিসভার আকার প্রায় পঞ্চাশ সদস্যের হতে পারে এবং শপথ অনুষ্ঠানে মন্ত্রী পরিষদকে আনা‑নেওয়ার জন্য মোট ৪৯টি গাড়ি পাঠানো হয়েছে। এই ব্যবস্থা শপথের সময় মন্ত্রিপরিষদকে দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে উপস্থিত করতে সহায়তা করবে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, নতুন সরকারের গঠন এবং আন্তর্জাতিক নেতাদের উপস্থিতি বাংলাদেশের বহির্বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ককে পুনরায় শক্তিশালী করার সংকেত বহন করে। শীঘ্রই গৃহীত নীতি ও মন্ত্রিপরিষদের গঠন দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে।



