নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে পুলিশ ও বিজিবি সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে। শপথের আনুষ্ঠানিক সূচনা সকাল ১০টায় নির্ধারিত হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কারণে অনুষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়ে শুরু হয়নি।
ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ দুইটি সড়ক, মানিক মিয়া এভিনিউ ও লেক রোড, শপথ গ্রহণের আগে থেকেই পুলিশ বন্ধ করে দেয় এবং যানবাহনগুলোকে জুলাই জাদুঘরের পাশের বিকল্প রুটে সরিয়ে দেয়। একই সময়ে, সংসদ ভবনের বিপরীত দিকে মোহাম্মদপুর এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে আসা গাড়িগুলোকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
আসাদ এভিনিউয়ের বেশ কয়েকটি দোকানপাট বন্ধ করা হয় এবং ফুটপাথে থাকা ভাসমান ব্যবসায়ীদের চলাচলেও সীমা আরোপ করা হয়। এসব ব্যবস্থার পরেও, জুলাই জাদুঘর (পূর্বে গণভবন) মোড়, আড়ংয়ের মোড়, ফার্মগেট, ধানমন্ডি ও আশপাশের এলাকায় গাড়ি চলাচলে জ্যাম দেখা যায়।
একজন গাড়ি চালক জানান, তিনি স্কুলে শিশুর সঙ্গে আসছিলেন, তবে পুলিশ রাস্তায় গাড়ি থামাতে বাধা দিচ্ছিল। গণভবন থেকে শুরু করে বাম্পার-টু-বাম্পার জ্যামের ফলে তিনি এক মোড় পার হতে আধঘণ্টা সময় ব্যয় করেছেন।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় সংসদ ভবনের আশেপাশে ১২টি প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ ও বিজিবি একসাথে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে তৎপর ছিল এবং নিরাপত্তা কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে।
সরকারের তথ্যবিবরণী অনুযায়ী, শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানটি জাতীয় সংসদের সাউথ প্লাজায় বিকাল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে এবং মানিক মিয়া এভিনিউতে স্থাপিত এলইডি স্ক্রিনের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। অনুষ্ঠানটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, তবে নিরাপত্তা কারণে জাতীয় সংসদ ও সংলগ্ন এলাকায় ড্রোন উড্ডয়ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
শপথ গ্রহণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) আগেই ট্রাফিক নির্দেশনা দিয়ে বিকল্প পথের তথ্য জানিয়ে দিয়েছিল। তবুও, কিছু এলাকায় যানজটের মাত্রা বাড়ে, যা প্রধানত নিরাপত্তা কর্মী ও গাড়ি চালকদের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির ফলে ঘটেছে।
শপথ গ্রহণের সময়সূচি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিস্তারিত জানাতে সরকার একটি তথ্যবিবরণী প্রকাশ করে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের পরপরই পার্লামেন্টের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, পুলিশ ও বিজিবি উভয়ই সমন্বিতভাবে কাজ করবে এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এই ধরনের উচ্চ-প্রোফাইল রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব পুনরায় প্রকাশ পেয়েছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ অনুষ্ঠানের জন্য পরিকল্পনা ও সমন্বয় বাড়িয়ে, যানজট কমিয়ে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সরকারী সূত্রে জানানো হয়েছে।



