ব্রিটিশ-নাইজেরিয়ান অভিনেত্রী ওুনমি মোসাকু, রায়ান কুগলারের ‘সিনার্স’ ছবিতে অ্যানি চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সর্বশেষ ওসকারের সেরা সহায়ক অভিনেত্রী বিভাগে প্রথমবারের মতো মনোনয়ন পেয়েছেন। তবে ওসকারের নাম ঘোষণা হওয়ার পরই তিনি প্রকাশ করেছেন যে, বর্তমান সময়ে এই সাফল্য উদযাপন করা তার কাছে ‘ডিস্টোপিয়ান’ অনুভূতি জাগিয়ে তুলছে।
মোসাকু গত মাসে ওসকারের তালিকায় নাম শোনার পরই মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলেন এবং উল্লেখ করেন, মিনেসোটা রাজ্যে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) এজেন্টদের হাতে রেনি গুড ও অ্যালেক্স প্রেট্টি নামের দুই নাগরিকের মৃত্যু ঘটেছে। একই সময়ে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর অপহরণও ঘটেছে, যা দেশের অভ্যন্তরে ব্যাপক নিন্দা ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
এই দু’টি হত্যাকাণ্ড এবং শিশুর অপহরণকে কেন্দ্র করে মোসাকু জানান, তিনি আনন্দের মুহূর্তে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে আনন্দময়ভাবে উদযাপন করতে পারছেন না। তিনি বলেন, “একদিকে ওসকারের মনোনয়ন আমাকে গর্বিত করে, অন্যদিকে এই অন্ধকার ও ভারী সংবাদ আমাকে শ্বাসরুদ্ধ করে।” তার মতে, উভয় অনুভূতি একসাথে ধরা যেন অসম্ভব, ফলে তিনি স্বাভাবিকভাবে পার্টি বা পানীয়ের সন্ধানে বের হতে পারছেন না।
মোসাকু আরও বলেন, “এটি সত্যিই ডিস্টোপিয়ান, কীভাবে আমি আনন্দের মুহূর্তে গিয়ে পানীয় কিনে আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারি?” তিনি এই প্রশ্নটি নিজের মধ্যে বারবার জিজ্ঞাসা করছেন, কারণ তিনি মনে করেন বর্তমান পরিস্থিতি উদযাপনের জন্য অনুপযুক্ত।
তার স্বামীও এই ঘটনার প্রতি অস্বাভাবিকভাবে কম বিস্মিত ছিলেন, যা মোসাকুকে আরও বিস্মিত করেছে। তিনি যুক্তি দেন, “আমেরিকান মানসিকতা এমন যে, ভয়াবহ ঘটনা ঘটলেও মানুষ পরের দিন কাজ করতে ফিরে যায়, আর আমি এক সপ্তাহের জন্য শকড হয়ে ভাবি, ‘এমন ঘটনার পর মানুষ কীভাবে ভিড়ের স্থানে যাবে?’” তিনি এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে একটি ‘কোকুন’—একটি নিরাপদ আশ্রয়—চাই।
মোসাকু উল্লেখ করেন, এই ধরনের ঘটনা স্বাভাবিক নয় এবং তিনি ও তার স্বামী উভয়েই এই অস্বাভাবিকতা নিয়ে উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, “আমাদের সমাজে এমন কিছু ঘটতে পারে না, তাই আমরা সবাইকে এই পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তা করতে আহ্বান জানাই।”
ওসকারের মনোনয়নের পাশাপাশি, অন্যান্য শিল্পী ও সেলিব্রিটিও ICE-র নীতি ও কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কণ্ঠ তুলেছেন। বিখ্যাত গায়িকা বিলি ইলিশ এবং র্যাপার ব্যাড বানি ২০২৬ সালের গ্র্যামি পুরস্কার অনুষ্ঠানে ICE-কে সরাসরি সমালোচনা করেন।
ব্রুস স্প্রিংস্টিনও মিনিয়াপোলিসে ঘটিত রেনি গুড ও অ্যালেক্স প্রেট্টির মৃত্যুর পর ‘স্টেট টেরর’ নামে একটি গান প্রকাশ করে, যেখানে তিনি ফেডারেল অভিবাসন সংস্থার নীতির প্রতি তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেন।
সেই সপ্তাহে স্পিরিট অ্যাওয়ার্ডসের সময় নাতাশা রথওয়েল, টেসা থম্পসন এবং কুমাইল নানজিয়ানি সহ বেশ কয়েকজন শিল্পীও ICE-র বিরুদ্ধে প্রতিবাদে মঞ্চে উঠে দাঁড়ান। তারা মঞ্চে সাইন হাতে ‘বন্দি মুক্তি’ ও ‘অবৈধ শিকারের বিরোধিতা’ চিহ্নিত করে দৃশ্যমানভাবে তাদের বিরোধিতা প্রকাশ করেন।
মোসাকু যখন তার ওসকার মনোনয়ন সম্পর্কে জানেন, তখন তিনি প্রথমে এই স্বীকৃতিকে গর্বের সঙ্গে গ্রহণ করেন, তবে সঙ্গে সঙ্গে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “এই সম্মান পেয়ে আমি গর্বিত, তবে একই সঙ্গে আমি এই দেশের ন্যায়বিচার ও মানবিকতার প্রশ্নে থেমে যাচ্ছি।”
এই ঘটনার পর থেকে, বিনোদন জগতের অনেকেই অভিবাসন নীতি, মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। মোসাকুর মতামত ও অন্যান্য শিল্পীর প্রতিবাদ একসাথে সমাজে এই বিষয়গুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছে, যা ভবিষ্যতে নীতি পরিবর্তন ও জনমত গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে।



