অস্ট্রেলিয়া টি২০ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ে দু’টি ধারাবাহিক পরাজয়ের পর শূন্যে নামছে, জিম্বাবুয়ে এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ধারাবাহিক হারের ফলে টুর্নামেন্ট থেকে বেরিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে।
প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া ২৩ রান পার্থক্যে বিশ্ব র্যাঙ্ক ১১ জিম্বাবুয়ে হারায়। এরপর সোমবার কান্ডিতে শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আট উইকেটের পার্থক্যে হারে, যা দলকে তীব্র সংকটে ফেলেছে।
এখন অস্ট্রেলিয়ার পরবর্তী সুযোগ টিউসডে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে, যেখানে ১২তম র্যাঙ্কের আয়ারল্যান্ডের জয় তাদের টিকে রাখার চাবিকাঠি হতে পারে। তবে তা সত্ত্বেও, শ্রীলঙ্কা যদি বৃহস্পতিবার জিম্বাবুয়ে পরাজিত করে, অস্ট্রেলিয়া শেষ গ্রুপ ম্যাচে ওমানের মুখোমুখি হবে।
দলের ক্যাপ্টেন মিচেল মার্শ টিমের অবস্থা নিয়ে আশাবাদী সুরে মন্তব্য করেন, “এখনো সুযোগ আছে, তবে আয়ারল্যান্ডের ভাগ্যই আমাদের দরকার।” তার এই বক্তব্য টুর্নামেন্টের বাকি পর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ার নির্ভরতা তুলে ধরে।
অতীতে ২০২১ টি২০ বিশ্বকাপ এবং ছয়টি ৫০‑ওভার বিশ্বকাপ জয় দিয়ে অস্ট্রেলিয়া নিজেকে শীর্ষস্থানীয় হিসেবে গড়ে তুলেছিল। তবে বর্তমান দলটি প্রধান দৌড়বিদদের অনুপস্থিতিতে দুর্বলতা দেখাচ্ছে, যা টিমের ঐতিহ্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
তিন দশক আগে পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার ত্রয়ী—মিচেল স্টার্ক, প্যাট কুমিন্স, জশ হ্যাজলউড—প্রতিটি টুর্নামেন্টে অন্তত একজনকে মাঠে রাখত। স্টার্ক টি২০ থেকে অবসর নিয়েছেন, কুমিন্স ও হ্যাজলউড আঘাতের কারণে বাদ পড়েছেন, ফলে এই বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ত্রয়ীর কোনো সদস্য নেই।
ব্যাকআপ পেসার নাথান এলিসের নেতৃত্বে নতুন সিমাররা প্রতিপক্ষের ওপর প্রভাব ফেলতে পারছে না। একই সঙ্গে ভেটেরান লেগস্পিনার অ্যাডাম জ্যাম্পা জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার ব্যাটসম্যানদের সামনে দুই ম্যাচে কোনো উইকেট নিতে পারেনি, যা অস্ট্রেলিয়ার বলিং আক্রমণকে শূন্যে নামিয়ে দেয়।
ব্যাটিং বিভাগেও সমস্যার মুখে। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ৮.৩ ওভারে মিচেল মার্শ ও ট্র্যাভিস হেড একসাথে ১০৪ রান যোগ করলেও, পরবর্তী স্পিনের আক্রমণে দলটি ৭৭ রনে ১০টি উইকেট হারায়। স্পিনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক পতন অস্ট্রেলিয়ার মোট স্কোরকে কমিয়ে দেয় এবং দ্রুত রানের চাপ বাড়িয়ে দেয়।
দলীয় প্রস্তুতিও সমালোচনার মুখে। দেশীয় বিগ ব্যাশ লীগ (বিবিএল) গ্রীষ্মের শেষ পর্যন্ত চলার ফলে অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়রা পাকিস্তানের সঙ্গে উষ্ণ-আপ সিরিজে দেরি করে পৌঁছায়। এই দেরি ও ঘাটতি দলকে সঠিক সংযোজন ও ফিটনেসে বাধা দেয়, ফলে ম্যাচে পারফরম্যান্সে ঘাটতি দেখা যায়।
এখন অস্ট্রেলিয়ার সামনে দু’টি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ বাকি। যদি টিউসডে জিম্বাবুয়ে পরাজিত করে এবং শ্রীলঙ্কা বৃহস্পতিবার জিম্বাবুয়ের ওপর জয়লাভ করে, তবে অস্ট্রেলিয়া ওমানের সঙ্গে শেষ গ্রুপ গেমে টানা সুযোগ পাবে। তবে বর্তমান ফর্ম ও শূন্য পেসারদের অভাবে দলটি কঠিন পরিস্থিতিতে রয়েছে।
টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডে অস্ট্রেলিয়ার সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত, তবে মার্শের মন্তব্যে দেখা যায় যে দলটি এখনও “আয়ারল্যান্ডের ভাগ্য”কে নির্ভরশীল হিসেবে দেখছে। শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার টিকে থাকা নির্ভর করবে কেবল তার নিজের পারফরম্যান্স নয়, বরং অন্যান্য দলের ফলাফলের ওপর।



