মঙ্গলবার, জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপি দল তার নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিলে, জামায়াত-এ-ইসলামি কোনো শপথ নেবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্ত দুই দলের মধ্যে শপথ প্রক্রিয়ার শর্ত নির্ধারণ করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটিকে সংসদীয় সংস্কার প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব হিসেবে দেখছেন।
বিএনপি নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দুপুর ১২টায় শপথ গ্রহণের সময়সূচি মেনে চলবে বলে জানানো হয়েছে। শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তারা সংসদ সদস্যের শপথ নেবে। তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ার কথা দলটি প্রকাশ করেছে। এই অবস্থান পার্টির শপথ নীতি ও সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।
জামায়াত-এ-ইসলামি নেতা আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের মঙ্গলবার সকালে প্রথম আলোকে এ বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, যদি বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেয়, তবে জামায়াতের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা কোনো শপথ নেবে না। তাহেরের মতে, সংস্কারবিহীন সংসদ কার্যকর নয়। তাই শপথের শর্তকে সংবিধান সংস্কার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
তাহেরের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে জামায়াত-এ-ইসলামি শপথের বিষয়টি কেবলমাত্র সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন হলে গ্রহণ করবে। দলটি এই শর্তকে সংবিধানিক পরিবর্তনের গুরুত্বের প্রতিফলন হিসেবে দেখছে। শপথ না নেওয়া হলে সংসদে তাদের অংশগ্রহণ সীমিত হবে। এই অবস্থান পার্টির রাজনৈতিক কৌশলকে প্রভাবিত করতে পারে।
কক্সবাজার‑১ আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদও একই দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়নি এবং সংসদে গৃহীত হলে পদক্ষেপ নেবে। সালাহউদ্দিনের মতে, সংবিধানগত পরিবর্তন ছাড়া তারা শপথ নিতে অস্বীকার করবে। এই মন্তব্য দলীয় অবস্থানকে আরও দৃঢ় করে।
সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি সংসদ সচিবালয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের জন্য করেছে। প্রস্তুতিতে শপথের পত্র, কোরআন তিলাওয়াত এবং শপথ গ্রহণের সময়সূচি অন্তর্ভুক্ত ছিল। সব প্রস্তুতি শেষ হওয়ার পর শপথকক্ষে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়। এই প্রক্রিয়া সংসদীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।
শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান দুপুরের আগে, প্রায় ১১ টা ৩০ মিনিটে শুরু হয়। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ প্রথমে নেওয়া হয়, এরপর সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথের সম্ভাব্য ব্যবস্থা আলোচনা করা হয়। অংশগ্রহণকারীরা শপথের সময় কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করেন। অনুষ্ঠানটি শৃঙ্খলিতভাবে সম্পন্ন হয়।
শপথের সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ. এম. এম. নাসির উদ্দীন শপথের শব্দ পাঠ করেন। শপথের শব্দ সাধারণত জাতীয় সংসদের স্পিকার পাঠান, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শপথের শব্দে সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব ও শপথের শর্ত উল্লেখ করা হয়। এই পরিবর্তন রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রতিফলন।
সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে গত বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। শেরপুর‑৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোটগ্রহণ হয়নি। অন্য দুটি আসনে ফলাফলের গেজেট প্রকাশে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই ভোটের ফলাফল নতুন সংসদ গঠনে প্রভাব ফেলবে।
বিএনপি শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে। যদি দলটি শপথ না নেয়, তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের গঠন ও কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হবে। জামায়াত-এ-ইসলামি এই শর্তের ভিত্তিতে শপথ না নেওয়ার কথা পুনরায় নিশ্চিত করেছে। ফলে সংসদে দুই দলের প্রতিনিধিত্ব সীমিত হতে পারে।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়ন ও সংশোধনী প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে পারে। সরকারকে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। পার্টিগুলোর মধ্যে সমঝোতা না হলে সংসদীয় কাজের গতি কমে যাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই পরিস্থিতিকে দেশের শাসনব্যবস্থার স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন।
পরবর্তী সপ্তাহে সংসদে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত আলোচনার সময়সূচি নির্ধারিত হবে। যদি বিএনপি ও জামায়াত-এ-ইসলামি শপথ না নেয়, তবে সরকারকে অন্য উপায়ে সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা 확보 করতে হবে। এই পরিস্থিতি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা যোগ করবে। শেষ পর্যন্ত, সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ার সাফল্য পার্টিগুলোর শপথের ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল থাকবে।



