30 C
Dhaka
Tuesday, February 17, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধবিএলএ ৭ পাকিস্তানি সৈন্যকে বন্দি দাবি, ৭ দিন শেষে বিনিময় না হলে...

বিএলএ ৭ পাকিস্তানি সৈন্যকে বন্দি দাবি, ৭ দিন শেষে বিনিময় না হলে মৃত্যুদণ্ডের হুমকি

বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বালুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) দাবি করেছে যে তারা সাতজন পাকিস্তানি সেনা বন্দি রেখেছে এবং আলোচনার জন্য এক সপ্তাহের শেষ সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, যদি এই সময়ের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হয়, তবে বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। এই দাবি এনডিটিভি সূত্রে প্রকাশিত হয়েছে।

বিএলএ তাদের মিডিয়া শাখা হাক্কাল থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলেছে, সাত দিনের মধ্যে আলোচনা না হলে বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। একই সঙ্গে তারা পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষকে বিনিময় প্রস্তাব করেছে, যেখানে পাকিস্তান যদি বেলুচি বন্দিদের মুক্তি দেয়, তবে তারা আটকে থাকা সাতজন সৈন্যকে মুক্তি দিতে প্রস্তুত।

গোষ্ঠীটি ‘হেরফ’ অভিযানের দ্বিতীয় পর্যায়ে এই সাতজন সৈন্যকে আটক করেছে বলে জানিয়েছে। এই অভিযানটি বেলুচি অঞ্চলে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি কমাতে এবং গোষ্ঠীর স্বায়ত্তশাসন দাবি জোরদার করতে চালু করা হয়েছিল। বিএলএ দাবি করে, এই সময়ে তারা বিভিন্ন স্থানে মোট সতেরজন পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মীকে গ্রেফতার করেছে।

অধিকন্তু, গোষ্ঠীটি উল্লেখ করেছে যে গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে দশজনকে তাদের জাতিগত সংযোগ এবং স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তিতে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। মুক্তি পাওয়া এই সৈন্যদেরকে বেলুচি জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার জন্য সহায়ক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। অবশিষ্ট সাতজনকে গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে বিচার চালানো হয়েছে।

বিএলএ প্রকাশ করেছে, আটকে থাকা সাতজন সৈন্যের বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকের ওপর হিংসা, জোরপূর্বক গুমে সহায়তা এবং বেলুচি জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণহত্যা সহ একাধিক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। গোষ্ঠি দাবি করে, এই অভিযোগের প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের স্বীকারোক্তি রেকর্ড করা হয়েছে।

বিএলএ অনুসারে, এই সাতজন সৈন্যের বিচার বেলুচি জাতীয় আদালতে সম্পন্ন হয়েছে এবং সকলকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়েছে। আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা গৃহযুদ্ধের সময় গৃহহত্যা, জোরপূর্বক গুমে সহায়তা এবং বেসামরিক লোকজনের ওপর সহিংসতা চালিয়েছেন।

বিএলএ দাবি করেছে, যদিও বন্দিদের মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রকাশিত হয়েছে, তবুও তারা পাকিস্তানকে সাত দিনের সময়সীমা দিয়েছে, যাতে এই রায়ের বাস্তবায়ন না করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যায়। গোষ্ঠি জানিয়েছে, যদি পাকিস্তান এই সময়ের মধ্যে বন্দি বিনিময়ের ইচ্ছা প্রকাশ করে, তবে তারা আটকে থাকা সাতজন সৈন্যকে মুক্তি দিতে প্রস্তুত।

পাকিস্তানি সরকার বা সামরিক বাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। এই মুহূর্তে গোষ্ঠি ও পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের মধ্যে কোনো সরাসরি যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিএলএ বেলুচি অঞ্চলে দীর্ঘদিনের স্বাধীনতা সংগ্রামের অংশ হিসেবে কাজ করে আসছে এবং পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে নিয়মিত সংঘর্ষে লিপ্ত। গোষ্ঠি স্বীকার করে, তাদের লক্ষ্য হল বেলুচি জনগণের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা এবং পাকিস্তানি সরকারের নিয়ন্ত্রণ থেকে অঞ্চলকে মুক্ত করা।

বিএলএর এই দাবির ফলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও মানবাধিকার সংস্থাগুলি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে অনুসরণ করছে। তারা জোর দিয়ে বলছে, বন্দি বিনিময় ও মৃত্যুদণ্ডের হুমকি উভয়ই আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে সংবেদনশীল বিষয় এবং তাৎক্ষণিক সমাধান প্রয়োজন।

বেলুচি অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ইতিমধ্যে অস্থির, এবং এই ধরনের দাবির ফলে উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। গোষ্ঠি ও পাকিস্তান সরকারের মধ্যে আলোচনার অগ্রগতি না হলে, উভয় পক্ষের মধ্যে সামরিক সংঘর্ষের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।

এই ঘটনার পরবর্তী পর্যায়ে, পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা আলোচনার সূচনা প্রত্যাশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, বেলুচি গোষ্ঠীর সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনা মূল্যায়ন করা হবে। পরিস্থিতি কীভাবে বিকশিত হবে তা নির্ভর করবে উভয় পক্ষের কূটনৈতিক ও কৌশলগত পদক্ষেপের ওপর।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments