হলিউডের পুরনো দিনের আইকন রবার্ট ডুভাল ১৫ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার, ভার্জিনিয়ার মিডলবার্গে অবস্থিত নিজ বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন। তার পারিবারিক প্রতিনিধি লুসিয়ানা পেদ্রাজা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন এবং মৃত্যুর পর কোনো আনুষ্ঠানিক অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হবে না বলে জানিয়েছেন।
ডুভাল ১৯৩১ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার এক ছোট শহরে জন্মগ্রহণ করেন। যুবক বয়সে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে সেবা করেন এবং পরে নিউইয়র্কে অভিনয়শিক্ষা গ্রহণ করেন। সেই সময়ে তার সহপাঠী ছিলেন ডাস্টিন হফম্যান ও জিন হ্যাকম্যান, যাঁর সঙ্গে তিনি শিল্পের পথে প্রথম পদক্ষেপ রাখেন।
অভিনয়জগতে প্রবেশের পর ডুভাল ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন চরিত্রে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি ‘দ্য গডফাদার’ চলচ্চিত্রে করলিয়ন ভি. মিকেলসের ভূমিকায় দর্শকের হৃদয় জয় করেন এবং ‘অ্যাপোক্যালিপস নাউ’, ‘টু কিল আ মকিংবার্ড’, ‘লোনসাম ডাভ’ ইত্যাদি ক্লাসিক ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
অভিনয় ছাড়াও ডুভাল পরিচালনা ক্ষেত্রেও হাত বাড়িয়ে ‘দ্য অ্যাপোস্টল’ ও ‘অ্যাসাসিনেশন ট্যাঙ্গো’ চলচ্চিত্রের দায়িত্ব নেন। তার বহুমুখী কাজের মাধ্যমে তিনি শিল্পের বিভিন্ন দিক অন্বেষণ করে দর্শকদের নতুন অভিজ্ঞতা প্রদান করেন।
ডুভালকে শিল্পের নীতিবান ব্যক্তি হিসেবে চেনা যায়। ১৯৯০ সালে ‘দ্য গডফাদার পার্ট থ্রি’ ছবিতে পারিশ্রমিকের বৈষম্যের কারণে তিনি কাজ থেকে সরে যান, যা শিল্পের ন্যায়বিচার নিয়ে আলোচনার সূচনা করে। তার এই অবস্থান বহু তরুণ অভিনেতার জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে দাঁড়ায়।
২০০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদেশে তাকে ‘ন্যাশনাল মেডেল অব আর্টস’ প্রদান করা হয়। এই সম্মানটি দেশের সৃজনশীল শিল্পে তার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
ডুভালের পরিবার জানিয়েছে, তার শেষকৃত্য কোনো ধর্মীয় বা সরকারি অনুষ্ঠান ছাড়া সরলভাবে শেষ হবে। তিনি নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী, ভক্তদেরকে তার প্রিয় চলচ্চিত্রগুলো পুনরায় দেখার এবং তার সঙ্গে কাটানো স্মৃতিগুলো ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তার মৃত্যু সংবাদ প্রকাশের পর ভক্ত ও সহকর্মী শিল্পীজন দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি তার কাজের প্রশংসা জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সমবেত হয়েছেন। বহুজন তার অভিনয়শৈলী, মানবিক গুণাবলি এবং শিল্পের প্রতি অটল নিবেদনকে স্মরণ করেছেন।
ডুভাল তার ক্যারিয়ারে মোট ৫০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন এবং বহু পুরস্কার ও স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। তার চরিত্রের গভীরতা, স্বাভাবিকতা এবং মানবিক দিকগুলোকে তিনি সর্বদা অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
তার মৃত্যু হোলিউডের জন্য একটি বড় ক্ষতি, তবে তার কাজের উত্তরাধিকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তার নাম অনিবার্যভাবে স্থান পাবে।
ডুভালের পরিবার এবং নিকটজনের অনুরোধ অনুসারে, তার স্মৃতিকে সম্মান জানাতে ভক্তদেরকে তার প্রিয় চলচ্চিত্রগুলো পুনরায় দেখার এবং তার সঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো স্মরণ করার জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে। এইভাবে তিনি জীবনের শেষ মুহূর্তে নিজের দর্শকদের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখতে চেয়েছেন।
রবার্ট ডুভালের বিদায়ের পর, শিল্পের বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে তার অবদানের স্মরণে বিশেষ অনুষ্ঠান ও প্রদর্শনী আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে তার পরিবার স্পষ্ট করে বলেছেন, কোনো আনুষ্ঠানিক সমাহার হবে না, বরং তার কাজের মাধ্যমে স্মৃতি রক্ষার দিকে মনোযোগ দেওয়া হবে।



