30 C
Dhaka
Tuesday, February 17, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধশরীয়তপুরে মাছ চুরির অভিযোগে যুবকের ডান পা ভাঙা ও চোখে আঘাত, শাহীনের...

শরীয়তপুরে মাছ চুরির অভিযোগে যুবকের ডান পা ভাঙা ও চোখে আঘাত, শাহীনের হস্তক্ষেপে ঘটেছে

রবিবার সকালবেলা ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের ইকুরি এলাকায় একটি মাছের ঘরে ৩০ বছর বয়সী সেলিম পাইককে ‘মাছ চোর’ বলে ধরে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। শিকারের ডান পা ভেঙে যায় এবং উভয় চোখে গুরুতর আঘাত লেগে যায়; পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠানো হয়।

ঘটনা ঘটার সময় সেলিম পাইক ঘরের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। ঘরের কর্মচারীরা তাকে চোর সন্দেহে তাড়া করে ধরার পর প্রথমে পানিতে ডুবিয়ে মারধর করে। এরপর ঘরের মালিক, শাহীন মাদবর, ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেলিমের হাত বাঁধে, মাটিতে ফেলে এবং বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর চালিয়ে তার ডান পা ভেঙে দেয় এবং চোখে আঘাত হানে।

শাহীন মাদবরকে স্থানীয় সূত্রে শরীয়তপুর পৌরসভার যুবদলের সহ-সভাপতি বলা হয়, তবে জেলা যুবদল নেতারা দাবি করেন যে তার কোনো আনুষ্ঠানিক পদবী নেই। ঘরের মালিকের এই পদবী নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি, তিনি ঘটনাস্থল থেকে সেলিমকে সরাসরি হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের তত্তাবধায়ক হাবিবুর রহমান জানান, সেলিমকে অজ্ঞাতনামা লোকজন হাসপাতালে ভর্তি করে নিয়ে যায় এবং পরে তাকে ঢাকা পাঠানো হয়। তিনি উল্লেখ করেন, সেলিমের শরীরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং চোখের ক্ষতি গুরুতর, ফলে বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

সেলিমের পরিবার দাবি করে যে তার ভাই জয়নাল আবেদীন, যিনি কিছুটা বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধী, চোরের অভিযোগে কোনো প্রমাণ না থাকলেও তাকে পিটিয়ে পঙ্গু করে দিয়েছে। সেলিম নিজে বলেন, তিনি মাছ চুরির কোনো কাজ করেননি এবং চা দোকান থেকে জোর করে তাকে ধরিয়ে কয়েক দফা পিটিয়ে ডান পা ভেঙে দেয়া ও চোখ নষ্ট করার অভিযোগ করেন। তিনি আরও জানান, ঘটনাটি সাংবাদিক ও প্রশাসনের কাছে জানালে হুমকি পেয়েছেন।

শাহীন মাদবরের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। ঘরের মালিকের এই আচরণ নিয়ে জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন বিদ্যুৎ মন্তব্য করেন, “শাহীন বিভিন্ন সময়ে পোস্টার ও ব্যানারে নানা পদবী লিখে থাকেন, তবে তিনি আমাদের দলের কোনো সদস্য নন।” একই সঙ্গে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুস সালাম শাহও উল্লেখ করেন, “শাহীন যুবদল হিসেবে কাজ করেন, তবে তার কার্যক্রমে প্রশ্ন উত্থাপিত হচ্ছে।”

স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, সেলিমের বিরুদ্ধে চোরের অভিযোগের কোনো লিখিত প্রমাণ বা গৃহীত রিকর্ড নেই। পুলিশ দল এখনো ঘরের কর্মচারী ও আশেপাশের সাক্ষীদের বিবৃতি সংগ্রহ করছে এবং শিকারের শারীরিক ক্ষতির ভিত্তিতে অপরাধমূলক মামলা দায়েরের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে।

শিকারের পরিবার এবং স্থানীয় অধিবাসীরা দাবি করছেন, শিকারের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির জন্য যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। একই সঙ্গে, স্থানীয় যুবদল ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে এই ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটার জন্য তদবির করতে বলা হয়েছে।

এই মামলায় আদালতে কী রকম রায় হবে এবং তদন্তের ফলাফল কী হবে, তা সময়ের সাথে প্রকাশিত হবে। তবে বর্তমান পর্যায়ে শিকারের শারীরিক অবস্থা গুরুতর এবং চিকিৎসা চলমান, তাই তার দ্রুত সেরে ওঠা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments