27 C
Dhaka
Tuesday, February 17, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিবাংলাদেশের সীমান্তে জামায়াত-এ-ইসলামির জয়কে বিজেপি কীভাবে ব্যবহার করছে

বাংলাদেশের সীমান্তে জামায়াত-এ-ইসলামির জয়কে বিজেপি কীভাবে ব্যবহার করছে

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর, সীমান্ত অঞ্চলে জামায়াত-এ-ইসলামি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের জয়কে ভারতের বিজেপি রাজনৈতিক সুবিধা হিসেবে উপস্থাপন করছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি দেশের উত্তরে-দক্ষিণে বিস্তৃত নির্বাচনী মানচিত্রে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বিবিসি বাংলার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত মানচিত্রে, দক্ষিণ-পশ্চিমে সাতক্ষীরা‑৪ থেকে উত্তর দিকে মেহেরপুর‑২ পর্যন্ত সব সীমানা পার্শ্ববর্তী আসন হলুদ রঙে চিহ্নিত। হলুদ রঙটি জামায়াত-এ-ইসলামি জোটের জয়কে নির্দেশ করে, যা সীমান্তের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ধারাবাহিকভাবে বিস্তৃত।

সীমান্ত বরাবর সাতক্ষীরা, মেহেরপুর, ত্রিপুরা, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, এবং কুমিল্লা‑১ সহ বেশ কয়েকটি আসনে জোটের জয় রেকর্ড হয়েছে। এই অঞ্চলগুলো ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও কিছু অংশ আসামের সীমানার সঙ্গে সংলগ্ন, যা দুই দেশের রাজনৈতিক গতিবিধি একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করে।

সীমান্তের কিছুটা অভ্যন্তরে, খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া এবং পাবনা জেলায়ও জামায়াত-এ-ইসলামি জোটের প্রভাব দৃঢ় হয়েছে। এই আসনগুলোতে জোটের প্রার্থী জয়ী হয়ে স্থানীয় ভোটারদের পছন্দের প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

উত্তরে, রাজশাহী‑১ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের তিনটি আসনেও জোটের জয় নিশ্চিত হয়েছে। নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামে বহু আসনে জোটের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে, যা উত্তরাঞ্চলের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন রঙ যোগ করেছে।

সার্বিকভাবে, জামায়াত-এ-ইসলামি জোটের জয় মূলত পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের সীমান্তবর্তী জেলা গুলিতে কেন্দ্রীভূত। এই ফলাফলকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক দল ও বিশ্লেষকরা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন, কারণ তারা আশঙ্কা করছেন যে এই প্রবণতা আসন্ন রাজ্য নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গের বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, জামায়াত-এ-ইসলামির বিজয়কে যদি ভারতীয় ভোটারদের কাছে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন বিষয়ক আলোচনার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়, তবে তা বিজেপির জন্য ভোটের নতুন তাবু হতে পারে। ত্রিণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বে থাকা শাসন দলও একই সময়ে এই বিষয়টি ব্যবহার করে বিরোধী দলের দুর্বলতা প্রকাশের চেষ্টা করছে।

বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে, পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তে অবৈধ প্রবেশের হার বাড়ছে এবং এই প্রবেশকারীদের সমর্থন রাজ্যের শাসন দল প্রদান করছে। তারা জোর দিয়ে বলছে, এই ধরনের অনুপ্রবেশ দেশের সামাজিক-জনসংখ্যাতাত্ত্বিক কাঠামোকে পরিবর্তন করছে।

ত্রিণমূল কংগ্রেসের সরকারী শাসনকালে, বিজেপি অভিযোগ করে যে শাসন দল অনুপ্রবেশকারীদের রাজনৈতিক সহায়তা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই অভিযোগের মধ্যে উল্লেখ আছে, সীমান্তের কিছু জেলায় জনসংখ্যার গঠন পরিবর্তিত হয়েছে, যা ভোটের ধারা পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করছে।

আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালে, উভয় দলই জামায়াত-এ-ইসলামির বিজয়কে নিজেদের রাজনৈতিক কৌশলে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে। বিজেপি এই জয়কে সীমান্ত নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থের রক্ষার দিক থেকে তুলে ধরতে চাইছে, যেখানে ত্রিণমূল কংগ্রেস ভোটারদেরকে এই বিশ্লেষণকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অংশ হিসেবে দেখাতে চাচ্ছে।

বিজেপির মুখপাত্র রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশে জামায়াত-এ-ইসলামির জয়কে ভারতীয় ভোটারদের কাছে সীমান্ত সমস্যার সমাধানের উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করা হবে। তিনি বলেন, এই ফলাফল শাসন দলকে সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, বাংলাদেশে জামায়াত-এ-ইসলামির নির্বাচনী সাফল্যকে ভারতের রাজনৈতিক দলগুলো কীভাবে ব্যাখ্যা করবে, তা পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উভয় পক্ষই এই ঘটনাকে নিজেদের ভোটাভুটি কৌশলে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করবে, ফলে সীমান্তের রাজনৈতিক গতিবিধি উভয় দেশের নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা পাবে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments