সোমবার সন্ধ্যায় ক্যাটালান ডার্বিতে গিরোনা বার্সেলোনাকে ২-১ স্কোরে পরাজিত করে, ফলে রিয়াল মাদ্রিদ লা লিগার শীর্ষে অবস্থান বজায় রাখে। ম্যাচটি গিরোনার ঘরোয়া মাঠ মন্টিলিভি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় এবং দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত নিয়ে আসে।
প্রথমার্ধে বার্সেলোনা দুবার কাঠের ফ্রেমে আঘাত করে শট মিস করে। রাফিনহা প্রথমে পোস্টে আঘাত করেন, আর লামিনে ইয়ামাল পেনাল্টি নেওয়ার সময় একই পোস্টে গুলি হোঁচট খায়। উভয়ই গোলের কাছাকাছি হলেও স্কোরে কোনো পরিবর্তন না ঘটাতে পারে।
বার্সেলোনার প্রথম গোলটি ৫৯তম মিনিটে পাউ কুবার্সি গড়ে তোলেন। তিনি জুলেস কুন্ডের ক্রসকে ছোট কর্নার থেকে হেড করে বলকে জালে পাঠান, ফলে গিরোনার গোলরক্ষককে পরাস্ত করে স্কোরে এগিয়ে যান।
কুবার্সির গোলের মাত্র তিন মিনিট পরই গিরোনা সমান করে। ভ্লাদিস্লাভ ভানাটের ক্রসের গোলমাল থেকে থমাস লেমার কাছাকাছি থেকে শট মারেন এবং বলকে জালে গুলিয়ে দেয়, ফলে স্কোর ১-১ হয়।
গিরোনার শেষ গেমচেঞ্জারটি ৮৭তম মিনিটে ফ্রান বেলট্রান তৈরি করেন। জোয়েল রোকার পাসে তিনি দ্রুত দৌড়ে গিয়ে বলকে জালে পাঠিয়ে দলকে জয়ী করে তোলেন। স্টেডিয়ামটি এই মুহূর্তে উল্লাসে ডুবে যায়।
বার্সেলোনা সমান করার জন্য শেষ পর্যন্ত চাপ বাড়িয়ে দেয়, তবে রোকার রেড কার্ডের ফলে তাদের আক্রমণ আরও কঠিন হয়ে যায়। অতিরিক্ত সময়ে রোকার লামিনে ইয়ামালের ওপর রেকলেস ফাউল করার জন্য বেরিয়ে আসে, যা দলের জন্য বড় ক্ষতি হিসেবে রেকর্ড হয়।
এই পরাজয়ের ফলে বার্সেলোনা ৫৮ পয়েন্টে রিয়াল মাদ্রিদের দুই পয়েন্টের পিছিয়ে থাকে এবং অক্টোবরের পর থেকে প্রথমবার সব প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক পরাজয় মুখোমুখি হয়। দলটি এখন লিগের শীর্ষে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জড়িয়ে আছে।
কুবার্সি ম্যাচের পর দলের দুর্বলতা নিয়ে মন্তব্য করেন, “আমরা সব দিকেই কমতি দেখিয়েছি। আত্মসমালোচনা করে দ্রুত উন্নতি করা দরকার, বিশেষ করে নেতৃত্ব নেওয়ার পরপরই প্রতিপক্ষের দ্রুত সমান করার ক্ষেত্রে।” তিনি দলের মনোভাব ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার গুরুত্বেও জোর দেন।
কোচ হ্যান্সি ফ্লিক ডি জং ও রাফিনহাকে আঘাত থেকে ফিরে আসার পর তাদের উপস্থিতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। তবে শুরুর দিকের আধিপত্য সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত গোল করার ক্ষেত্রে বার্সেলোনার সমস্যাই তাদের পরাজয়ের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রাফিনহা বাম দিক থেকে কাটা শটটি চওড়া করে মিস করেন, আর লামিনে ইয়ামালকে গলিপোস্টের কাছাকাছি শটের সুযোগেও গলকিপার পাউলো গাজানিগা রোধ করেন।
গিরোনা এই ম্যাচে গভীর রক্ষণে বসে প্রতিপক্ষের উচ্চ লাইনকে চ্যালেঞ্জ করে। ব্রায়ান গিলের গতি ব্যবহার করে বার্সেলোনার রক্ষণকে বারবার পরীক্ষা করা হয়, যা শেষ পর্যন্ত গিরোনার দ্রুত প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে গোলের সুযোগ তৈরি করে। দলটি কৌশলগতভাবে প্রতিপক্ষের আক্রমণকে দমন করে এবং সুযোগের সময়ই দ্রুত আক্রমণে রূপান্তরিত করে জয় নিশ্চিত করে।



