জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সোমবার প্রকাশিত দুইটি নোটিফিকেশনের মাধ্যমে লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এর উপর আরোপিত মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) পুনর্গঠন করার সিদ্ধান্ত জানায়। উৎপাদন ও বাণিজ্য পর্যায়ে প্রযোজ্য ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট এবং আমদানি পর্যায়ে ধার্য ২ শতাংশ অগ্রিম কর বাতিল করে, আমদানি পর্যায়ে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। ফলে এলপিজি এর উপর ভ্যাট এখন শুধুমাত্র আমদানি স্তরে প্রযোজ্য হবে।
এই পরিবর্তনের ফলে ভোক্তাদের উপর ভ্যাটের বোঝা প্রায় এক পঞ্চমাংশ কমে যাবে বলে অনুমান করা হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড উল্লেখ করেছে যে, ভ্যাট হ্রাসের মাধ্যমে গৃহস্থালি ও শিল্পখাতে এলপিজি ব্যবহারকারীদের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষা করা এবং বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা মূল লক্ষ্য।
নতুন ভ্যাট কাঠামো ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই সময়সীমা নির্ধারণের পেছনে বাজারে সম্ভাব্য অস্থিরতা রোধ এবং দীর্ঘমেয়াদী মূল্য স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ইচ্ছা রয়েছে।
এই নীতিগত পদক্ষেপের পূর্বে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ কর্তৃক একটি আবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সংস্থা শক্তি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এই পুনর্গঠনকে অনুমোদন করে।
বাজার বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ভ্যাটের একক স্তরে কেন্দ্রীভূত হওয়া সরবরাহ শৃঙ্খলে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে এবং কর সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে সহজ করবে। একই সঙ্গে, ভোক্তাদের জন্য দাম কমে যাওয়া গৃহস্থালি গ্যাসের চাহিদা বাড়াতে পারে, যা সরবরাহকারীদের বিক্রয় পরিমাণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তবে, ভ্যাটের পুনর্গঠন দীর্ঘমেয়াদে সরকারের রাজস্বের ওপর কী প্রভাব ফেলবে তা পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট আমদানি পর্যায়ে স্থানান্তরিত হওয়ায় শুল্ক ও অন্যান্য করের সমন্বয় প্রয়োজন হতে পারে, যা ভবিষ্যতে নীতিনির্ধারকদের জন্য অতিরিক্ত সমন্বয় সূচক হতে পারে।
সামগ্রিকভাবে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এই পদক্ষেপ এলপিজি বাজারকে স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি ভোক্তাদের আর্থিক চাপ কমানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। নীতির কার্যকারিতা এবং বাজারের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হবে।



