গুলশানের বিএনপি চেয়ারম্যান অফিসে আজ তারেক রহমান নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক শেষ করে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে কাজ করার নির্দেশনা দিলেন। তিনি আজই প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিতে যাচ্ছেন এবং নতুন সরকারে কী অগ্রাধিকার থাকবে তা স্পষ্ট করে জানালেন।
প্রধানমন্ত্রীর শপথের পরই তিনি আইন শাসন, জবাবদিহিতা, শৃঙ্খলা, জনগণের কল্যাণ এবং জাতীয় উন্নয়নকে মূল লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেন। এসব নীতি বাস্তবায়ন না হলে নির্বাচনের ফলাফলকে শুধুই রাজনৈতিক জয় হিসেবে গণ্য করা যাবে না, এ কথায় তিনি জোর দেন।
বৈঠকগুলো গত দুই দিন গুলশানের চেয়ারম্যান অফিসে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে নতুন নির্বাচিত বিএনপি সংসদ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়। সরাসরি জানার সুযোগ পেয়েছেন এমন কয়েকজনের মতে, এই আলোচনায় পার্টির অগ্রগতি পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
তারেক রহমান সদস্যদের ভোট জয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে ১৭ বছরের দীর্ঘ সংগ্রামের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, গ্রাসরুটের নেতা ও কর্মীদের অবিচল প্রচেষ্টা ছাড়া এই জয় সম্ভব হতো না।
নির্বাচনের আগে তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সফর করেন এবং কমপক্ষে ৬৪টি জনসমাবেশে ভাষণ দেন। এই সফরে তিনি “ধানের গাঁথা” প্রতীক নিয়ে ভোটারদের সমর্থন আহ্বান করেন।
প্রচারণা চলাকালে তিনি অঞ্চলভিত্তিক বহু প্রতিশ্রুতি দেন, যার মধ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা, কল্যাণমূলক ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন এবং অবকাঠামো ও কৃষি খাতে বিনিয়োগ অন্তর্ভুক্ত। এসব প্রতিশ্রুতি নির্বাচনের সময়ই জনগণের কাছে উপস্থাপন করা হয়।
তারেক রহমান আরও জোর দিয়ে বলেন, একটি জবাবদিহি সম্পন্ন, ন্যায়সঙ্গত রাষ্ট্র গড়ে তোলা হবে, যা সরাসরি জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকবে। তিনি এই দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যদের পূর্ণ সমর্থন চেয়েছেন।
বৈঠকে লাক্সমীপুর-১ থেকে নির্বাচিত শাহদাত হোসেন সেলিম বলেন, তিনি এবং তার সহকর্মীরা দায়িত্বশীল আচরণ প্রদর্শন করবেন এবং জনগণের সঙ্গে সংযোগ দৃঢ় করার চেষ্টা করবেন। তিনি আরও যোগ করেন, “দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করা হয়েছে, জনগণের সঙ্গে সংযোগ শক্তিশালী করতে হবে।”
একজন জ্যেষ্ঠ নেতা উল্লেখ করেন, “জনগণ আমাদের থেকে একটি ম্যান্ডেট পেয়েছেন, এখন তা প্রমাণ করতে হবে যে আমরা তা প্রাপ্য।” এ কথায় তিনি নির্বাচনের ফলাফলকে কেবল জয় নয়, দায়িত্ব হিসেবে দেখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
তারেক রহমান নতুন সরকারের ভিত্তি হিসেবে আইন শাসনকে উল্লেখ করেন এবং জানান, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আইনের বাইরে থাকবে না। তিনি সকলকে স্মরণ করিয়ে দেন, শাসনকালে ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা বজায় রাখা হবে।
বৈঠকের পর সদস্যরা পার্টির অগ্রাধিকারগুলোকে কাজে লাগিয়ে আইন শাসন, সামাজিক কল্যাণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। ভবিষ্যতে তারা পার্টির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ নেবে বলে আশ্বাস দেন।



