বেরলিনে অনুষ্ঠিত বার্ষিক ওয়ার্ল্ড ফোরামে হিলারি ক্লিনটন ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনকে এপস্টেইন সম্পর্কিত ফাইলগুলো ধীরগতিতে প্রকাশ করার জন্য “কভার‑আপ” চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ জানিয়ে সতর্ক করেন। তিনি বিবিসি-কে সাক্ষাৎকারে ফাইলগুলো তৎক্ষণাৎ প্রকাশের দাবি তুলে ধরেন এবং বর্তমান প্রক্রিয়াকে “ধীরে ধীরে এগোচ্ছে” বলে সমালোচনা করেন। এই মন্তব্যের পটভূমি হল যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার বিভাগ সম্প্রতি এপস্টেইন বিষয়ক নতুন নথি প্রকাশ করেছে।
হিলারি ক্লিনটন স্পষ্টভাবে ফাইলগুলো তৎক্ষণাৎ প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ফাইলগুলো বের করুন। তারা ধীরে ধীরে এগোচ্ছে।” তিনি যুক্তি দেন যে সকল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা, যাদেরকে সাক্ষ্য দিতে বলা হয়, তাদেরকে আদালতে হাজির হতে হবে। এ বিষয়ে তিনি বিশেষভাবে অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন‑উইন্ডসরকে উল্লেখ করে, “যে কেউ সাক্ষ্য দিতে বলা হয়, তারই সাক্ষ্য দিতে হবে” বলে জোর দেন।
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পায়। হোয়াইট হাউস দাবি করে যে ফাইলগুলো প্রকাশের মাধ্যমে শিকারের স্বার্থে ডেমোক্র্যাটদের তুলনায় বেশি কিছু করা হয়েছে। তারা যুক্তি দেয় যে এই পদক্ষেপটি শিকারের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়।
অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন‑উইন্ডসর, যিনি প্রাক্তন প্রিন্স, এপস্টেইন ফাইলের মধ্যে উপস্থিত হলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো অপরাধের ইঙ্গিত দেয় না। অ্যান্ড্রু সবসময়ই কোনো ভুল কাজের অস্বীকার করেছেন এবং ২০২২ সালে ভর্জিনিয়া গিয়াফ্রের সঙ্গে কোনো দায় স্বীকার না করে আউট‑অফ‑কোর্ট সমঝোতা করেছেন। গিয়াফ্রে ২০২৫ সালে আত্মহত্যা করে মারা যান, যা এই মামলায় অতিরিক্ত জটিলতা যোগ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায়বিচার বিভাগ এই মাসের শুরুর দিকে এপস্টেইন বিষয়ক লক্ষ লক্ষ নতুন নথি প্রকাশ করে, যা কংগ্রেসের একটি আইন অনুসারে প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক ছিল। এই আইন, এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট, নথিগুলোকে জনসাধারণের কাছে উন্মুক্ত করার নির্দেশ দেয়।
ন্যায়বিচার বিভাগ দাবি করে যে এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের অধীনে প্রয়োজনীয় সব নথি ইতিমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। তবে কংগ্রেসের কিছু সদস্য, বিশেষ করে আইন প্রণয়নকারী থমাস ম্যাসি, প্রকাশের পরিমাণে অপর্যাপ্ততা উল্লেখ করে অতিরিক্ত অভ্যন্তরীণ স্মারক প্রকাশের দাবি তোলেন। ম্যাসি আইনটি নিজে সহ-লিখেছেন এবং তিনি নথিগুলোর মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও স্বচ্ছতা চান।
জেফ্রি এপস্টেইন ১০ আগস্ট ২০১৯-এ নিউ ইয়র্কের একটি কারাগারে আত্মহত্যা করে মারা যান, যখন তিনি যৌন পাচার সংক্রান্ত মামলায় বিচার অপেক্ষা করছিলেন। এপস্টেইন ২০১৫ সালে নাবালিকাকে যৌন সেবার জন্য নিয়োগের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এবং সেই সময়ই তাকে যৌন অপরাধীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তার মৃত্যুর পরেও এপস্টেইন সংক্রান্ত তদন্ত এবং নথি প্রকাশের দাবি অব্যাহত রয়েছে।
অ্যান্ড্রু মাউন্টবাটেন‑উইন্ডসরের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা এবং গিয়াফ্রের পরিবার তাকে ওভারসাইট কমিটিতে সাক্ষ্য দিতে চাপ দিচ্ছে। অ্যান্ড্রু বারবার তার নির্দোষতা পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং গিয়াফ্রের সঙ্গে কোনো দায় স্বীকার না করে সমঝোতা করেছেন। গিয়াফ্রের আত্মহত্যা তার বিরুদ্ধে দায়ের প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এপস্টেইন ফাইলের মধ্যে ক্লিনটন পরিবারকে বহুবার উল্লেখ করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে অতিরিক্ত তদন্তের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলেছে। এই উল্লেখগুলো কংগ্রেসের বিভিন্ন কমিটিতে প্রশ্ন তোলার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে, হিলারি ক্লিনটনের এই অভিযোগ ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং কংগ্রেসের তদারকি কমিটিগুলোর কাজকে ত্বরান্বিত করতে পারে। ফাইলের সম্পূর্ণ প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কংগ্রেসে নতুন শুনানি এবং আইনগত পদক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া, হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া এবং ডেমোক্র্যাট-রিপাবলিকান পারস্পরিক বিরোধ ভবিষ্যতে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রীয় বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
সারসংক্ষেপে, হিলারি ক্লিনটন ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনকে এপস্টেইন ফাইলের ধীরগতির প্রকাশের জন্য কভার‑আপ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন, যখন হোয়াইট হাউস এ বিষয়কে শিকারের স্বার্থে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করেছে। ন্যায়বিচার বিভাগের সম্পূর্ণ নথি প্রকাশের দাবি এবং কংগ্রেসের অতিরিক্ত স্বচ্ছতা চাওয়া ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করবে।



