19 C
Dhaka
Tuesday, February 17, 2026
Google search engine
Homeবিনোদন‘Nina Roza’ চলচ্চিত্রের বুলগেরিয়ান শরণার্থী ফিরে আসে, বার্লিন ফেস্টিভ্যালে প্রতিযোগিতায়

‘Nina Roza’ চলচ্চিত্রের বুলগেরিয়ান শরণার্থী ফিরে আসে, বার্লিন ফেস্টিভ্যালে প্রতিযোগিতায়

বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে প্রদর্শিত ‘Nina Roza’ শিরোনামের নতুন চলচ্চিত্রটি কানাডার বুলগেরিয়ান শরণার্থী এক শিল্পীর ঘরে ফিরে যাওয়ার গল্প তুলে ধরে। চলচ্চিত্রটি কুইবেকের লেখক‑নির্দেশক জেনেভিভ ডুলুদ‑দে সেলেসের রচনা, যিনি ২০১৭ সালে বার্লিনের ক্রিস্টাল বেয়ার জয়ী কিশোর চলচ্চিত্র ‘A Colony’ দিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিচিতি লাভ করেন।

ডুলুদ‑দে সেলেসের পূর্বের কাজের মতোই ‘Nina Roza’ তেও তীক্ষ্ণ ছন্দময় ভাষা ও দৃশ্যের মাধ্যমে শিল্প ও নির্বাসনের জটিল সম্পর্ককে চিত্রিত করা হয়েছে। এইবার তিনি বিস্তৃত কাঠামোর মধ্যে গল্পকে গড়ে তোলেন, যেখানে প্রধান চরিত্র কানাডায় বসবাসরত বুলগেরিয়ান অভিবাসী মিহাইল, তার অতীতের সঙ্গে পুনর্মিলনের পথে অগ্রসর হন।

মিহাইলের বয়স পঞ্চাশের মাঝামাঝি, তিনি মন্ট্রিয়লে একটি ধনী শিল্প সংগ্রাহকের জন্য কিউরেটর হিসেবে কাজ করেন। তার কাজের পরিবেশে তিনি আধুনিক শিল্পের নানা রূপের সঙ্গে পরিচিত, তবে তার ব্যক্তিগত জীবনে তিনি নিজের মূলে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা গোপন করে রেখেছেন।

মিহাইলের মেয়ে রোজের সঙ্গে সম্পর্কটি তিক্ত। রোজের স্বামী ও সন্তান রয়েছে, এবং তিনি তার সন্তানকে বুলগেরিয়ান ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে চান। তবে মিহাইলের প্রতিক্রিয়া তীক্ষ্ণ; তিনি অতীতের স্মৃতি থেকে দূরে থাকতে চায়। এই পারিবারিক উত্তেজনা চলচ্চিত্রের আবেগময় স্তরকে গঠন করে।

একদিন মিহাইলের বস, যিনি শিল্পের বাজারে বিশাল প্রভাবশালী, একটি আট বছর বয়সী মেয়ের কথা শোনেন, যার নাম নিনা। নিনা হলেন জোড়া টুইন—সোফিয়া ও একাটেরিনা স্ট্যানিনার অভিনয়—যিনি চিত্রাঙ্কনে অদ্ভুত প্রতিভা প্রদর্শন করেন এবং ভবিষ্যতে ডি-কুনিং বা পিকাসোর মতো বড় শিল্পী হতে পারে বলে অনুমান করা হয়। এই তথ্য মিহাইলের বসকে আকৃষ্ট করে এবং তাকে মিহাইলকে নিনা খুঁজতে পাঠায়।

মিহাইলের জন্য এটি অতীতের সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার এক অনিবার্য সুযোগ হয়ে ওঠে। তিনি মন্ট্রিয়ল থেকে বুলগেরিয়ার গ্রামাঞ্চলে ফিরে যান, যেখানে তিনি নিনার পরিবার ও স্থানীয় শিল্প পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত হন। এই যাত্রা তাকে নিজের শৈল্পিক স্বপ্ন ও পারিবারিক দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে বাধ্য করে।

চলচ্চিত্রের বর্ণনাশৈলী এলিপটিক, অর্থাৎ কিছু দৃশ্যের ফাঁক দর্শকের কল্পনা দিয়ে পূরণ করতে হয়। এই পদ্ধতি গল্পের গভীরতা বাড়ায় এবং দর্শককে মিহাইলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের সঙ্গে সংযুক্ত করে। চলচ্চিত্রটি শিল্পের মাধ্যমে আত্মপরিচয়, নির্বাসন এবং ঘরে ফিরে আসার মানসিক প্রক্রিয়াকে সূক্ষ্মভাবে উপস্থাপন করে।

‘Nina Roza’ তে গালিন স্টোয়েভ মিহাইলের ভূমিকায়, মিশেল তজোনচেভ রোজের ভূমিকায়, চিয়ারা কাসেল্লি এবং নিকোলাই মুতাফচিয়েভ বুলগেরিয়ান চরিত্রে উপস্থিত। ক্রিস্টোফ বেগিন কানাডিয়ান শিল্প সংগ্রাহকের ভূমিকায়, এবং অন্যান্য সহায়ক অভিনেতারা গল্পের বর্ণনাকে সমৃদ্ধ করে।

চলচ্চিত্রের দৈর্ঘ্য এক ঘণ্টা চৌত্রিশ মিনিট, যা দর্শকদেরকে যথেষ্ট সময় দেয় চরিত্রের মানসিক জগত ও শিল্পের সূক্ষ্মতা অনুধাবন করতে। বার্লিন ফেস্টিভ্যালে প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে স্থান পেয়েছে এই কাজটি, যা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

‘Nina Roza’ তে শিল্প ও নির্বাসনের সংযোগকে এক ধ্যানময় রূপে উপস্থাপন করা হয়েছে। মিহাইলের ঘরে ফিরে যাওয়া, নিনার প্রতিভা অনুসন্ধান এবং পরিবারিক সম্পর্কের পুনর্গঠন—এই সবই একসাথে মানবিক বিচ্ছিন্নতা ও পুনর্মিলনের গভীর বার্তা দেয়। চলচ্চিত্রটি দেখার পর দর্শকরা নিজেরা কী ত্যাগ করেছে এবং কী অর্জন করেছে তা নিয়ে ভাবতে বাধ্য হবেন।

বুলগেরিয়ান সংস্কৃতি, কানাডিয়ান শহুরে জীবন এবং আন্তর্জাতিক শিল্পের মিশ্রণ ‘Nina Roza’ তে এক অনন্য রঙ যোগ করেছে। এই চলচ্চিত্রটি শিল্পপ্রেমী, নির্বাসিত সম্প্রদায় এবং আত্মপরিচয় খুঁজে বের করতে চাওয়া সকলের জন্য প্রাসঙ্গিক, এবং বার্লিনের বড় পর্দায় তার উপস্থিতি বুলগেরিয়ান চলচ্চিত্রের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Hollywood Reporter – Movies
বিনোদন প্রতিবেদক
বিনোদন প্রতিবেদক
AI-powered বিনোদন content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments