ঢাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারি – দীর্ঘকালীন রাজনৈতিক কর্মজীবনের পর তারেক রহমান আজ বাংলাদেশ সরকারে প্রধানমন্ত্রীর শপথ নিতে যাচ্ছেন। শপথ অনুষ্ঠানটি জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হবে এবং দেশের সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
তারেক রহমানের শপথের আগে তিনি একটি ব্যাপক ভাষণ দিয়ে ভবিষ্যৎ নীতি‑নির্দেশনা সম্পর্কে ধারণা প্রকাশ করেন। ভাষণে তিনি আইন‑শাসনকে শক্তিশালী করা, সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সরকার সকল নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করবে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
বিশ্লেষকরা তারেকের ঘোষিত নীতি‑দিকনির্দেশকে চারটি সম্ভাব্য পথের সঙ্গে তুলনা করছেন। প্রথম পথটি ‘সংস্কার ও পুনর্গঠন’ নামে চিহ্নিত, যেখানে তিনি তার সাম্প্রতিক ভাষণে উল্লেখিত প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই পথে প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বচ্ছ করা, আইনকে সকলের জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করা এবং সামাজিক পুনর্নির্মাণের দিকে অগ্রসর হওয়া অন্তর্ভুক্ত।
দ্বিতীয় পথটি ‘পুরোনো অভ্যাসে ফিরে যাওয়া’ হিসেবে বর্ণিত, যেখানে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হলে সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর প্রভাব বাড়তে পারে এবং দল‑রাষ্ট্রের সীমানা অস্পষ্ট হয়ে যেতে পারে। এই দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু বিশ্লেষক উল্লেখ করেন যে, অতীতের রাজনৈতিক রীতি পুনরাবৃত্তি হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা হ্রাস পেতে পারে।
তৃতীয় পথটি ‘প্রতিশোধ ও মেরুকরণ’ নামে পরিচিত। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুসারে, দীর্ঘকালীন নির্যাতন, মামলা ও নির্বাসনের স্মৃতি যদি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে, তবে নীতি‑নির্ধারণে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি সামাজিক সংহতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।
চতুর্থ পথের বিশদ এখনো প্রকাশিত হয়নি, তবে সূত্র অনুযায়ী এটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে মনোযোগ দিতে পারে। সরকারী সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই পথটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নযোগ্য নীতি‑মডেলের সমন্বয় হতে পারে।
বিপক্ষের কিছু নেতা, বিশেষ করে বিরোধী দলগুলোর প্রতিনিধিরা শপথের আগে প্রকাশিত নীতি‑দিকনির্দেশকে সমালোচনা করেছেন। তারা উল্লেখ করেন যে, সরকারকে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কার পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে হবে এবং অতীতের অব্যাহত দুর্নীতি মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। কিছু বিরোধী নেতা বলেন, যদি সরকার ‘পুরোনো অভ্যাসে ফিরে যাওয়া’ পথে অগ্রসর হয়, তবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা হ্রাস পাবে।
অন্যদিকে, সমর্থক গোষ্ঠী তারেকের শপথকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। তারা আশা প্রকাশ করে যে, ‘সংস্কার ও পুনর্গঠন’ পথের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে। সমর্থকরা উল্লেখ করেন যে, তারেকের নেতৃত্বে সরকার দ্রুত অবকাঠামো প্রকল্প, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে অগ্রসর হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, তারেকের শপথের পর সরকার যে নীতি‑পথ বেছে নেবে, তা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। যদি সরকার ‘সংস্কার ও পুনর্গঠন’ পথে অগ্রসর হয়, তবে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বাড়তে পারে এবং দেশের আর্থিক সূচক উন্নত হতে পারে। অন্যদিকে, ‘প্রতিশোধ ও মেরুকরণ’ পথে অগ্রসর হলে সামাজিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা হ্রাস পেতে পারে।
বাংলাদেশ সরকার এখন তারেক রহমানের শপথের পরবর্তী নীতি‑দিকনির্দেশনা নির্ধারণে মনোনিবেশ করেছে। শপথের পরপরই সরকারী দপ্তরে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অর্পণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সরকারী সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শপথের পর প্রথম ১০ দিনের মধ্যে প্রধান নীতি‑প্রস্তাবনা পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হবে।
সারসংক্ষেপে, তারেক রহমানের শপথের মুহূর্তটি দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। চারটি সম্ভাব্য নীতি‑পথের মধ্যে কোনটি বেছে নেওয়া হবে, তা দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন, সামাজিক সংহতি এবং আন্তর্জাতিক অবস্থানকে নির্ধারণ করবে। সকল রাজনৈতিক দল ও নাগরিক এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সরকারের সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছেন।



