ম্যাকলসফিল্ডের এফএ কাপের পঞ্চম রাউন্ডের ম্যাচে সাম হিথকোটের নিজের গোলের ফলে ব্রেন্টফোর্ড জয়লাভ করে। লিগের শীর্ষে অবস্থানরত ব্র্যান্ডফোর্ডের এই জয় তাদেরকে লন্ডন স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট হ্যামের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ দেয়।
ম্যাকলসফিল্ড এই মৌসুমে এফএ কাপে অপ্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখিয়ে প্রিমিয়ার লিগের শক্তিশালী দলগুলোকে চ্যালেঞ্জ করেছে। পূর্বে তারা ক্রিস্টাল প্যালেসকে পরাজিত করে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে অন্যতম বড় আপসেট তৈরি করেছিল। সেই জয়ের পরেও ম্যাকলসফিল্ডের খেলোয়াড়রা আত্মবিশ্বাসী রয়ে গিয়ে ব্রেন্টফোর্ডের বিরুদ্ধে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।
ব্রেন্টফোর্ড, যাকে প্রায়ই দ্য বীজ বলা হয়, বর্তমানে প্রিমিয়ার লিগে সপ্তম স্থান অধিকার করে। ১৯৯৯ সালে তারা ম্যাকলসফিল্ডের চেয়ে নিম্ন বিভাগে থাকলেও, দুই দশকের পর এখন তারা শীর্ষ স্তরে অবস্থান করছে। জটিল কাজের ব্যাপারে জঁ রোনি, ব্রেন্টফোর্ডের প্রধান কোচ, তার খেলোয়াড়দেরকে বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখতে বলেছেন, বিশেষ করে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপরীতে অর্জিত ঐতিহাসিক জয়ের পর।
ম্যাকলসফিল্ডের কোচ কীথ অ্যান্ড্রুয়েজও ম্যাচের আগে তার দলের প্রতি সম্মান দেখিয়ে বলেছিলেন, লিজিং.কম স্টেডিয়ামের ৪জি পিচে কোনো অজুহাত না দিয়ে খেলতে হবে। তিনি মাইকেল কায়োডে, ভিটালি জ্যানেল্ট এবং ক্যাপ্টেন নাথান কলিন্সকে স্টার্টিং লাইনআপে রাখেন, যা দলের আক্রমণাত্মক পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়।
খেলাটির সূচনা থেকেই ব্রেন্টফোর্ড ধীরগতির পাসের ওপর জোর দেয়, যা কিছুটা হোম ফ্যানদের বিরক্ত করে। দর্শকরা প্রথমার্ধে দলের ধৈর্যপূর্ণ খেলার ওপর তাড়া করে, তবে ম্যাকলসফিল্ডের খেলোয়াড়রা কিছু মুহূর্তে বলকে নিজের হাতে নিয়ে গেমের প্রবাহকে নিজের দিকে টেনে নেয়।
প্রারম্ভিক সুযোগগুলোতে লুক ডাফি শটটি লক্ষ্যভ্রষ্ট করে, যা ব্রেন্টফোর্ডের রক্ষাকারীদের জন্য স্বস্তি এনে দেয়। তবে ম্যাকলসফিল্ডের আক্রমণাত্মক লাইন আপডেটেড ছিল, এবং তারা ধারাবাহিকভাবে ব্রেন্টফোর্ডের ডিফেন্সে চাপ সৃষ্টি করে।
ম্যাচের ৭০তম মিনিটে সাম হিথকোট, যিনি অর্ধেক সময়ের জন্য পি.ই. শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন এবং ষষ্ঠ স্তরে পার্ট-টাইম খেলোয়াড়, নিজেরই পা দিয়ে বলকে গলপোস্টের দিকে পাঠায়। এই নিজের গোলই ব্রেন্টফোর্ডকে এক গোলের সুবিধা দেয় এবং শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণ করে।
গোলের পরেও ম্যাকলসফিল্ডের খেলোয়াড়রা হাল ছাড়েনি। তারা শেষের দিকে সমান স্কোরের জন্য চাপ বাড়িয়ে দেয়, তবে ব্রেন্টফোর্ডের রক্ষণাত্মক ব্যবস্থা শক্তিশালী থাকে এবং অতিরিক্ত গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারে না।
ম্যাচের আগে হোম ফ্যানরা “ওয়েস্ট হ্যাম অ্যাওয়ে” চিৎকার করে লন্ডন স্টেডিয়ামে সম্ভাব্য পরবর্তী ম্যাচের উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছিল। ব্রেন্টফোর্ডের জয় তাদেরকে পঞ্চম রাউন্ডে ওয়েস্ট হ্যামের সঙ্গে মুখোমুখি হতে নিশ্চিত করে, যা ক্লাবের জন্য আর্থিক ও ক্রীড়া দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
সারসংক্ষেপে, সাম হিথকোটের নিজের গোলই ব্রেন্টফোর্ডকে এফএ কাপে পঞ্চম রাউন্ডে অগ্রসর করে এবং ম্যাকলসফিল্ডের রোমাঞ্চকর যাত্রা শেষ করে। তবে ম্যাকলসফিল্ডের পারফরম্যান্স, বিশেষ করে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিরুদ্ধে অর্জিত জয় এবং ব্রেন্টফোর্ডের বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিরোধ, এই মৌসুমে তাদেরকে ক্রীড়া জগতে সম্মানিত করেছে। ভবিষ্যতে ব্রেন্টফোর্ড লন্ডন স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট হ্যামের সঙ্গে ম্যাচ খেলবে, যা ক্লাবের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জের সূচনা হবে।



