বেরলিন চলচ্চিত্র উৎসবের ফোরাম প্রোগ্রামে সম্প্রতি ‘ক্রোকোডাইল’ নামের নথি-চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হয়েছে। এই কাজের পরিচালক পিয়েত্রা ব্রেটকেলি এবং নাইজেরিয়ার একটি তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাণ সমিতি, দ্য ক্রিটিক্স, একসঙ্গে কাজ করেছেন। চলচ্চিত্রটি ১৩ বছরের দীর্ঘ সময়কালে সংগ্রহ করা দৃশ্য ও সাক্ষাৎকারের সমন্বয়ে গঠিত, যা নাইজেরিয়ার কাদুনা শহরের একটি কঠিন পাড়া থেকে উঠে আসা সৃজনশীল দলকে অনুসরণ করে। মোট দৈর্ঘ্য এক ঘণ্টা চুয়াল্লিশ মিনিট, যা আন্তর্জাতিক দর্শকদের সামনে স্থানীয় স্বপ্নের গল্প তুলে ধরেছে।
দ্য ক্রিটিক্স গোষ্ঠী মূলত অপ্রশিক্ষিত লেখক, অভিনেতা, ভিজ্যুয়াল ইফেক্ট শিল্পী, এডিটর এবং প্রযোজক নিয়ে গঠিত। তারা কোনো সরকারি সহায়তা বা বড় বাজেট ছাড়াই নিজেরা শূন্য থেকে শুটিং শুরু করে। পাড়া-প্রতিবেশীর কঠিন পরিবেশ সত্ত্বেও, সদস্যরা স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে স্ক্রিপ্ট লিখে, ক্যামেরা চালিয়ে এবং পোস্ট-প্রোডাকশন কাজ সম্পন্ন করে। এই স্বতন্ত্র পদ্ধতি তাদেরকে স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর গড়ে তুলতে সহায়তা করেছে।
চলচ্চিত্রের শুটিং প্রক্রিয়া ২০১৩ সাল থেকে শুরু হয়ে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। এই সময়কালে দলটি ব্যক্তিগত দুঃখজনক ঘটনা, যেমন পরিবারিক মৃত্যু ও আর্থিক সংকট, পাশাপাশি প্রথম চলচ্চিত্রের সফল মুক্তি ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জনও অভিজ্ঞতা করে। প্রতিটি ধাপে সংগ্রাম ও সাফল্যের মিশ্রণ দলকে আরও দৃঢ় করে তুলেছে। ফলে, ‘ক্রোকোডাইল’ একটি ধারাবাহিকতা পূর্ণ যাত্রার চিত্রায়ণ হিসেবে কাজ করে।
প্রদর্শনীতে দর্শকরা দলটির দৈনন্দিন কাজের দৃশ্য, প্রশিক্ষণ সেশনের রেকর্ড এবং তাদের স্ব-উৎপাদিত চলচ্চিত্রের ক্লিপ দেখতে পায়। পাশাপাশি, কাদুনার শহরের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পটভূমি চলচ্চিত্রে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে, যা স্থানীয় বাস্তবতা বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট সরবরাহ করে। দলটির সদস্যরা কীভাবে সীমিত সম্পদে সৃজনশীলতা বজায় রাখে, তা চলচ্চিত্রের মূল থিমের অংশ। এই উপাদানগুলো একত্রে দর্শকের কাছে স্বচ্ছন্দে উপস্থাপিত হয়েছে।
সমালোচকরা চলচ্চিত্রটির বিষয়বস্তুকে অনুপ্রেরণাদায়ক বলে প্রশংসা করেছেন, তবে বর্ণনামূলক কাঠামোর কিছু অংশে প্রশ্ন তুলেছেন। নির্দিষ্ট কিছু দৃশ্যের সংযোগে স্বচ্ছতা কম থাকায় দর্শককে নিজে থেকেই তথ্য সংযোজন করতে হয়। এই পদ্ধতি সত্যিকারের ভেরি-ট্যাঁর শৈলীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তবে কখনও কখনও অতিরিক্ত স্বতন্ত্রতা দর্শকের মনোযোগকে বিচ্যুত করতে পারে। তবু, সামগ্রিকভাবে চলচ্চিত্রটি স্ব-প্রণোদিত সৃজনশীলতার শক্তি প্রদর্শনে সফল হয়েছে।
কিছু সমালোচক আরও কাঠামোগত নির্দেশনা ও স্পষ্ট ন্যারেটিভের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন, যা গল্পের প্রবাহকে সহজতর করতে পারত। বিশেষ করে, মৌলিক প্রশ্ন ও জটিল বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট না হলে দর্শকের মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে। তবে, দলটির স্ব-প্রকাশের স্বাতন্ত্র্যতা এবং বাস্তবতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়। এই দিকগুলো চলচ্চিত্রকে আলাদা করে তুলেছে।
‘ক্রোকোডাইল’ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র মঞ্চে আফ্রিকান স্বতন্ত্র চলচ্চিত্র নির্মাণের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এটি দেখায় যে সীমিত আর্থিক সহায়তা সত্ত্বেও, স্থানীয় তরুণরা প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সৃজনশীলতা অর্জন করে বিশ্বজনীন গল্প বলতে পারে। একই সঙ্গে, এই কাজটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা পরিচালিত চলচ্চিত্রের তুলনায় মানবিক স্পর্শের গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরে। ভবিষ্যতে স্বতন্ত্র চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য এটি একটি রোল মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ‘ক্রোকোডাইল’ একটি দীর্ঘমেয়াদী সংগ্রামের ফলাফল, যা দৃঢ়তা, কল্পনা এবং আত্মনির্ভরতার গল্পকে তুলে ধরে। যদিও বর্ণনায় কিছু ঘাটতি রয়েছে, তবে এটি দর্শকের কাছে নতুন দৃষ্টিকোণ প্রদান করে এবং স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণের সম্ভাবনা উন্মোচন করে। এই চলচ্চিত্রটি কাদুনার তরুণদের স্বপ্নকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছে দেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে কাজ করবে।



