ভারতের দক্ষিণের কেরালা রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের পূর্বে কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা মণিশঙ্কর আইয়ার একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করে দলকে অভ্যন্তরীণ সংকটে ফেলেছেন। তিনি কংগ্রেসের জয় সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে শীর্ষ নেতাদের উপর তীব্র সমালোচনা চালিয়ে গেছেন। তার এই বক্তব্যের ফলে রাজনৈতিক পরিসরে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে এবং কংগ্রেসের মিডিয়া ও প্রচার বিভাগে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
আইয়ার এক ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন যে, কেরালায় কংগ্রেসের জয় সম্ভাবনা সীমিত, কারণ দলের নেতাদের মধ্যে ঐক্যের অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, কংগ্রেসের নেতারা কমিউনিস্টদের প্রতি যে বিরোধী মনোভাব পোষণ করেন, তার চেয়েও বেশি তারা একে অপরকে ঘৃণা করেন। এই অভ্যন্তরীণ বৈরিতা দলকে ভোটারদের কাছে দুর্বল করে তুলতে পারে, তিনি যুক্তি দেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি শাশি থারুর, জয়রাম রমেশ এবং পবন খেরার মতো শীর্ষ নেতাদের নাম উল্লেখ করে কঠোর সমালোচনা করেন। থারুরকে তিনি ‘পাকিস্তান-বিরোধী’ বলে চিহ্নিত করেন এবং তার পররাষ্ট্র মন্ত্রী হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। রমেশের ক্ষেত্রে তিনি মন্তব্য করেন যে, তাকে নিজের চাকরি রক্ষা করতে হবে, যা দলের অভ্যন্তরীণ চাপের ইঙ্গিত দেয়।
পবন খেরার প্রতি আইয়ার বিশেষভাবে তীব্র মন্তব্য করেন, তাকে ‘পুতুল’ বলে বর্ণনা করে বলেন যে, গত দুই বছর ধরে তিনি আইয়ারকে সমালোচনা করে আসছেন। তিনি দাবি করেন, যদি কংগ্রেস খেরা ছাড়া অন্য কাউকে মুখপাত্র হিসেবে বাছাই না করতে পারে, তবে দলের অবস্থা একই রকম শোচনীয় থাকবে।
আইয়ার স্বীকার করেন যে, তিনি কংগ্রেসের জয় কামনা করেন, তবে দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে নিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী নন। তিনি বলেন, “আমি চাই কংগ্রেস জিতুক, তবে বিশ্বাস করি না যে তারা জিতবে”। এই মন্তব্য কেরালার নির্বাচনী পরিবেশে অতিরিক্ত অনিশ্চয়তা যোগ করেছে।
মণিশঙ্করের মন্তব্যের পর কংগ্রেসের মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান পবন খেরা তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, আইয়ার সঙ্গে কংগ্রেসের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তিনি দলের নীতিতে কোনো প্রভাব ফেলতে পারেন না। খেরা আরও যোগ করেন, দলের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের সমাধান করা জরুরি, না হলে ভোটে পারফরম্যান্স ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
কংগ্রেসের অন্যান্য নেতৃবৃন্দও একই সুরে কথা বলেন। সংসদ সদস্য সুরেশ এবং জয়রাম রমেশ উভয়ই আইয়ারকে দলের সঙ্গে যুক্ত না থাকার কথা পুনর্ব্যক্ত করে কংগ্রেসের ঐক্য বজায় রাখতে আহ্বান জানান। রমেশ উল্লেখ করেন, কেরালায় ভোটাররা ইউডিএফ-জোটকে সমর্থন করতে প্রবণ, যা কংগ্রেসের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেন, আইয়ারের এই প্রকাশনা কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সমস্যাকে উন্মোচিত করেছে এবং নির্বাচনের আগে দলের নেতৃত্বকে পুনর্গঠন করতে চাপ বাড়াবে। যদি দল ঐক্যবদ্ধ না হয়, তবে ইউডিএফ-লিড জোটের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে, কংগ্রেসের যদি দ্রুত সমন্বয় সাধন করে, তবে নির্বাচনে অপ্রত্যাশিত ফলাফলও সম্ভব।
এই পরিস্থিতিতে কেরালার ভোটাররা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে স্পষ্ট যে, মণিশঙ্কর আইয়ারের মন্তব্য কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ গঠন ও নির্বাচনী কৌশলকে পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



