গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের বিজয়ী সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের অতিরিক্ত শপথ গ্রহণ থেকে বিরত থাকার দাবি জানিয়েছে। শপথের সাংবিধানিক ও আইনি বৈধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ফ্রন্টের নেতারা সোমবার একটি বিবৃতি প্রকাশ করেন। তারা সকল নির্বাচিত সংসদ সদস্যকে এই অতিরিক্ত শপথ না নিতে আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমান শপথ প্রক্রিয়া একটি অসাংবিধানিক আদেশের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলাফলকে স্বীকৃতি দেয়, যা ফ্রন্টের দৃষ্টিতে বৈধতা পায় না। শপথের সময়সীমা নির্ধারণ এবং অতিরিক্ত শর্ত আরোপের বিষয়েও তারা শুরু থেকেই বিরোধিতা করে আসছে। তাই, তারা এই প্রক্রিয়ার বৈধতা পুনর্বিবেচনার জন্য সকল সংশ্লিষ্টকে আহ্বান জানিয়েছে।
সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রপতির আদেশ গৃহীত হওয়ার আগে অতিরিক্ত শপথের বৈধতা নিশ্চিত করা কঠিন। বেশ কিছু বিশেষজ্ঞের মতামত অনুসারে, এমন শপথের আইনগত ভিত্তি স্পষ্ট নয় এবং তা সংবিধানের মূল নীতির সঙ্গে বিরোধপূর্ণ হতে পারে। ফলে, ফ্রন্টের দাবি যে অতিরিক্ত শপথ অবৈধ, তা বিশেষজ্ঞদের সমর্থন পেয়েছে।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে সঙ্গে জুলাই মাসে জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ঐ ভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যাগণনা বেশি হওয়ায় সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবের বাস্তবায়নের দায়িত্ব সংবিধান সংস্কার পরিষদের ওপর পড়ে। এই পরিষদের সদস্য হিসেবে ত্রয়োদশ সংসদের নির্বাচিত সদস্যরাই দায়িত্ব পালন করবে।
এজন্য, সংসদ সদস্যদেরকে এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ার পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে আলাদা শপথ নিতে হবে। ফ্রন্টের বিবৃতি এই দ্বৈত শপথের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং এর সাংবিধানিক বৈধতা যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছে। তারা জোর দিয়ে বলেছেন, শপথের বৈধতা না জানলে ভবিষ্যতের সংস্কার কাজকে ঝুঁকির মুখে ফেলা যাবে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সংস্কার প্রক্রিয়াকে ঐকমত্যের ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে হলে সংবিধানের মূল নীতি ও ১৪২ ধারার বিধানকে সম্মান করা জরুরি। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে গৃহীত সংবিধানকে ভিত্তি হিসেবে ধরে ফ্রন্টের মতামত যে, অতিরিক্ত শপথের কোনো প্রয়োজন নেই। সংবিধান সংস্কারের শপথ তখনই প্রয়োজন হয় যখন নতুন সংবিধান গঠন করা হয় বা বিদ্যমান সংবিধান সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর হয়।
ফ্রন্টের নেতারা আরও উল্লেখ করেন, শপথের বিষয়টি যথাযথভাবে বিশ্লেষণ না করলে সংস্কার প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়বে এবং তা দীর্ঘমেয়াদে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তারা দীর্ঘ সময় ধরে ঐকমত্য কমিশনে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা চালিয়ে আসছেন এবং এখন পর্যন্ত কোনো সমঝোতা অর্জন হয়নি। তাই, সংসদ গঠনের পর বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য তারা ত্বরিত আহ্বান জানিয়েছেন।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ সংক্রান্ত এই বিতর্কের ফলে ত্রয়োদশ সংসদ গঠনের পর রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা দেখা দেবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন। অতিরিক্ত শপথের বৈধতা স্পষ্ট না হলে সংশ্লিষ্ট আইন প্রণয়ন ও সংশোধনী প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হতে পারে। ফ্রন্টের এই অবস্থান সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনার নতুন দিক উন্মোচন করবে এবং ভবিষ্যৎ সংস্কার কর্মসূচির দিকনির্দেশনা নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে।



