কুমিল্লা নাঙ্গলকোট পৌরসভার প্রধান প্রবেশদ্বারে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া সম্প্রতি একটি অভিযোগ বাক্স স্থাপন করেছেন। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল স্থানীয় স্তরে চাঁদাবাজি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নাগরিকদের সরাসরি প্রতিবেদন সংগ্রহ করা। বাক্সটি স্থাপনের মাধ্যমে তিনি জনগণকে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার সুযোগ প্রদান করছেন, যাতে সংশ্লিষ্ট নেতাকর্মী বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
অভিযোগ বাক্সে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদি কোনো বিএনপি নেতাকর্মী চাঁদাবাজি বা অনৈতিক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তবে তা লিখিত রূপে জানাতে পারবে। অভিযোগের বিষয়বস্তু নির্দোষ বা দোষী প্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। এই পদ্ধতি নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়িয়ে তুলতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া মন্তব্যে জানান, “আমি এই এলাকায় একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে চাই। যে কেউ অপকর্ম করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, অভিযোগ বাক্সের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য দ্রুত তদন্তের আওতায় আনা হবে এবং প্রয়োজনীয় শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
স্থানীয় জনগণ এবং সামাজিক মাধ্যমে এই পদক্ষেপকে ইতিবাচকভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে। ফেসবুকে এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “এটি বাস্তবায়ন হলে আসনের মানুষ শান্তিতে থাকবে।” অন্য একটি মন্তব্যে বলা হয়েছে, “এই উদ্যোগের মাধ্যমে এলাকার মানুষ নিরাপদ ও স্বচ্ছ পরিবেশে বসবাস করতে পারবে।” বিভিন্ন সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে একই রকম সমর্থনমূলক মন্তব্য দেখা যাচ্ছে।
বিএনপি পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় পর্যায়ে কিছু নেতার কাছ থেকে এই উদ্যোগের প্রতি সংশয় প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে প্রকাশিত হতে পারে।
অভিযোগ বাক্সের স্থাপন স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে অভিযোগ গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজতর করা হয়েছে। নাগরিকরা লিখিত অভিযোগের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় প্রমাণাদি সংযুক্ত করে জমা দিতে পারবেন, যা তদন্তের গতি বাড়াবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া উল্লেখ করেছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, এই ধরনের সরাসরি নাগরিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজনৈতিক দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি দমন করা সম্ভব হবে।
এই উদ্যোগটি স্থানীয় পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একটি নতুন মডেল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নাগরিকদের সরাসরি অভিযোগের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হলে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্নীতির পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযোগ বাক্সে জমা হওয়া অভিযোগগুলো প্রথমে পৌরসভার নথিভুক্তি বিভাগে রেকর্ড করা হবে, তারপর প্রয়োজনীয় তদন্ত বিভাগে প্রেরণ করা হবে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী আইনসঙ্গত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালত বা প্রশাসনিক সংস্থাকে অবহিত করা হবে।
মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া ভবিষ্যতে এই ধরনের নাগরিক-ভিত্তিক উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। তিনি আশাবাদী যে, এই ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহার করে স্থানীয় জনগণ তাদের অধিকার রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারবে এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে।
সারসংক্ষেপে, নাঙ্গলকোটে স্থাপিত অভিযোগ বাক্সটি চাঁদাবাজি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে একটি প্রাথমিক প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করবে। নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে এই উদ্যোগের সাফল্য নির্ধারিত হবে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত করে তুলতে সহায়তা করবে।



