20 C
Dhaka
Tuesday, February 17, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিভেনেজুয়েলা সরকারের বাকি রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির জন্য বাড়ছে চাপ

ভেনেজুয়েলা সরকারের বাকি রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তির জন্য বাড়ছে চাপ

ভেনেজুয়েলা সরকারের অস্থায়ী নেতৃত্বের ওপর রাজনৈতিক বন্দীদের অবশিষ্ট সংখ্যাকে মুক্তি দিতে বাড়তে থাকা চাপে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি তীব্রতর হয়েছে। ফরো পেনাল নামে একটি মানবাধিকার সংগঠন রোববার জানিয়েছে, মার্কিন সরকার নিকোলাস মাদুরোকে গত মাসে গ্রেপ্তার করার পর থেকে ৪৪৪ জন রাজনৈতিক বন্দী মুক্তি পেয়েছেন। তবে একই সংগঠন অনুসারে, এখনও শত শত বন্দি কারাগারে আটকে আছে, যদিও মার্কিন সরকার ভেনেজুয়েলা সরকারের ওপর মুক্তির গতি ত্বরান্বিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

ফরো পেনাল কর্তৃক সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী, নিকোলাস মাদুরোর গ্রেপ্তার পর থেকে ৪৪৪ জন রাজনৈতিক বন্দী রিলিজ হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। তবুও সংগঠনটি জোর দিয়ে বলেছে, মুক্তি পাওয়া বন্দিদের সংখ্যা মোট বন্দীর তুলনায় ক্ষুদ্র, এবং বাকি বন্দিদের অবস্থার ওপর এখনো কোনো স্বচ্ছতা দেখা যায় না। এই পরিস্থিতিতে মানবাধিকার কর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছেন, বন্দি পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্য অবনতির শিকার হচ্ছে।

বন্দি পরিবারের কিছু সদস্যের ক্ষুধা ধর্মের কারণে স্বাস্থ্যের অবনতি দ্রুত ঘটছে বলে প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। ক্যারাকাসের জোনা ৭ আটক কেন্দ্রে এক আত্মীয়ের অচেতন অবস্থায় অন্যদের দ্বারা সহায়তা করা হচ্ছে এমন দৃশ্য বিক্রয় করা হয়েছে, যা ভেনেজুয়েলা সরকারের বিরোধী দল ভেন্টে ভেনেজুয়েলা প্রকাশ করেছে। এই ভিডিওতে দেখা যায়, পরিবার সদস্যরা বন্দিদের মুক্তির জন্য দমবন্ধে প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন।

ফরো পেনালের তথ্য অনুযায়ী, শনিবারে দশজন ব্যক্তি ক্ষুধা ধর্মে লিপ্ত হয়ে জোনা ৭-এ আটক তাদের আত্মীয়দের মুক্তি দাবি করে প্রতিবাদ শুরু করেন। তারা ৮ জানুয়ারি থেকে জোনা ৭ পুলিশ আটক কেন্দ্রের বাইরে শিবির স্থাপন করে আসছেন, যখন ভেনেজুয়েলা জাতীয় পরিষদের প্রধান জর্জ রড্রিগেজ ঘোষণা করেছিলেন, “গুডউইল গেস্টার” হিসেবে একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বন্দী মুক্তি দেওয়া হবে, যা অস্থায়ী সরকারের শান্তি অনুসন্ধানের ইচ্ছা প্রকাশ করে।

মার্কিন সরকার ভেনেজুয়েলা সরকারের বর্তমান অগ্রগতিকে প্রশংসা করলেও, দেশের মানবাধিকার কর্মীরা মুক্তির প্রক্রিয়ায় বিলম্ব ও স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ তুলছেন। তারা দাবি করছেন, মুক্তি পাওয়া বন্দিদের প্রকাশ্যভাবে কথা বলার স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ রাখা হচ্ছে, যা সত্যিকারের মুক্তি নয়।

বিরোধী দলের সদস্যরা বিশেষ করে রাজনীতিবিদ হুয়ান পাব্লো গুইনাপার কেসকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। গুইনাপা ৮ ফেব্রুয়ারি আট মাসের কারাবাসের পর মুক্তি পেয়েছিলেন, তবে কয়েক ঘণ্টা পরই শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে আবার গ্রেপ্তার হন এবং বাড়িতে নির্যাতনমূলক হাউস আরেস্টে রাখা হয়। এই ঘটনা মুক্তি পাওয়া বন্দিদের বাস্তব স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার একটি স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

অবশিষ্ট রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি না হওয়া ভেনেজুয়েলা সরকারের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অস্থায়ী সরকারকে স্বচ্ছতা ও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, নতুবা দেশীয় অস্থিরতা বাড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা হ্রাস পেতে পারে। ভবিষ্যতে মুক্তি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি, শর্তাবলী ও মুক্ত বন্দিদের অধিকার সংক্রান্ত স্পষ্ট নীতি গঠন করা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন।

বন্দি পরিবারের ক্ষুধা ধর্ম, স্বাস্থ্য অবনতি এবং মুক্তি পাওয়া বন্দিদের ওপর আরোপিত সীমাবদ্ধতা একসাথে ভেনেজুয়েলা সরকারের মানবাধিকার রেকর্ডের উপর চাপ বাড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও মার্কিন সরকারের সমর্থন সত্ত্বেও, অস্থায়ী সরকারকে দ্রুত ও স্বচ্ছভাবে বাকি রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সুনাম রক্ষা পায়।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments