লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় বুরিমারী ইউনিয়নের আলিমুদ্দিন চাবুর উদ্দিন গার্লস হাই স্কুলে ঘটিত স্টকিং ঘটনার পর আজ মোবাইল কোর্ট রানা ইসলাম, ২৩ বছর বয়সী,কে চার মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছে। উপ-নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর হোসেনের তত্ত্বাবধানে এই রায় শোনানো হয়।
মোবাইল কোর্টের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রানা ইসলাম হাদিসপুরা এলাকায় বসবাসকারী এবং পাটগ্রাম উপজেলার বুরিমারী ইউনিয়নের অধিবাসী। তিনি স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাছে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হন এবং এই রায়ের মাধ্যমে তার অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঘটনার সময়, দুপুর ১২টার দিকে, আলিমুদ্দিন চাবুর উদ্দিন গার্লস হাই স্কুলে ক্লাস চলছিল। রানা ইসলাম স্কুলের প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে একটি মেয়ের প্রতি আপত্তিকর মন্তব্য করতে শুরু করেন। তার আচরণটি তৎক্ষণাৎ শিক্ষকদের দৃষ্টিগোচর হয় এবং তারা অবিলম্বে পুলিশ ও উপ-নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানায়।
স্কুল কর্তৃপক্ষের জানাতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রানা ইসলাম পূর্বে বহুবার একই শিক্ষার্থীর ওপর অনধিকারী আচরণ করে আসছিল। মেয়ের পিতা স্থানীয় প্রশাসনে অভিযোগ দাখিল করলেও তৎকালীন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে অপরাধী সাহস করে স্কুলে ফিরে এসে তার স্টকিং চালিয়ে যায়।
পুলিশের জানানো মতে, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উপ-নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশ现场 গিয়ে মোবাইল কোর্টের আয়োজন করে। কোর্টে রানা ইসলামের বিরুদ্ধে স্টকিং, আপত্তিকর মন্তব্য এবং শিক্ষার্থীর ওপর ধারাবাহিক হেনস্থা করার অভিযোগ প্রমাণিত হয়।
উপ-নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেন উল্লেখ করেন, রানা ইসলাম দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষার্থীর ওপর অনধিকারী আচরণ চালিয়ে আসছিল এবং তার এই কর্মকাণ্ডের ফলে শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়েছে। তিনি বলেন, এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর শাস্তি প্রয়োগ করা জরুরি।
মোবাইল কোর্ট রায়ে রানা ইসলামের শাস্তি হিসেবে চার মাসের কারাদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তাকে অপরাধের রেকর্ডে যুক্ত করা হবে। রায়ের সঙ্গে সঙ্গে তাকে জরিমানা আরোপের সম্ভাবনা ও আপিলের অধিকারও জানানো হয়েছে। রানা ইসলামকে শাস্তি সম্পন্ন করার পর সংশ্লিষ্ট পুলিশ স্টেশন তার আচরণ পর্যবেক্ষণ করবে।
এই রায়ের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার স্টকিং ও হেনস্তা সম্পর্কিত অপরাধের প্রতি শূন্য সহনশীলতা প্রকাশ পেয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে স্কুল, পরিবার এবং আইনগত সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন হবে।



