20 C
Dhaka
Tuesday, February 17, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিমামুনুল হক বায়তুল মোকাররমে নির্বাচনের পরের প্রতিবাদে ফ্যাসিবাদের নিন্দা করেন

মামুনুল হক বায়তুল মোকাররমে নির্বাচনের পরের প্রতিবাদে ফ্যাসিবাদের নিন্দা করেন

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে সোমবার একটি বৃহৎ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক উপস্থিত হয়ে নির্বাচনের পরের রাজনৈতিক অশান্তি ও ভোটার অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে কথা বলেন।

প্রদর্শনীটি জামায়াত-এ-ইসলামি নেতৃত্বাধীন একারো দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে সংগঠিত হয়। সমাবেশের মূল দাবি হল নির্বাচনের পর দেশজুড়ে নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুটপাটের বিরোধিতা করা।

মামুনুল হক সমাবেশে বলেন, “আমরা আশা করেছিলাম জনগণ ব্যালটের অধিকার ফিরে পাবে। কিন্তু জনগণের সাথে নির্মম তামাশা করা হয়েছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “সারাদিন শান্তিপূর্ণ ভোটের পর টার্গেটকৃত প্রার্থীদের সংসদে যাওয়া ঠেকাতে ডিপস্টেট ইঞ্জিনিয়ারিং করেছে।” এই মন্তব্যগুলো নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিরোধী দলের হতাশা ও অভিযোগকে প্রকাশ করে।

বক্তা নির্বাচনের পরের পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করে বলেন, “এই নির্বাচনের পর সারাদেশে পৈশাচিকতা হয়েছে। নারীদের নিপীড়ন, বাড়িঘর জ্বালানোর মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ ফেরানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু জনগণ ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ করবে। যারা ফ্যাসিবাদের পথ তৈরি করবে তারাই সে পথে দিল্লিতে পালাবে।” তার এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে ফ্যাসিবাদী প্রবণতার প্রতি তীব্র নিন্দা হিসেবে ধরা পড়েছে।

সমাবেশে জামায়াত-এ-ইসলামির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার, কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ও পটুয়াখালী-২ আসনের নবনির্বাচিত এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ, এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, ঢাকা ১২ আসন থেকে নির্বাচিত ও জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন, কর্নেল অলি আহমেদের ছেলে ও এলডিপি নেতা ওমর ফারুক, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এবং জাগপার সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ বহু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বক্তব্য রাখেন।

বক্তাদের বক্তব্যে নির্বাচনের পরের রাজনৈতিক হিংসা, নারীর নিরাপত্তা হুমকি এবং সম্পত্তি ধ্বংসের অভিযোগ পুনরায় উত্থাপিত হয়। সমাবেশের অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণ রেলায় প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানায় এবং নির্বাচনের ফলাফলকে বৈধতা না দিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা দাবি করে।

বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, এই ধরনের বৃহৎ প্রতিবাদ সমাবেশ নির্বাচনের পরের রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে এবং সরকারকে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে বাধ্য করতে পারে। একই সঙ্গে, জামায়াত-এ-ইসলামি ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতৃত্বাধীন দলগুলোকে নির্বাচনের ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য জনমত গঠন করতে হবে।

প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী দলগুলো ভবিষ্যতে আইনসভার সেশনের সময় তাদের দাবিগুলোকে পার্লামেন্টে তুলে ধরার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এছাড়া, তারা নির্বাচনের পরের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দুর্নীতির তদন্তের জন্য স্বতন্ত্র কমিটি গঠনের দাবি করে।

এই সমাবেশের পরবর্তী ধাপ হিসেবে, রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা প্রস্তাব করতে পারে। সরকারও নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং রাজনৈতিক হিংসা রোধে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণের সংকেত দিয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত এই প্রতিবাদ সমাবেশ দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে এক নতুন মোড়ের সূচনা নির্দেশ করে, যেখানে বিভিন্ন দল একত্রে নির্বাচনের পরের অবিচার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সশক্ত প্রতিবাদ গঠন করেছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডি প্রতিদিন
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments