20 C
Dhaka
Tuesday, February 17, 2026
Google search engine
Homeব্যবসাডিসেম্বর ২০২৫-এ ঢাকা বিভাগে প্রায় অর্ধেক রেমিট্যান্স প্রবাহ

ডিসেম্বর ২০২৫-এ ঢাকা বিভাগে প্রায় অর্ধেক রেমিট্যান্স প্রবাহ

ডিসেম্বর ২০২৫-এ ঢাকা বিভাগে রেমিট্যান্সের প্রবাহ সর্বোচ্চ রেকর্ড করেছে, মোট প্রাপ্তি $১.৬ বিলিয়ন, যা দেশের মোট রেমিট্যান্সের ৪৯.৯৩ শতাংশ। এই পরিমাণ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভকে শক্তিশালী করে এবং লক্ষ লক্ষ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে।

দ্বিতীয় স্থানে চট্টগ্রাম বিভাগ রয়ে গেছে, যেখানে $৯৫৮.৪৫ মিলিয়ন রেমিট্যান্স প্রবাহিত হয়েছে, যা মোটের ২৯.৭৩ শতাংশ। তৃতীয় স্থান দখল করেছে সিলেট বিভাগ, যার রেমিট্যান্স $২৬৭.৬৩ মিলিয়ন, অর্থাৎ ৮.৩০ শতাংশ। এই তিনটি বিভাগই দেশের রেমিট্যান্সের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক তার মাসিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবেশে, মুদ্রাস্ফীতি, বিনিময় হারের ওঠানামা এবং উচ্চ আমদানি খরচের প্রেক্ষাপটে রেমিট্যান্স বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভকে দৃঢ় করে এবং দেশের বহু গৃহস্থালিকে আর্থিক স্বস্তি প্রদান করছে।

জেলা পর্যায়ের তথ্য দেখায়, ঢাকা জেলা সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স পেয়েছে $১.১৫ বিলিয়ন। এর পর চট্টগ্রাম জেলা $৩৬০.৫৬ মিলিয়ন, কুমিল্লা জেলা $১৮১.৮৯ মিলিয়ন এবং সিলেট জেলা $১৪৬.০২ মিলিয়ন রেমিট্যান্স গ্রহণ করেছে। এই পরিসংখ্যানগুলো রেমিট্যান্সের ভৌগোলিক বিতরণকে স্পষ্টভাবে চিত্রিত করে।

রেমিট্যান্সের মূল উৎস দেশ হিসেবে সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত শীর্ষে রয়েছে, যথাক্রমে $৪৮৯.৪১ মিলিয়ন ও $৪৭৬.০৪ মিলিয়ন রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে। তৃতীয় স্থান দখল করেছে যুক্তরাজ্য, যার অবদান $৪০৪.২১ মিলিয়ন। এই তিনটি দেশই বাংলাদেশের কর্মসংস্থান বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ডিসেম্বর ২০২৫-এ মোট রেমিট্যান্স $৩,২২৩.৬৭ মিলিয়ন পৌঁছেছে, যা পূর্ববর্তী বছরের একই মাসের তুলনায় ২২.১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবাহকে নির্দেশ করে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

বিউরো অফ ম্যানপাওয়ার, এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ট্রেনিং (BMET) অনুযায়ী, ১৯৭৬ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত মোট ১৮.০৭ মিলিয়ন মানুষ বিদেশে কাজের লাইসেন্স পেয়েছে। এই বৃহৎ কর্মশক্তি রেমিট্যান্সের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়কে সমর্থন করে।

রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি, দেশের গৃহস্থালির ক্রয়ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে মুদ্রাস্ফীতি ও মুদ্রা হারের অস্থিরতা বৃদ্ধির সময়ে এই আর্থিক প্রবাহ গৃহস্থালির ব্যয়ভার কমাতে সহায়তা করে।

বিদেশে কর্মসংস্থান দেশের দারিদ্র্য ও বেকারত্ব কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রেমিট্যান্সের মাধ্যমে প্রাপ্ত আয় গৃহস্থালির দৈনন্দিন ব্যয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে ব্যবহার হয়, যা সামাজিক উন্নয়নের সূচককে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।

বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই থেকে ডিসেম্বর) রেমিট্যান্সের প্রবাহ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আর্থিক নীতি নির্ধারকদের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। তবে মুদ্রাস্ফীতি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা রেমিট্যান্সের প্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে, তাই নীতিনির্ধারকদের সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

সারসংক্ষেপে, ডিসেম্বর ২০২৫-এ ঢাকা বিভাগে রেমিট্যান্সের প্রবাহ প্রায় অর্ধেকের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ ও গৃহস্থালির আর্থিক স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক বৃদ্ধি এবং বিদেশি কর্মসংস্থানের বিস্তৃতি ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
ব্যবসা প্রতিবেদক
ব্যবসা প্রতিবেদক
AI-powered ব্যবসা content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments