পাকিস্তান ক্রিকেট দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ১১৪ রানে গুটিয়ে ৬১ রানের বড় ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার পর, সাবেক পেসার মোহাম্মদ আমির দল নির্বাচনের ওপর তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, মূল পেসিং অলরাউন্ডার ফাহিম আশরাফকে এখন পর্যন্ত একটিও ওভার না দিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে না, আর ব্যাটিংয়ের সুযোগও যথেষ্ট না হওয়ায় তাকে একাদশে রাখা যৌক্তিকতা হারিয়ে গেছে।
কোলম্বোর জিও নিউজের বিশেষ অনুষ্ঠানে আমির বলেন, “ফাহিমকে এখন ফিল্ডিং অলরাউন্ডার বানিয়ে ফেলেছেন। তাকে না বোলিং দেওয়া হচ্ছে, না পর্যাপ্ত ব্যাটিং সুযোগ, তাহলে তার উপস্থিতি কী উদ্দেশ্য? যদি বোলিং না করা হয়, তবে অন্য ব্যাটারই খেলতে পারত।” তিনি দলের প্রধান নির্বাচক আকিব জাভেদ এবং প্রধান কোচ মাইক হেসনের সিদ্ধান্তের ওপরও সন্দেহ প্রকাশ করেন।
ফাহিমের টি-টোয়েন্টি রেকর্ডে তিনি পাকিস্তান ক্রিকেট দলের হয়ে ৭৩ ম্যাচে ৬১টি উইকেট নিয়েছেন, এবং স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে মোট ২৫৯টি উইকেট রয়েছে। চারবার পাঁচটি উইকেট এবং পাঁচবার চারটি উইকেট নেওয়ার কীর্তি তার ক্যারিয়ারে রয়েছে। তবুও বর্তমান বিশ্বকাপে তার কোনো বোলিং সুযোগই না দেওয়া হয়েছে।
ব্যাটিংয়ে ফাহিমের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তিনি আট নম্বরে ত্রাতা ছিলেন এবং ১১ বলে ২৯ রান করে তিনটি চৌরাসি ও দুইটি ছক্কা মারেন, ফলে পাকিস্তানকে জয়ী করে এবং ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের উপাধি পান। তবে পরের দুই ম্যাচে তার ভূমিকা সীমিত রইল; যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে সাত নম্বরে নেমে মাত্র দুই বলে এক রান, আর ভারতের বিপক্ষে আবার আট নম্বরে নেমে ১৪ বলে দশ রান সংগ্রহ করেন।
অতিরিক্তভাবে, আমির পাকিস্তান ক্রিকেট দলের প্রধান পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদির পারফরম্যান্সকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছেন। তিনি ভারতের বিপক্ষে দুই ওভারে ৩১ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৪২ রান দিয়ে একটি উইকেট এবং নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২৮ রান দিয়ে একটি শিকার ধরেন। আমিরের মতে, আফ্রিদি দীর্ঘ সময় ধরে প্রত্যাশিত প্রভাব দেখাতে পারেনি এবং তার পরিবর্তে বাঁহাতি পেসার সালমান মির্জাকে সুযোগ দেওয়া উচিত, যিনি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২৪ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নিয়েছেন।
এই সমালোচনা পাকিস্তান ক্রিকেট দলের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, বিশেষত একাদশে ফিল্ডিং দক্ষতা ছাড়া পেসারদের ব্যবহার এবং নির্বাচক-প্রশিক্ষকের সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা। পরবর্তী ম্যাচে পাকিস্তানকে কীভাবে দল গঠন করবে এবং ফাহিম আশরাফের ভূমিকা কী হবে, তা শীঘ্রই স্পষ্ট হবে।
পাকিস্তান ক্রিকেট দল আগামী সপ্তাহে গ্রুপের পরবর্তী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে, যেখানে নির্বাচনের পুনর্বিবেচনা এবং কৌশলগত পরিবর্তনগুলো দলের পারফরম্যান্সে সরাসরি প্রভাব ফেলবে।



