চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পথে চলমান মহানগর এক্সপ্রেসের একটি কোচ আজ বিকেল প্রায় ৩:২৫ টায় নাঙ্গালকোট উপজেলা, কুমিল্লার নাঙ্গালকোট ও হাসানপুর স্টেশনের মাঝখানে ডেরেইল হয়েছে। দুর্ঘটনায় কোনো আহত বা মৃতের খবর পাওয়া যায়নি। ডেরেইল হওয়ায় ঢাকা‑মুখী আপলাইন ট্রেন চলাচল অবিলম্বে স্থগিত করা হয়েছে।
মহানগর এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে রওনা হয়ে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। ডেরেইল হওয়া অংশটি নাঙ্গালকোট ও হাসানপুর স্টেশনের মধ্যে, যেখানে ট্রেনটি মাঝপথে এক কোচের ব্যালাস্ট বিচ্যুত হয়ে রেলপথ থেকে বেরিয়ে আসে।
নাঙ্গালকোট রেলওয়ে স্টেশন স্টেশন ম্যানেজার জানান, ডেরেইলটি মাঝপথে ঘটেছে এবং তৎক্ষণাৎ কোনো আহত ঘটেনি। স্টেশন কর্মীরা ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ডেরেইল ঘটনার পর ঢাকা‑মুখী আপলাইন ট্রেনের চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হয়, তবে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম দিকে চলমান ডাউনলাইন ট্রেনগুলো স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে। এই ব্যবস্থা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে লাকসাম রেলওয়ে জংশন থেকে একটি রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পাঠায়। রিলিফ ট্রেনের মাধ্যমে ডেরেইল হওয়া কোচের মেরামত ও পরিষ্কার কাজ দ্রুততর করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
রেসকিউ দল তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং লাকসাম রেলওয়ে জংশন থেকে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত আরেকটি রিলিফ ট্রেন পাঠানো হয়। এই ট্রেনগুলো ডেরেইল কোচের পুনরুদ্ধার ও রেলপথের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার কাজ করে।
লাকসাম রেলওয়ে জংশনের মেকানিক্যাল ইন-চার্জ জানান, রেসকিউ টিম দ্রুত কাজ শুরু করেছে এবং অতিরিক্ত রিলিফ ট্রেনের মাধ্যমে ডেরেইল কোচের পুনরুদ্ধার দ্রুততর করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, রেলওয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
লাকসাম রেলওয়ে পুলিশ স্টেশনের অফিসার‑ইন‑চার্জও জানান, উদ্ধার কাজ চলমান এবং ডেরেইল কোচ পরিষ্কার হলে আপলাইন ট্রেনের চলাচল শীঘ্রই পুনরায় শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণের জন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে চলার আহ্বান জানান।
ডেরেইলের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি। বাংলাদেশ রেলওয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং ফলাফল জানার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আজ সন্ধ্যা ৮ টা পর্যন্ত আপলাইন ট্রেনের চলাচল এখনও বন্ধ রয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছে এবং পরিস্থিতি উন্নত হলে ট্রেন চালু হবে বলে জানাচ্ছে।
এই ধরনের দুর্ঘটনা রেলপথের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের গুরুত্বকে আবারও তুলে ধরে। নাঙ্গালকোট ও আশেপাশের অঞ্চল থেকে বহু যাত্রী দৈনন্দিনভাবে এই রুটে ভ্রমণ করেন, তাই ট্রেন চলাচলের পুনরায় শুরু হওয়া তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। যাত্রীরা রেলওয়ের অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করে সর্বশেষ তথ্য জানার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।



