ফ্রান্সের লিগ ১-এ লেন্স ক্লাব ৫-০ স্কোরে প্যারিস এফসি-কে পরাজিত করে শীর্ষে উঠে এসেছে। পিয়ের সেজের তত্ত্বাবধানে দলটি এই জয় অর্জন করেছে, তবে কোচ এখনও নেমে যাওয়া ঝুঁকি থেকে বাঁচার কথা জোর দিয়ে বলছেন।
একই সপ্তাহে মার্সেই দল প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইনের কাছে ৫-০ পরাজিত হয়। এই বড় পরাজয়ের পর তাদের প্রধান কোচ পদত্যাগ করেন, যা ক্লাবের জন্য অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
লেন্সের জয়কে তাড়া করে প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইনের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে তীব্র পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। গত সাপ্তাহিকান্তে রেনেসের বিরুদ্ধে ৩-১ হারে দলটি প্রথমবারের মতো হারের মুখোমুখি হয়েছে, যখন রেনেসের কোচের পদ খালি ছিল।
গত মৌসুমে প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইন এপ্রিলে পর্যন্ত কোনো পরাজয় না পেয়ে শিরোপা নিশ্চিত করেছিল। লুইস এনরিকের অধীনে দলটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী অবস্থায় ছিল, তবে এই মৌসুমে একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারছে না।
রেনেসের জয়কে সম্ভব করে তুলেছে লেন্সের রক্ষণাত্মক গ্যাপগুলোকে কাজে লাগানো। নুনো মেন্ডেসের পেছনে অতিরিক্ত জায়গা তৈরি হয়, যা রেনেসের দ্রুত আক্রমণকে সুবিধা দেয়।
ইলিয়া জাবার্নি, যিনি বোর্নমাউথ থেকে স্থানান্তরিত হয়ে লেন্সে যোগ দিয়েছেন, তার ভুলগুলো রেনেসের প্রথম গোলের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। তার অবস্থানগত ত্রুটি রক্ষার দায়িত্বে বড় ফাঁক তৈরি করেছে।
বিগত মৌসুমে অপরাজেয় ছিলেন উইলিয়ান পাচো, তবে সাম্প্রতিক ম্যাচে তার পারফরম্যান্সে পতন দেখা গেছে। রেনেসের প্রথম গোলের দায়িত্ব তার ওপর আরোপ করা হয়েছে, আর তৃতীয় গোলের সময় তিনি প্যাসে নিষ্ক্রিয় ছিলেন।
দলীয় আত্মবিশ্বাসের অভাবের পাশাপাশি প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইনের কিছু খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত স্বার্থের প্রতি মনোযোগের অভিযোগও উঠেছে। ওসমান ডেম্বেলের মুখে এই বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
ডেম্বেলে জোর দিয়ে বলেছেন, “আমাদের প্রথমে ক্লাবের জন্য খেলতে হবে, না হলে ফলাফল মিলবে না। গত বছর আমরা ক্লাবকে সবকিছুর উপরে রাখতাম, এখন আবার তা পুনরায় খুঁজে বের করতে হবে।” তিনি দলের সমন্বয় ও ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
এক সপ্তাহ আগে ডেম্বেলে প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইন “ফিরে এসেছে” এমন মন্তব্য করে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। এখন তার উক্তি ও বাস্তব পারফরম্যান্সের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ভক্তদের মধ্যে আলোচনার বিষয়।
লেন্সের ক্ষেত্রে, পিয়ের সেজের দল শৃঙ্খলাবদ্ধ আক্রমণ ও রক্ষণে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইনের সমস্যার বিপরীতে লেন্সের খেলোয়াড়রা সমন্বিতভাবে কাজ করে শিরোপা জয়ের স্বপ্নকে জীবিত রেখেছে।
লিগের বাকি অংশে লেন্স শীর্ষে অবস্থান বজায় রাখতে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে, তবে বর্তমান ফর্ম তাকে শিরোপা প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে শক্তিশালী অবস্থানে রাখে। প্যারিস সেইন্ট-জার্মেইনের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া এখনও চলমান, তাই শিরোপা রেসের চূড়ান্ত ফলাফল অনিশ্চিত রয়ে গেছে।



