রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় ধানের শীষ প্রতীকের সিলমারা দুটি ব্যালট ও চারটি গণভোটের ব্যালট উদ্ধার করা হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন। দাবি জানিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর তিনি বাসিন্দাদের দ্বারা অবরুদ্ধ হন এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে আটক থাকেন। বিকেলের দিকে পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি নেতার সহায়তায় ইউএনওকে মুক্ত করা হলেও তার গাড়ি ভাঙচুরের শিকার হয়।
সোমবার সকালে হাসারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, যা রংপুর-৬ আসনের ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়, থেকে দুইটি সিলমারা ব্যালট ও চারটি গণভোটের ব্যালট উদ্ধার করা হয়েছে বলে স্থানীয় লোকজন দাবি করেন। বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী এই ব্যালট পেয়েছেন বলে জানানো হয়, ফলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
উল্লেখিত সময়ে ইউএনও পপি খাতুন ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং তিনি ভোট কারচুপির সন্দেহ তুলে তদন্তের জন্য উপস্থিত হন। তবে উপস্থিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে বাসিন্দারা বাধা দেন এবং গেটের বাইরে আটকে রাখেন। এই সময়ে তিনি ব্যালটের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন।
প্রায় একঘণ্টা ত্রিশ মিনিট পর পুলিশ ও স্থানীয় বিএনপি নেতার হস্তক্ষেপে পপি খাতুনকে ঘটনাস্থল থেকে বের করা হয়। তবে বের হওয়ার মুহূর্তে তার গাড়ি ভাঙচুরের শিকার হয়; গাড়ির দরজা ভেঙে ফেলা এবং গ্লাস ভাঙা দেখা যায়। গাড়ির ক্ষতি নিয়ে তিনি স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানান।
পপি খাতুনের মতে, তিনি মূলত ব্যালটের প্রাথমিক যাচাই ও জব্দের জন্য গিয়েছিলেন। জব্দের প্রক্রিয়ায় প্রশ্নোত্তর এবং জব্দ তালিকা তৈরি করা প্রয়োজন, তবে সেখানে উপস্থিত মব (মোব) হিংসা করে তার কাজ বাধা দেয়। তিনি বলেন, মবের হুমকি এবং গাড়ি ধ্বংসের মাধ্যমে তাকে রাষ্ট্রীয় কাজ থেকে বিরত রাখতে চেয়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা ফজলু মিয়া জানান, বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী সিলমারা ব্যালট পেয়েছেন এবং তা দেখার পর তারা ইউএনওকে জানিয়ে অবরুদ্ধ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাসিন্দারা ব্যালটের অবৈধ ব্যবহার রোধে তৎপর ছিলেন এবং ইউএনওকে প্রশ্ন করে বাধা দেন।
পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিরা ব্যালটের সত্যতা এখনও নিশ্চিত করতে পারেননি। সংরক্ষিত ব্যালটের সঙ্গে তুলনা করার সুযোগ না থাকায় তারা বলছেন, সিলমারা ও গণভোটের ব্যালটের মিল আছে কিনা তা যাচাই করা কঠিন।
ইউএনও আরও জানান, ব্যালটের প্রকৃততা নির্ধারণের জন্য现场ে সরাসরি তুলনা করা সম্ভব হয়নি, ফলে তারা এখনো নিশ্চিত করতে পারছেন না যে উদ্ধার করা ব্যালটগুলো আসল নাকি নকল।
এই ঘটনার ফলে রংপুর-৬ আসনের নির্বাচনী পরিবেশে উত্তেজনা বাড়ছে। স্থানীয় বিএনপি নেতার সহায়তায় ইউএনওকে মুক্ত করা হলেও গাড়ি ধ্বংসের ঘটনা নিরাপত্তা উদ্বেগকে তীব্র করে তুলেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে মতবিরোধের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।
নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ বিষয়টি তদন্তের কথা জানিয়েছে এবং ব্যালটের প্রামাণিকতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ধরনের ঘটনা রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার আহ্বানও করা হয়েছে।



